আপনি কতটুকু কাজের মানুষ?

মানুষ অনেক ধরনের হয়ে থাকে। কেউ হয়তো আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো কাজ করে ফেলে, আবার কেউ আনেক বেশি পরিকল্পনা করে কাজে নামে। কেউ হয়তো খুব দ্রুত কোনো সমস্যার সমাধান দিয়ে ফেলতে পারে, আবার কেউ সেই পুরোন কিছুকে আঁকড়ে ধরে বসে থাকে। কেউ নতুন নতুন কিছু ভাবতে পছন্দ করে, আবার কেউ পছন্দ করে ঐতিহ্যকে অনুসরণ করতে। আর এতসব ব্যাপারের ওপর নির্ভর করেই প্রতিটি মানুষের ভেতরে থাকা নেতৃত্বকে সাজিয়ে গুছিয়ে মোট চারধরনের দলে ভাগ করা যায় মানুষকে। দেখে নিন আপনি কোন দলের!

১. স্বপ্নদ্রষ্টা

একজন স্বপ্নদ্রষ্টা বা সবসময় চোখে হাজারটা স্বপ্ন নিয়ে চারপাশকে বিচার করা মানুষ সবসময়েই অনেক বেশি সৃজনশীল হয়ে থাকেন। কোনো সমস্যাকেই সমস্যা বলে মনে করেন না তারা। কেউ যদি তাদেরকে বলে এটা করা যাবেনা তাহলে তাদের একটাই প্রশ্ন থাকে। আর সেটা হচ্ছে, ‘কেন?’। কখনোই নিজেদের ভাবনাকে সীমায় বাঁধতে চান না এই দরের মানুষেরা। ফলে জীবনে খুব কম সময়েই তারা এমন কোন সমস্যার সামনে পড়েন যেটার সমাধান তারা করতে পারবেননা। অন্যরা যখন সাদারনভাবে কোন কিছু নিয়ে ভাবছে তারা সেখানে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে সেটাকে নিয়ে ভাবেন। তবে এ ধরনের মানুষদের সমস্যা হচ্ছে তারা অনেক বেশি বাস্তববুদ্ধিহীন। কল্পনার জগতে তারা নিজেদের সবকিছুকে কল্পনা দিয়ে সাজান। ফলে বাস্তব যখন কড়া নাড়ে তখন অনেকটাই বেসামাল হয়ে পড়েন তারা। এ ধরনের মানুষেরা সাধারণা লেখালেখি, গান ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোদ করেন।

২. বিশ্লেষক

এরা একেবারে স্বপ্নদ্রষ্টাদের উল্টো। নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে চান না বিশ্লেষকেরা। পুরোনো জিনিসকে আঁকড়ে ধরে পরিকল্পনামাফিক চলতে চান। স্বপ্নদ্রষ্টারা যেখানে নতুন নতুন চিন্তা করেন এবং অবাস্তব একটা জগতে বাস করেন, সেখানে বিশ্লেষকেরা কেবল সেটাই দেখেন বা সেটাই করেন যেটা আসলেই আছে আর যেটা করা সত্যিই দরকার। ফলে তাদের রাস্তা অনেকটা সমান্তরালভাবেই চলে যায়। কিন্তু বাস্তব দুনিয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক বেশি পিছিয়ে থাকেন তারা। কারণ তারা যখন পুরোনোকে ধরে বসে আছেন, নতুন কোন ঝুঁকি নিচ্ছেন না, তখন অন্য কেউ বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সৃজনশীলতার মাধ্যমে পেরিয়ে যাচ্ছে অনেকটা পথ। তাকে পেছনে ফেলেই! এ ধরনের মানুষেরা সাধারনত উকিল কিংবা বিচারক হিসেবেই বেশি ভালো করেন।

৩. বন্ধুত্বপূর্ণ

এই দলের মানুষেরা অন্যদের প্রতি অনেক বেশি সহানুভূতিপূর্ণ মনের হয়ে থাকেন। তিনি যদি একজন বস হন তাহলে অফিসের সব কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধা বুঝে তাদের কাজের সময় কমিয়ে বাড়িয়ে দেন। ব্যক্তিগতভাবে সবার ভালো বন্ধ হবার চেষ্টা করেন। সবার কথা শোনেন এবং কাউকেই অতিরিক্ত চাপ দিতে পছন্দ করেন না। এ ধরনের মানুষের কাছে তার অফিসের কর্মীরা কর্মীর চাইতে অনেক বেশি করে মানুষ। কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ এই মানুষগুলোর সমস্যা তৈরি হয তখনই যখন তারা বুঝতে পারে আসলে সবার সাথে বন্ধুবত্সল হওয়া যায় না। অফিসে কাজ ঠিকঠাক না হলেও, কোম্পানি লস করলেও তারা তখন কিছু বলতে পারেন না। এ ধরনের মানুষগুলোর ব্যবসা বা এ ধরনের কোনো কাজ না করে পরামর্শক বা মনোবিশেষজ্ঞবিদ হওয়াটাই উচিত।

৪. কর্মী

এই দলের মানুষেরা সাধারণত কাজে বিশ্বাসী হন। বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষদের মতন ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে না দেখে, সবার সুবিধা না ভেবে নিজে যেটা ভালো বোঝেন সেটাই করেন। যখন যেটা করা দরকার বলে মনে হয় সময় নষ্ট না করে কাজে লেগে যান কর্মী দলের মানুষেরা। আর একার কিছু করতে শুরু করলে সেটাকে নিয়েই পড়ে থাকেন। আর বাকী সবাইও তার কাজকে অনুসরণ করেই কাজ সম্পন্ন করুক। এমনিতে কর্মী দলের মানুষেরা কাজপাগল আর কাজ আদায় করে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভালো হলেও বাস্তবে তারা বেশ রাগী হন। অন্যদের সুবিধা একেবারেই দেখেন না। নৈতিকতার অভাব দেখা যায় তাদের ভেতরে মাঝে মাঝে। এছাড়াও হঠাৎ কাজে হাত দেওয়ায় অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় তাদের।