স্বপ্নটাকেই বদলে দিলেন তারেক

সিলেট থেকে মো. আমিনুল ইসলাম

শৈশবে স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে হবেন চিকিৎসক । কেউ জিজ্ঞেস করলেই আপনাতেই বলে বেড়াতেন সে কথা। স্কুল জীবনের সে দিনগুলোর কথা এখন অনেকটাই স্বপ্নের মতো লাগে তাঁর। শৈশবকে পেছনে ফেলে অনেকটা পথ এগিয়ে এসেছেন তিনি। এখন আর স্বপ্ন দেখারও যেনো সময় হয়ে ওঠে না। জীবন যেনো কেবল ছুটে চলার নাম। ঘটনার পেছনে ছুটতে ছুটতে তিনি আজ ভিন্ন স্বপ্নের বাস্তবতা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলোও এখন তাকে চেনে। ভালোবাসে। শহরের তরুণরাও যেনো এখন তাকে অনুকরণ করতে চায়। বিকেলের অবসরটা তার সাথে আড্ডা দিয়ে কাটাতে তারা আগ্রহ প্রকাশ করে।
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের পরিচিত মুখ মাহমুদুর রহমান তারেক। যিনি শখ থেকেই বদলে ফেলেছিলেন তার বাবার স্বপ্ন। চিকিৎসক হওয়ার বদলে যিনি একটু একটু করে হয়ে ওঠেন তুখোড় সংবাদকর্মী।
তারুণ্যলোক প্রতিবেদককে দেওয়া তথ্যে তিনি জানান, ‘স্বপ্ন ছিলো অন্যকিছু। কিন্তু ২০০৪ সালে ইচ্ছেগুলো পাল্টাতে শুরু করে। শখের বসে সাংবাদিকতার স্বপ্ন বুনতে থাকেন তিনি। প্রবল ইচ্ছেশক্তির কাছে পরিবারের স্বপ্নটা যেনো হার মানে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাজ দেখে তিনি নিজেকে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত করার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু সে সময় তিনি যার কাছেই কথাটা বলতেন সবাই তাকে এড়িয়ে যেতো।
নিজের ইচ্ছে শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০০৪ সালের আগষ্ট মাসেই তিনি রাসেল চৌধুরী নামে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের এক গণমাধ্যমকর্মীর সাথে পরিচিত হন। তার কাছে নিজের ইচ্ছের কথা খুলে বলেন।
তার ইচ্ছের কথা শুনে রাসেল চৌধুরী দৈনিক প্রথম আলোর সে সময়কার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি উজ্জল মেহেদীর সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন।  শুরু হয় শেখার পালা। গণমাধ্যম জীবন।
পরে ২০০৫সালের  ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় সাপ্তাহিক সুনামকণ্ঠতে তিনি কাজ শুরু করেন। চলতে থাকে সাংবাদিকতা। সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হতে থাকেন তারেক। পাশাপাশি চলে লেখাপড়াও। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে বৈশাখী টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান মাহমুদুর রহমান। এবার পরিচিতিটা বাড়ে আরো একধাপ। পরিবারেও তার সাফল্যের আলো ছড়াতে থাকে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাস। দেশের প্রথম সারির নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পান তারেক। পরে ২০০৯ সালের মার্চে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। তার সহপাঠিরা ও শিক্ষকরা তার সাফল্যে গর্ব করতে থাকেন। এক নামে পরিচিত হয়ে পরেন মাহমুদুর রহমান তারেক। কিন্তু ২০০৯ সালে মালিকানা পরিবর্তন হওয়ায় বৈশাখী টেলিভিশন থেকে তিনি চাকুরি হারান।

00000
পরে ২০১২ সালের জুন মাসে তিনি ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান। ছেড়েদেন যায়যায়দিন পত্রিকার চাকুরি। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিয়োগ পান দৈনিক ইত্তেফাকে। পত্রিকাটির হয়ে কাজ করেন ১ বছর।
পরে জাতীয় দৈনিক ছাড়েন তারেক। বর্তমানে তিনি যমুনা টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এ সাফল্যের পেছনে প্রবল ইচ্ছে তাকে শক্তি যুগিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক। তবে এই তরুণের সফলতার গল্পটা সহজ নয়। এজন্য তাকে রক্ত ঝরাতেও হয়েছে। হয়েছেন হামলার শিকার।
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে ২০১৩ সালে সুনামগঞ্জ শহরে আ.লীগের দু‘গ্রুপের সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরার পর সবাই তাকে সাংবাদিকতা থেকে সরে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি শহরে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের সংঘর্ষ চলাকালে তিনি আবারো পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এছাড়াও শহরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সংঘর্ষে তিনি বেশ কয়েকবার আঘাতপ্রাপ্ত হন।
সাংবাদিকতা ছাড়াও এই তরুণ টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলন ও সুনামগঞ্জ গণজাগরণমঞ্চের সক্রিয় সংগঠক।
মাহমুদুর রহমান তারেক বলেন, ‘আমি শখ থেকে এ পর্যন্ত এসেছি, আমার প্রবল ইচ্ছে আমাকে শক্তি যুগিয়েছে, অনেকে আমাকে সহায়তা করেছেন, তবে আমাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, আসলে মন থেকে চাইলে কোন বাধাই কাউকে আটকাতে পারবে না, আমি এই বিশ্বাসে পথচলি’।