আজিজ কাজল এর একগুচ্ছ কবিতা

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের উত্তাল আর ছোট বড়ো নদীর বাঁকা-বর্ণিল স্রোত; ছায়া ঘেরা, মায়া ঘেরা পাহাড়ী জনপদের বিচিত্র অনুষঙ্গ- আস্তে আস্তে লেখক বানিয়েছে আজিজ ‍কাজলকে। বেড়ে উঠেছেন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের উত্তাল-ছোট বড়ো নদীর বাঁকা-বর্ণিল স্রোত, নিসর্গ প্রকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠা- ছায়া ঘেরা, মায়া ঘেরা পাহাড়ী জনপদের বিচিত্র অনুষঙ্গে। তাঁর পিতা : আব্দুল হাকিম, মা: রাবেয়া বেগম। শিক্ষা: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। স্নাতকোত্তর। পেশা: শিক্ষকতা। টেকনো-সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চট্টগ্রাম। জন্মস্থান : কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানার টইটং গ্রামে। ১৯৯৬ সাল থেকে ছড়া ও কবিতা দিয়ে লেখালেখি শুরু। দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রকাশিত লিটলম্যাগ, জাতীয় দৈনিকসহ চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে কবিতা, প্রবন্ধ প্রতিবেদন, সাক্ষাৎকার প্রকাশ। প্রিয় বিষয় কবিতা এবং প্রবন্ধ। ‘দৈনিক পূর্বকোণ’ পত্রিকায় রোববারের টুকিটাকি পাতায় মুক্ত সংলাপ “এই ম‍ূহূর্তে কী ভাবছেন” শিরোনামে (২০০৪ – ২০১২) একটি জনপ্রিয় সাক্ষাৎকার প্রকাশের মাধ্যমে দীঘর্দিন ফ্রীল্যান্স সাংবাদিকতাও করেছেন। সম্পাদনা : যৌথ সম্পাদনা করেন- ছোট কাগজ ‘ক্ষরণ’, ‘জলছবি’, ‘তীর্থ’, ‘অরণী’। কাব্যগ্রন্থ : ‘সমতট’  ২০১৩-একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়, প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘এ পালের জোছনা প্রহরে’।

birds-meeting

হলুদ পাখির ওড়ালে

তোমরা হয়তো এভাবে টিকে যাচ্ছো
কিন্তু রেখে যাচ্ছো সন্তাপ অগণ্য;
কামনা করছো নিরলে-স্নায়ুতে
বহুজাত অসুখের ছটা;
প্রকৃতির এই হাওয়া-চাওয়া
যাপনের রঙ্গ বাজাও
তুমি সরস সুখদে-
দুর্বীনিত মানুষেরা প্রতিদিন হারিয়ে ফেলছে তার
সহজাত রঙ, পাখার পালক।
তোমরা হয়তো এভাবে টিকে যাচ্ছো,
কিন্তু রেখে যাচ্ছো সন্তাপ অগণ্য!
সন্মাগর্

সিদ্ধার্থ সাহসে কতো শতাব্দীচেতনা
পাড়ি দিয়ে এসেছি।
আমাদের আঁটচালা ঘরে
এখন বাউরীবাতাস রূদ্রক্ষয়।
যেদিন তোমার পায়ে
লুটিয়ে চুমুর প্রভু ছিলাম!
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কাজও
প্রায় সম্পন্ন হচ্ছিল…
আজো সেই অভিসন্তের বোঝা বয়ে চলেছি-
আমাকে আরো ঘুমুতে দাও।
নিরলে নিষুতি

এখন পাই শুধু কিছু অহম আর কথার ধ্যান।
এই শতাব্দী-চেতনার খোলনলচে
পাল্টে ফেলার সুযোগ পেয়েও চোখ বুযে আসি।

প্রজাপতির পাখায় রঙ ধরাবো বলে
সেই যে মুগ্ধ পাঠের নির্মাণ!
এত সহজ হবে না জেনেও
লালমারা সেই দিনের গাঢ় পেরিয়ে
ছড়ার বিরল বাঁকে পুটি
মাছের বেদনা হয়ে ফিরে আসে।

মানুষ কীভাবে সময়কে নিমার্ণ করে?-

শতবছরের ইতিহাস পাড়ি দিয়ে যাঁরা
বেধেছিল গান বহু আগের আচার-ঝলমে।
এই জতুগেহ

বূ্যহ চেপে বেরিয়ে এসেছে
খনিজ কালো রক্তের  প্রসবণ
কীসের ওঙ্কারে ছুড়েছো পেট্রোল অন্ধকার
কৃষ্ণ বিবরে ছড়িয়ে দিয়েছো আশা।
পতী হারা, স্বপ্নভূক মমিতার সিঁথী এখন
রক্তরোদের আলো- তছরূপ।
অধীর পৃথিবী নিভু হয় প্রশ্নহীন নিজর্নতায়-

আমার স্নায়ুচাপের তজর্নী দেয় ওঙ্কারে হুঙ্কার!
মাতাল মাতঙ্গে

ঢলু অন্ধকার লাল জোছনা
নিয়ে যাচ্ছে তোমার শ্বপ্ন
আয়না,রিবন ফিতা,ডোরাকাটা
সরল মাথার কাঁকড়া-ক্লীপ।
কি অদ্ভূতুড়ে আধার!
গোয়াল ঘর,সবজি ক্ষেত,
বুড়া বিমার মানুষটির সেবায় পড়লো টান!

আসছে রুপালী নাগরিক
হাজারো ঝাড়বাতির আঙুরে জলোপনা
জিউভা খিছানো শক্ত লাল দৌঁড়-
তোমরা যার নাম দিয়েছো
সভ্যতা-যাপন

কতো বড় নিসঙ্গ এই মানুষগুলো
একেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ
একেকটা আয়নাজোড়া অন্ধকার
শ্বপ্নসাহস টুকু নীলঘন দীপ-
আবারো চমকে চপলা
তোমার পাথুরে হৃদয়!