সাধারণ তেজপাতার অসাধারণ ব্যবহার!

তেজপাতা আমাদের রান্নার খুবই সাধারণ একটি মশলা জাতীয় জিনিস যা খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং খাবারের স্বাদে নতুন ধরণের ফ্লেভার যোগ করার কাজেই মূলত ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই সাধারণ মশলাটির রয়েছে অসাধারণ অনেক ব্যবহার যা আপনি হয়তো এখনো জানেন না। চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক এই সাধারণ তেজপাতারই অসাধারণ কিছু ব্যবহার যা আপনার এখনো অজানা।

১) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

প্রতিদিন যদি আপনি সামান্য তেজপাতা গুঁড়ো খান তাহলে ৩০ দিনের মধ্যেই ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবেন অনেকাংশে। কারণ তেজপাতা রক্তের গ্লুকোজ এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

২) হজম সমস্যা সমাধানে

৫ গ্রাম তেজপাতা এবং ১ ইঞ্চি আদা কুচি ২০০ মিলি পানিতে ফুটিয়ে নিন। পানি শুকিয়ে চারভাগের একভাগে কমে এলে ছেঁকে মধু মিশিয়ে পান করুন দিনে দুই বার। হজম সংক্রান্ত সকল সমস্যা, পেট ফাঁপা দূর হবে।

৩) অসুস্থতার পর খাবারে রুচি ফিরিয়ে আনতে

অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই খাবারে একেবারে রুচি আসে না। এই সময়ে হজম সংক্রান্ত সমস্যার জন্য যে পানীয়টি তৈরির প্রণালী দেয়া আছে তা তৈরি করে পান করুন দিনে ২ বার দেখবেন খাবারে রুচি ফিরে আসবে।

৪) কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যা দূরে রাখতে

তেজপাতার ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস কার্ডিওভ্যস্কুলার নানা সমস্যা যেমন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদি দূরে রাখতে সক্ষম। ৩ গ্রাম তেজপাতা, ৩/৪ গ্রাম গোলাপ ফুলের পাপড়ি ৩০০ মিলি পানিতে ফুটিয়ে ৭৫ মিলি করে নিন। এই পানীয়টি ছেঁকে পান করুন। হৃদপিণ্ডের সমস্যা এবং দুশ্চিন্তা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন।

৫) ঠাণ্ডা সর্দি কমাতে ও ইনফেকশন দূর করতে

বেশ খানিকটা পানিতে ২/৩ টি তেজপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে একটি কাপড় এতে ভিজিয়ে চিপে নিন। এই ভেজা কাপড়টি বুকের উপরে রেখে দিন অনেকটাই উপশম হবে ফ্লু, ঠাণ্ডা কফ-কাশি।

৬) জ্বর কমাতে ও হাঁচির নিরাময়ে

একমুঠো তেজপাতা ২০০ মিলি পানিতে ফুটিয়ে চারভাগের একভাগে শুকিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে মধুর সাথে মিশিয়ে বা এমনি চায়ের মতো পান করে নিন। এতে করে জ্বর কমবে এবং অতিরিক্ত হাঁচি দেয়ার যন্ত্রণাও কমে যাবে।

৭) শারীরিক ব্যথা নিরাময়ে

তেজপাতায় রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা শারীরিক প্রদাহ দূরে রাখে। হাড়ের জয়েন্টে ব্যথায় তেজপাতা ও ক্যাস্টর পাতা একসাথে বেটে নিয়ে ব্যথার স্থানে লাগিয়ে একটি কাপড়ের সাহায্যে বেঁধে রাখুন। তেজপাতার তেল মালিশ করলে মাইগ্রেনের ব্যথা দূর হয় এবং একমুঠো তেজপাতা পানিতে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে পান করলে সাধারণ মাথাব্যথা দূর হয়।

৮) নাক থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে

২/৩ টি শুকনো তেজপাতা গুঁড়ো করে নিয়ে ২০০ মিলি পানিতে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিন। এরপর তা পান করুন, রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

৯) কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা দূরে রাখতে

৫ গ্রাম তেজপাতা ২০০ মিলি পানিতে ফুটিয়ে তা ৫০ মিলি করে নিন এবং ছেঁকে দিনে দুই বার পান করুন। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।

১০) দাঁত সাদা করতে

তেজপাতা গুঁড়ো দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে নিন। দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করে দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করে নিন।