তারুণ্যের ‘দিক’

মো. আমিনুল ইসলাম (সিলেট)

sylhet news pic.2 by aminul islam23.09.2015

বন্ধুগুলো যে যার মতো। কখনো নীরবতা। কখনো বা রং তামাশার খেলা। ইচ্ছে করলেই আয়োজন। একটা গল্প। একটা নাটক। মানুষকে আনন্দ দেয়াই যাদের কাজ। একঝাঁক তরুণ মিলে এক একটা স্বপ্ন বুনে ওরা। সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় মঞ্চে। ফুটে ওঠে সংগ্রামী আর অসহায় মানুষের জীবনচিত্র। প্রচার হয় সকল ভালোর। ঝড় ওঠে অন্যায়ের প্রতিবাদের। সাম্যের গানে গড়ে হৃদয় বন্ধন। ভাঙে অত্যাচারির কালো প্রাসাদ। ক্যাম্পাসটা যে প্রাণবন্ত করে রেখেছে ওরা। পড়াশোনার পাশাপাশি নাটক নিয়ে কাটে ওদের দিনগুলো।

sylhet news pic. by aminul 23.09.2015
ছোট্ট গল্পটার নাম ‘দিক থিয়েটার’। এ গল্প একঝাঁক তারুণ্যের। আর ওরা সবাই সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের দলে সিনিয়র আর জুনিয়র বলে কথা নেই। আড্ডাবাজীতে সবাই যেনো  মিলেমিশে একাকার। আর ক্যাম্পাসের বাকিরা তাদের শুভাকাক্সক্ষী। ওদের ভক্তেরও অভাব নেই। ক্যাম্পাসের বাইরেও ওরা সমানতালে ধরে রেখেছে জনপ্রিয়তা।
‘নাটকে সাম্যের আন্দোলন, জীবনের ভাষায় মুক্তির অন্বেষন’এই স্লোগানকে ধারণ করে ১৯৯৯ সালের ১৮ আগষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘দিক নাট্যসংঘ’ নামে যাত্রা শুরু করেছিল সংগঠনটি। সে সময় থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে স্থান করে নেয় ‘দিক’। বর্তমানে একদল সৃষ্টিশীল তরুণের অক্লান্ত পরিশ্রমে সংগঠনটি সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। জীবনের চরাই উৎরাই পেরিয়ে একদল তরুণ হাতে হাত রেখে সাম্যের বাণী প্রচার করে চলেছে। এগিয়ে যাচ্ছে সুন্দর আগামীর পথে। এ যাত্রাপথে রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। পেরুতে হচ্ছে বাধা। তবুও এগিয়ে যাচ্ছে দিক থিয়েটার। পথ চলার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দিক থিয়েটার কাজ করে যাচ্ছে মানুষ ও মানবতার কল্যাণে।
ওরা সৃষ্টিশীলতা দিয়ে জয় করে চলেছে সবার হৃদয়।  ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করতে প্রশাসনের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই  নিজেদের উদ্যোগে আয়োজন করে চলেছে নাটক প্রদর্শনীর। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ও নাট্য-পরিষদ, সিলেট এর সদস্য হিসেবে ‘দিক থিয়েটার’ শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। আত্মপ্রকাশের পর থেকে একটি বিশেষ প্রযোজনাসহ ২০টি নাটকের ৫৪টি সফল মঞ্চায়ন ও চারটি নাট্যোৎসব করেছে দিক থিয়েটার। আর প্রাঙ্গণেমোর, আরণ্যক, প্রাচ্যনাটের মত নাট্যদল অংশগ্রহণ করেছে দিক থিয়েটারের নাট্যৎসবগুলোতে। দিক থিয়েটার ইতোমধ্যে মঞ্চায়িত করেছে হুমায়ূন আহমেদ, সেলিম-আল-দীন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, বৃন্দাবন দাশ, মলয় ভৌমিক, মুনীর চৌধুরী,শওকত ওসমান, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মান্নান হীরা ও সৈয়দ শামসুল হকসহ দেশবরেণ্য নাট্যকারের নাটক। প্রশংসিত হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’ ও শিখন্ডিকথা’।
নাট্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। তারা সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আয়োজন করেছে পথনাটকের। অসুস্থ শিক্ষার্থীকে সাহায্য করতে আয়োজন করেছে চ্যারিটি শো। সংগঠনটির উল্যেখযোগ্য চ্যারিটি শো হলো  মহারাজের ঘুম নেই, মহাপ্রলয়, হত্যার শিল্পকলা, বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
এছাড়া, সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবীতে পথনাটক সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণজাগরন কর্মসূচিতে দিক থিয়েটার ছিল অনন্য ভূমিকায়।
দিক থিয়েটারের বর্তমান সভাপতি আসাদুজ্জামান নয়ন বলেন, আমরা নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা স্বত্বেও নাটকের মাধ্যমে সমাজের অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ করে চলেছি, নাটককে জীবনের কথা বলে, নাটক সমাজের দর্পণ, তাই হাতে হাত রেখে আমরা ক্যাম্পাসে সাম্যের প্রচার দিয়ে থাকি, থাকি ভালো কাজের সাথে, আমরা একটু একটু করে এগিয়ে চলেছি সুন্দরের পথে, দিক থিয়েটার মানুষের মনকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলতে কাজ করছে, সাম্যের গানে দূর করে চলেছে সমাজের মানুষে মানুষে বিভেদ, আমি বিশ্বাস করি সমাজের বাকিরা যা পারে না তরুণরা তা সহজেই করতে পারে’।