ভোরে স্কুলই ক্ষতি করছে পড়ুয়াদের

Girl sleeping in class

ছাত্রাবস্থায় ভোরে উঠলে শরীর ভালো থাকে। মাথাও নাকি সাফ থাকে। এই কনসেপ্টে বিশ্বাসী স্কুলের জ্বালায় নাজেহাল শিশুরা। কাকভোরে উঠে হুড়োহুড়ি করে স্কুলে ছোটা। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা — ছাড় নেই। ৭টার মধ্যে স্কুলে থাকা মাস্ট। জেনে নিন, এই ধারণায় কিন্তু আসলে ছাত্র-ছাত্রীদের হিতে বিপরীতই হচ্ছে। বিশ্বের সব বিজ্ঞানীরাই জানাচ্ছেন, ছাত্রাবস্থায় পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। না-হলে তার কুপ্রভাব পড়বে পরবর্তী জীবনে। সোজা কথা, শিশুদের প্রয়োজনীয় ঘুমে ব্যঘাত ঘটাচ্ছে ভোরে শুরু হওয়া স্কুল। যার জেরে ক্ষতি হচ্ছে পড়াশোনায়।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সায়েন্স ফেয়ার-এ একটি আলোচনা সভায় ছাত্র-ছাত্রীদের পর্যাপ্ত ঘুমের পক্ষে সওয়াল করেন সব বিজ্ঞানীই। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল কেলি জানাচ্ছেন, জীবনে উন্নতি করতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। ৮ থেকে ১০ বছর ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল শুরু হওয়া উচিত সাড়ে ৮টায় বা তারপর। ১৬ বছরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কুল শুরু হওয়া উচিত বেলা ১০টায়। এবং ১৮ বছরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বেলা ১১টায়। কেলি-র গবেষণাপত্রের রিপোর্ট বলছে, ব্রিটেনে ভোরে স্কুল শুরু হওয়ার জেরে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সপ্তাহে ১০ ঘণ্টা করে কম ঘুম হচ্ছে। তা শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর।

স্কুল পড়ুয়াদের বিষয়েও একই বক্তব্য বিজ্ঞানীদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেহেতু বেশির ভাগ স্কুল পড়ুয়ারাই এখন স্মার্টফোন, আই প্যাডে আসক্ত, তাই তাদের মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ে। আর নিত্যদিন ঘুম কম হওয়ার জেরে অল্প বয়সেই ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, অবসাদের শিকার হচ্ছে তারা। ছাত্রাবস্থায় পর্যাপ্ত ঘুমের উপকারিতা স্কুলগুলিকে বোঝাতে ১০০টি স্কুলে TeenSleep প্রকল্পও চালু করতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।

দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীকেই সূর্য ওঠার আগে স্কুলের জন্য দৌড়তে হয়। পশ্চিমের বিজ্ঞানীদর নয়া তত্ত্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে। বেশির ভাগ স্কুলেরই বক্তব্য, ছাত্র-ছাত্রীদের পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। কিন্তু এত ছাত্র-ছাত্রীকে তো একসঙ্গে পড়ানো সম্ভব নয়। বসারও জায়গা নেই অত। তাই প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধ ভাগ করে পড়ানো হয়। তাই স্কুল চাইলেও কিছু করার নেই। সূত্র : এই সময়