আত্মহত্যাকে না বলুন

আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা ২০০৩ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘সে নো সুইসাইড’। এ দিবসের তাত্পর্যপূর্ণ দিকটি হলো, বিশ্বব্যাপী জানান দেওয়া যে আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য এবং সংস্কৃতিভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা বন্ধ করতে পারে আত্মহত্যার মতো দুঃখজনক ঘটনা।

সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এর যথাযথ প্রচারনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এই প্রচারনার জন্য এখন বেশ অনলাইন গুলো চাঙ্গা হয়ে আছে। সম্প্রতি, এই দিবসকে কেন্দ্র করে মডেল ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন সচেতন মুলক কিছু কথা।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে নারীরাই বেশি আত্মহত্যা করে। ২০০১ সালে পরিচালিত এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট সংঘটিত আত্মহত্যার শিকার ৫৮ শতাংশই নারী। শুধু তাই নয় এ দেশে প্রতিবছর এক লক্ষ মানুষের মধ্যে আট থেকে দশজন আত্মহত্যা করে।

একজন মানুষের আত্মহত্যার নানা কারণ রয়েছে। যার কোনো কোনোটি বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আলাদা। যেমন—যৌতুক ও ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা। আগেই বলা হয়েছে, এ দেশে নারীরা পুরুষদের তুলনায় আত্মহত্যা বেশি করে। এর মধ্যে পারিবারিক সমস্যার কারণে—যেমন দাম্পত্য কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক, পরকীয়া প্রেম—গৃহবধূদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে।

এ ছাড়া প্রেমে ব্যর্থতা, পরীক্ষায় পাস না করা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অযাচিত গর্ভধারণ, মেলামেশা কম করার প্রবণতা এবং আত্মহত্যার উপকরণের (কীটনাশক, ঘুমের ট্যাবলেট) সহজপ্রাপ্যতা ইত্যাদি কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে। বিগত কয়েক বছরে অল্পবয়সী তরুণী ও স্কুলগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ফলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। যদি আত্মহত্যার বিষয়ে এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে সবাইকে বিশ্বাস করানো যায় যে আত্মহত্যার ইচ্ছা একটি ভুল মানসিক প্রক্রিয়া এবং এ থেকে বাঁচার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তির সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন, তবে অনেক ক্ষেত্রেই আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্ট জনেরা।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*