কম খরচে সাজিয়ে ফেলুন আপনার ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্ট

নিজের একটি বাসা- হোক না যতই ছোট- এ স্বপ্ন থাকে সবারই মনে। একান্তই নিজের বাসাটিকে ইচ্ছেমত সাজাতে ইচ্ছে হতেই পারে, কিন্তু অনেক সময়ে সাধা আর সাধ্যের মাঝে অনেক বড় ফারাক থেকে যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক অনেক কম খরচেই নিজের ছোট্ট ঘরটিকে মনের মতো করে সাজানোর কিছু কৌশল।

১) ঘরের দেয়াল সাজান বুদ্ধি করে

দেয়াল সুন্দর করে সাজাতে চান অনেকেই। কিন্তু তাই বলে গুচ্ছের টাকা খরচ করে পেইন্টিং কিনতে হবে কে বলেছে? নিজেই সাজিয়ে ফেলতে পারেন বাঁধাই করা পুরনো ফটোগ্রাফ, প্রিয় ম্যাগাজিনের কভার বা সার্টিফিকেট দিয়ে। এতে অন্যরকম লুক আসবে আপনার ঘরে।

২) সেকেন্ডহ্যান্ড কিনতে ভয় পাবেন না

সবকিছু নতুন কিনতে গেলে ভীষণ খরচ হবে। তার চাইতে একটু দেখেশুনে কিছু পুরনো জিনিসই কিনে ফেলুন।

৩) সম্ভব হলে হাতেই তৈরি করুন

সবকিছু কিনতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। ঘরের ছোটখাটো আসবাবপত্র নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন পুরনো জিনিস দিয়ে। এতে আপনার নিজের ব্যক্তিত্বের ছোঁয়া লাগবে ঘরে।

৪) ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখুন

খুব ভারী কোনো আসবাব কেনার আগে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখুন। এটাকে নাড়াচাড়া করাটা মোটেই সহজ হবে না। তাছাড়া ভবিষ্যতে আপনি হয়তো বিয়ে করতে পারেন, সন্তান আসতে পারে ঘরে। সবকিছু মাথায় রেখেই ঘর সাজান। তাহলে ভবিষ্যতে আর বেশি খরচ করতে হবে না।

৫) স্প্রে-পেইন্ট করা শিখুন

সুন্দর করে স্প্রে পেইন্ট করা শিখলে একেবারে ভাঙাচোরা একটা আসবাবের মাঝেও আসবে নতুনত্ব আর আপনার ঘরের চেহারা একেবারেই পাল্টে দিতে পারে তা। এ কারণে ভালোভাবে স্প্রে পেইন্টিং শিখে নিন, খরচ করার দরকার হবে না আর।

৬) একের মধ্যে দুই

এমন সব আসবাবপত্র ব্যবহার করুন যেগুলো একই সাথে দুইটি কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন সুন্দর ছোট একটি টুল যেমন বসার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে তেমনি অতিথিদের নাশতা দেবার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭) বিছানা কিনতে কার্পণ্য নয়

অনেক কিছুতেই খরচ বাঁচিয়ে চলতে হবে এটা ঠিক। কিন্তু যে জিনিসটায় খরচ করতে বাঁধা নেই তা হলো বিছানা। দেখেশুনে ভালো মানের একটি বিছানা, তোশক-বালিশ এগুলো কিনে ফেলুন। ঘুম ভালো না হলে কমদামী বিছানার কোনো দরকার আছে?

৮) পুরনো দিনের এটা-সেটা

মা-বাবার বাড়ি থেকে পুরনো আসবাবপত্র নিয়ে আসতে পারেন যেগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এরপর সেগুলোকে একটু মেরামত বা রঙ করে নিয়েই দিব্যি ব্যবহার করতে পারেন আপনার নতুন অ্যাপার্টমেন্টে।

৯) একই সাথে ঘর সাজানো এবং স্টোরেজ

ভারী জিনিসপত্র রাখতে পারেন বিছানার নিচে এবং ক্লজেটের ভেতরে। কিন্তু কিছু সুন্দর জিনিস বাইরেই সাজিয়ে রাখতে পারেন, যেমন বইপত্র এবং জুয়েলারি। এতে ঘরটাও সুন্দর লাগবে।

১০) দরকারি সব কিছুর জন্য বাজেট রাখুন

ঘর সাজাতে গিয়ে আবার দরকারি জিনিস কিনতে ভুলে যাবেন না কিন্তু। সুন্দর একটা বসার ঘর সাজিয়েছেন, কিন্তু খাবার সময়ে দেখলেন একটাও চামচ কেনা হয়নি! এমন সমস্যায় যযেন পড়তে না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখুন।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*