সিম নিবন্ধন নিয়ে বিভ্রান্তি

দেশের প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল সিমকার্ড পুনরায় নিবন্ধন করতে হবে কিনা এই নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। রোববার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে সব সিম নিবন্ধন করার কথা বলা হলেও সোমবার বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন শুধুমাত্র নিবন্ধনহীন সিমগুলোর রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এদিকে আজ মঙ্গলবার মোবাইলে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন সব সিমেরই নিবন্ধন করতে হবে।

গত রোববার ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের বৈঠকে সিম নিবন্ধনের এ সিদ্ধান্ত হয়। দু-এক দিনের মধ্যে এ-সম্পর্কিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও মোবাইল অপারেটরদের কাছে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস গতকাল সোমবার বলেন, সিম নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই যেসব গ্রাহকের নিবন্ধন নেই বা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের আবারও নিবন্ধন করতে হবে। সবাইকে নয়। তবে মন্ত্রণালয় চাইলে বিটিআরসি সেভাবে কাজ করবে। এদিকে মঙ্গলবার তারানা হালিম জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক আগে নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু সেসব নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা হয়নি। তাই সবাইকে নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে আজ সকালে বিটিআরসির সচিব মো. সারওয়ার আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সিম নিবন্ধন নিয়ে কোন নির্দেশনা এসেছে কিনা তা আমার জানা নেই। আসলে তো নিশ্চয় জানতে পারবো। তবে দুপুরের পর ফোন করলে সঠিক তথ্য জানাতে পারবো।” তবে দুপুরের পিরে ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন। একই বিষয়ে জানতে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। আর টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনিও কল রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৮ ও ২০১০ সালে অপারেটরদের চিঠি দিয়ে সিম নিবন্ধন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর মধ্যে ২০০৮ সালে দেওয়া নির্দেশনায় বিক্রি করা অনিবন্ধিত সিম পাওয়া গেলে ওই অপারেটরকে সিমপ্রতি ৫০ ডলার জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়।

২০১২ সালের এপ্রিলে মোবাইল ফোন সংযোগ কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করে বিটিআরসি। সিম নিবন্ধন বিষয়ে বিটিআরসির দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়, অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ গ্রাহক নিবন্ধন তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটর দায়ী থাকবে। নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেইস ব্যবহার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত ম্যানুয়াল ব্যবস্থায় এসব তথ্য যাচাই করে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংযোগ চালু করতে হবে তাদের। ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল হাইকোর্ট নিবন্ধন ছাড়া বিক্রি করা সিম কার্ড অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

বিটিআরসির হিসাবে জুলাই মাস পর্যন্ত দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহকসংখ্যা ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৬৯ হাজার। মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর (গ্রুপ স্পেশাল মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন) তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ইউনিক বা একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৭০ লাখ। এখানে এক ব্যক্তির একাধিক সিম কার্ড থাকলেও তাঁকে একক ব্যবহারকারী হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*