নাবিলার আয়নাবাজি

“ছবির শুটিংয়ের শেষ দিকে চঞ্চল ভাইয়া আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাকে কোনো সাংবাদিক যদি প্রশ্ন করে, আমার সঙ্গে তোমার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? তুমি আমার সম্পর্কে কী বলবে?’ তাঁর প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছিলাম—বলব, আপনি অসম্ভব ভালো একজন মানুষ।” কথাগুলো বলছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপক নাবিলা। সাবলীল উপস্থাপনা দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করছেন তিনি। কাজ করেছেন অমিতাভ রেজা পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রে। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ের খাতায় নাম লিখেছেন তিনি। এখানে চঞ্চল চৌধুরীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন নাবিলা।

গণমাধ্যমে সব সময় নাবিলা বলেছেন, অভিনয় তাঁকে দিয়ে সম্ভব নয়। তাহলে কেন অভিনয়ে? প্রশ্ন শুনে নাবিলা বলেন, “২০১৩ সালে আমি নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানকার হলে বসে একটা ছবি দেখি। ছবিটা দেখার পর আমার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। কী ছবি দেখেছি, দর্শককে এটা এখন জানাতে চাই না। তবে এতটুকু বলব, এর পর থেকে আমার ইচ্ছা হয়েছিল অভিনয় করার, তবে সেটা নাটকে নয়। মনে মনে স্থির করেছিলাম, ভালো গল্পের চলচ্চিত্রের প্রস্তাব পেলে অভিনয় করব। অমিতাভ ভাইয়া অনেক ভালো পরিচালক ও ভালো মনের মানুষ। তিনি যখন ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রে আমাকে কাজের প্রস্তাব দেন, আমি স্বাচ্ছন্দ্যে রাজি হই। ছবিতে অভিনয়ের পেছনে সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমি অমিতাভ ভাইকেই দেব।”

নতুন ছবিতে কাজ শুরু করলে নায়িকারা ফেসবুকে ছবি আপলোড করেন, সেলফি দেন; কিন্তু আপনি সেটা করেননি। এর পেছনে কি কোনো কারণ আছে? উত্তরে নাবিলা বললেন, ‘আমি নিজেকে আড়ালে রাখতে ভালোবাসি। আড়ালে থাকলে মানুষের আকর্ষণ বাড়ে। আর আমাকে দর্শকই খুঁজে নেবে। নিজেকে এক্সপোজ করতে আমার ভালো লাগে না।’

ছবির নাম ‘আয়নাবাজি’, আপনি আয়নার সামনে কত সময় ব্যয় করেন? উত্তরে নাবিলা বলেন, ‘আমি আয়নার সামনে একটু কম দাঁড়াই। আয়নায় নিজেকে অনেকবার দেখার অভ্যাস আমার নেই। আয়নার সামনে কথা না বললেও নিজের সঙ্গে আমি সব সময় অনেক কথা বলি।’

এখন তো ছবির শুটিং শেষ। বর্তমানে কী কাজ করছেন? প্রশ্ন শুনে নাবিলার পরিচিত উত্তর, ‘উপস্থাপনা করছি। উপস্থাপনা আমার ভালো লাগার জায়গা। যদি মনের মতো গল্প খুঁজে পাই, তবে আবারো অভিনয় করব।’