শৈশবে বাবা-মার কড়াকড়ি ভালো নয়!

শৈশবে যেসব সন্তানকে বাবা-মা বেশি যত্ন নেন এবং মানসিকভাবে কম নিয়ন্ত্রণ করেন সেসব শিশুর ভবিষ্যত জীবন সুখের হয়! বিষয়টি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটু অন্যরকম শোনালেও এক গবেষণায় ঠিক এমনটিই দেখা গেছে। ওই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, তারা সামাজিকভাবেও আগেভাগে প্রতিষ্ঠা পায় এবং জীবনের যেকোনো পর্যায়েই বেশি সন্তুষ্ট থাকে।

মিরর অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া প্রায় ৫ হাজার মানুষের উপর পরিচালিত ওই গবেষণার ফল সম্প্রতি পজিটিভ সাইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। শৈশবে বাবা-মার যত্ন ও অনুশাসন দীর্ঘমেয়াদে শিশুর জীবনে কেমন প্রভাব ফেলে তার ওপর প্রথমবারের মতো বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এই গবেষণায়।

গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শিশুদের মানসিক পরিপক্কতার জন্য শৈশবে বাবা-মার আদর- স্নেহ, মায়া-মমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। এসবই শিশুদেরকে পরবর্তী জীবনের সর্বস্তরের সঙ্গে মানসিকভাবে ক্ষাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। বাবা-মার এই যত্ন্ই শিশুদের পরবর্তী জীবনের মানসিক ভিত্তি গড়ে তোলে।

গবেষণায় দেখা যায়, শৈশবে যেসব শিশুকে বাবা-মা কম নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং অনুশাসনের ডোরে কম বেঁধেছেন তারা ভবিষ্যত জীবনে যেকোনো সিদ্ধান্ত একা একাই নিতে পেরেছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও আশঙ্কার পরিমাণও কম। তারা সামাজিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেন। নিজ যোগ্যতায় সামাজিক প্রতিষ্ঠাও পান।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, শৈশবে যেসব বাবা-মা শিশুদের মানসিকভাবে বেশি নিয়ন্ত্রণ করেছেন; সবসময় চোখে চোখে রেখেছেন এবং যেকোনো ব্যাপারে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন পরিণত বয়সে তারা পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাদের মানসিক পরিপক্কতা ঘটেনি। ভবিষ্যত জীবনে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন। এতে পৃথক ব্যক্তিসত্ত্বা গড়ে উঠে না। নিজের আচরণও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তারা।

গবেষণার প্রধান ডাক্তার মেই স্ট্যাফোর্ড বলেন, শৈশবে যেসব শিশুর প্রতি বাবা-মা উষ্ণ ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সংবেদনশীলতা দেখান ওইসব শিশু ভবিষ্যত জীবনে অধিক সন্তুষ্ট থাকেন। কিশোর, যৌবন ও বৃদ্ধ তিন বয়সেই তাদের মানসিক অবস্থাও ভালো থাকে। অন্যদিকে, শৈশবে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া শিশুরা ভবিষ্যত জীবন নিয়ে কম সন্তুষ্ট থাকেন। তাদের তেমন মানসিক বৃদ্ধিও ঘটে না।

তাই ভবিষ্যত প্রজন্মের সুন্দর জীবনের জন্য কড়া অনুশাসনের পরিবর্তে যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গবেষণায়।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*