সর্বপ্রাচীন রঙিন বই

প্রাচীনতার প্রতি মানুষের টান স্বভাবজাত। নিজের স্বরুপের সন্ধানেই হোক আর জ্ঞান তৃষ্ণার কারণেই হোক, অতীতের ফেলে আসা সম্বলকে খুড়ে বের করা অভ্যেস রয়েছে মানুষের। এইতো সেদিন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে হঠাৎ আবিষ্কৃত হলো সবচেয়ে প্রাচীন কোরানের একাংশ। এখনতো সেই অংশ নিয়ে বিশ্বের সকল গবেষকদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এবার ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় যে বইটি প্রকাশ করেছে তা ঐতিহাসিক দিক দিয়ে তর্ক-বিতর্কের জন্ম না দিলেও জ্ঞানপিপাসু মানুষের কাছে এর মূল্য অনেক।

সম্প্রতি ক্যামব্রিজ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন রঙিন কালিতে ছাপা বই প্রকাশ করেছে। দীর্ঘবছর ক্যামব্রিজের গ্রন্থাগারের কিছু অংশ সাধারণ মানুষতো দূরের কথা, গবেষকদের জন্যও উন্মুক্ত ছিল না। কিন্তু চলতি বছর ওই অংশগুলো উন্মোচন করে দেয়া হলে নতুন নতুন সব আবিষ্কারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গ্রন্থাগারের চাইনিজ বিভাগের প্রধান চার্লস আলমার এবিষয়ে বলেন, ‘বইটির ভেতরকার রঙিন স্বচ্ছ ছবিগুলো আমাদের এক কথায় অবাক করে দিয়েছে। স্রেফ তিনশ বছর এই বই এখানে ছিল, কেউ নজরেও আনেনি। প্রথমে ভেবেছিলাম যে, আমাদের কাছে থাকা বইটি পূর্ণাঙ্গ নয়। কিন্তু পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে এটা পূর্ণাঙ্গ বই। বাইটির মোট ১৩৮ পাতায় পঞ্চাশজন শিল্পীর আঁকা বিভিন্ন স্কেচ রয়েছে। এবং এই স্কেচগুলোর সঙ্গে লেখাও আছে। আর এমনিতে পুরো বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৮৮।’

ধারনা করা হচ্ছে ১৬৩৩ সালের দিকে চীনের নানচিংয়ের টেন ব্যামবো স্টুডিওতে এই বইটির মুদ্রন হয়েছিল। বইটি নাম উদ্ধার করে দেখা গেছে, ‘শি ঝু ঝাই হু পু্’। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বইটিই একমাত্র প্রাচীন রঙিন বই নয়। এই বইয়েরই আরও মুদ্রন হয়েছিল বিভিন্ন সময় এবং প্রথম মুদ্রনের তুলনায় পরবর্তী মুদ্রনগুলোই জনপ্রিয় ছিল সর্বাধিক। তবে বর্তমানে বইটির বিভিন্ন অংশের কার্বন ডেটিং করার জন্য নির্দিষ্ট বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের জন্য নির্দিষ্ট একটি দালানের নাম বাটারফ্লাই। এই দালানটিতে বিশেষ পাস ছাড়া যেকোনো কর্তাব্যক্তির জন্যও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, দেশের প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টকে পর্যন্ত এই দালানে প্রবেশ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। আর এই দালানে সংরক্ষিত পুরনো দলিলপত্রাদি থেকে একাংশ বের করার পরই এই প্রাচীন দলিলগুলো জনসমক্ষে আসছে।