বুড়ো ইঁদুর তরুণ হলে মানুষ পারবে না কেন!

বুড়ো ইঁদুরের দেহে ঢোকানো হয়েছিল তরুণ ইঁদুরের রক্ত৷ দেখা গেল, বুড়োরা বেশ তারুণ্য ফিরে পেয়েছে৷ মার্কিন বিজ্ঞানীরা তাই নেমে পড়েছেন বুড়িয়ে যাওয়া মানুষকে তরুণ করার উপায় খুঁজতে!

সফল হলে সেটা যে দারুণ সুখবর হবে তাতে আর সন্দেহ কী! রোববার ‘নেচার মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্স’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন, ইঁদুরকে বয়সজনিত কিছু সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়ে তাঁরা মানুষের ক্ষেত্রেও একই সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন৷ আশা করাটা অমূলকও নয়৷ তারুণ্য ফিরিয়ে আনায় ভূমিকা রেখেছে ইঁদুরের রক্তের এমন কিছু উপাদান মানুষের রক্তেও আছে৷ তাহলে আর আশা করতে দোষ কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী বুড়ো ইঁদুরদের বার্ধক্যজনিত কিছু কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে তরুণ ইঁদুরদের কিছুটা কষ্ট দিয়েছেন৷ এমন কিছু ইঁদুর বেছে নেয়া হয়েছিল যাদের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা ২০ এবং ৬০ বছর বয়সি মানুষদের মতো৷ তো বয়স্ক ইঁদুরদের শরীরে ইনজেকশন দিয়ে ঢোকানো হলো তরুণ ইঁদুরের রক্ত৷ তারপর থেকেই নাকি বয়সের ভারে প্রায় অচল হয়ে পড়া ইঁদুরগুলো তরুণদের মতো বেশ টগবগিয়ে ছুটছে৷ রক্ত দেয়ার আগে যে ইঁদুরগুলো একটু আগে কোথায় ছিল তা ভুলে যাচ্ছিল, রক্ত দেয়ার পর তাঁরাই নাকি দৌড়ে দৌড়ে ফিরে যাচ্ছে সেই ঠিকানায়৷ তাদের শরীর-মনের এই চনমনে ভাব দেখে বিজ্ঞানীরা মানুষকেও তারুণ্য ফিরিয়ে দেয়া যায় কিনা এ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন৷

বিজ্ঞানীদের ভাবনার প্রতিফলন ঘটে গবেষণায়৷ না, এই নিয়মে তাঁরা তরুণ মানুষের রক্ত বুড়িয়ে যাওয়া মানব দেহে এখনো ঢুকিয়ে দেখেননি৷ বরং কেউ যাতে নিজে নিজে তরুণ হওয়ার জন্য অন্যের রক্ত শরীরে প্রবেশ করাতে গিয়ে বড় বিপদ ডেকে না আনেন সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন৷

তবে ইঁদুর নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মানুষের জন্যও আশার আলো দেখেছেন বিজ্ঞানীরা৷ দেখেছেন, জিডিএফ-১১ নামের একটি প্রোটিনসহ আরো কয়েকটি উপাদান বুড়ো ইঁদুরকে তরুণ বানাচ্ছে, সেসব মানুষের রক্তেও আছে৷ আরো জেনেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রক্তের ওই উপাদানগুলোর ঘনত্ব কমতে থাকে৷ সমস্যার কারণ তো কিছুটা জানা হয়েই গেছে৷ এখন শুধু আরো ভালো করে বুঝে-শুনে ২০ বছর বয়সির রক্ত ধার নিয়ে ৬০ বছরের প্রবীণদের নবীন বানানো শুরুর অপেক্ষা!

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*