নকল কিন্তু চেহারায় আসল!

যমজ ভাই কিংবা বোন হওয়ার নজির গোটা বিশ্বে হামেশাই দেখা যায়। কিন্তু দেখতে এক হলেও তাদের আচার-আচরণে অনেকগুলিই বৈষম্য থাকে। যা দেখে খুব সহজেই দুটো মানুষকে চেনা সম্ভব হয়। কিন্তু এই ছবিগুলির মানুষ যমজ কেউ নয়। এবার বলুন তো এদের মধ্যে কে আসল কে নকল?
বোকা বানানো এসব ছবির একজন করে মানুষ হলেও অন্যটি রোবট! মানব আকৃতির এসব রোবট তৈরি করে সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি ইসুগুরু। গত এক দশক ধরে মানুষের অবয়বে রোবট তৈরি করে আসলেও সম্প্রতি তিনি তার নিজের ও তার পরিবারের সদস্যদের মতো দেখতে রোবট তৈরি করেছেন। যেগুলি দেখতে তাঁদের পরিবারের লোকদের মতো হুবহু। তাঁরা শুধু দেখতে এক নয়, কথা বলা থেকে সবকিছুই করতে পারে একজন মানুষের মতো!
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই রোবট বিজ্ঞানী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ২০০১ সালে রেপ্লি কিউ১ দিয়ে প্রথমে মানব আকৃতির রোবট তৈরি করেন। ওই সময় রেপ্লি কিউ১ ছিল তার মেয়ের অবয়বে। এরপর তিনি ২০০৫ সালে রেপ্লি কিউ১এক্স নামে একটি পরিপূর্ণ নারীকে সামনে নিয়ে আসেন। কিন্তু এসব রোবট কাজ করতে পারলেও কথা বলতে পারত না। কথা বলার জন্য তিনি শুরু করলেন ইন্টেলিজেন্স রোবাটিক মেকানিক্স নামে একটি প্রকল্প। মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর যন্ত্র কৌশল নিয়ে আসার জন্য তিনি নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যান। কয়েক বছর পর অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তির সূচনা হলে তার কাজের মাত্রা একধাপ বেড়ে যায়। শুরু হয় রোবটকে কথা বলানো।
৪৬ বছর বয়সী এই অধ্যাপক কয়েক ডজন রোবট তৈরি করেন। সিলিকন রাবার আর শক্তিশালী তড়িৎ কৌশলকে কাজে লাগিয়ে স্ত্রীকে হুবহু রোবটের রূপদান করেন। আর এই রোবটই তার ঘরে স্ত্রীর মতো আচরণ করে বলে জানান তিনি। কালো চশমা ও কালো পোশাকের ভক্ত এ অধ্যাপক গত বছরের শুরুতে নিজের অবয়বে আরও একটি রোবট তৈরি করেন। যেটি কিনা তাঁর নির্দেশে চলে। এমনকি, তাঁর অবর্তমানে ওই রোবটটি তাঁর কাজ করে দেয় বলেও দাবি তাঁর। এরপর পর আরও একটি রোবট তিনি তৈরি করেন। আধুনিক প্রযুক্তিকে এমনভাবে রোবটগুলিতে কাজে লাগানো হয়েছে যে দুটি রোবট দুজন দুজনের সঙ্গে কথা বলতে পারে। যদিও সম্পূর্ণটাই এক্ষেত্রে সেন্সর এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয় বলে জানিয়েছেন ইসগুরু। তাঁর মতে, আগামিদিনে রোবট মানুষের অর্ধেক কাজ কমিয়ে দেবে। একই সঙ্গে বিশ্বের উন্নতিতে আরও কাজে লাগবে রোবট।