পূবালী ব্যাংক নেবে ৩২৫ কর্মকর্তা

সিনিয়র অফিসার, অফিসার ও জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পূবালী ব্যাংক। আবেদন করা যাবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।

সিনিয়র অফিসার ৫০, অফিসার ১২৫ ও জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে ১৫০ জনসহ মোট ৩২৫ জন কর্মকর্তা নেবে পূবালী ব্যাংক। সিনিয়র অফিসার পদে কমপক্ষে ৩টি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণিসহ যেকোনো বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি কিংবা গ্রেডিং পদ্ধতিতে কমপক্ষে ৩টি পরীক্ষায় ৫ স্কেলে ৩.৫০ অথবা ৪ স্কেলে ৩.০০ জিপিএ থাকতে হবে। অফিসার পদে কমপক্ষে ২টি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণিসহ যেকোনো বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স অথবা কমপক্ষে ২টি পরীক্ষায় ৫ স্কেলে ৩.৫০ অথবা ৪ স্কেলে ৩.০০ জিপিএ থাকতে হবে। জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে আবেদনের যোগ্যতা স্নাতক। উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে এ পদে আবেদন করা যাবে না। গ্রেডিং পদ্ধতিতে এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত কমপক্ষে জিপিএ ২.৫০ পেতে হবে। সিনিয়র অফিসার ও অফিসার পদে কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ বা জিপিএ ২.৭৫-এর নিচে থাকলে এবং জুনিয়র অফিসার পদে কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকলে আবেদন করা যাবে না। কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে। ৩১ আগস্ট ২০১৫ তারিখে বয়সসীমা ৩০ বছর। তবে পূবালী ব্যাংকে কর্মরত এবং তাদের সন্তানদের বয়সসীমা ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম

অনলাইনে www.pubalibangla.com/career.asp অথবা www.pubalibankbd.com/recruitment/Vacancy.aspx লিংকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর অ্যাপ্লিকেন্টস আইডিসহ টাকা জমা দেওয়ার রসিদ দেওয়া হবে। রসিদটি প্রিন্ট করে ৩০০ টাকাসহ পূবালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দিতে হবে। অনলাইনে আবেদন ও টাকা জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০ অক্টোবর বিকেল ৪টা। চাকরিরত প্রার্থীদের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। একাধিক পদে আবেদন করা যাবে না।

নিয়োগ প্রক্রিয়া

পূবালী ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত একই দিনে ১০০ নম্বরের বহু নির্বাচনী এবং ১০০ নম্বরের লিখিতসহ মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। দুই ঘণ্টা সময়ের মধ্যে বহুনির্বাচনী অংশে এক ঘণ্টা এবং লিখিত অংশে এক ঘণ্টার পরীক্ষা হয়। প্রত্যেক পদের প্রশ্নপত্র ভিন্ন। প্রশ্নের মানবণ্টনও নির্দিষ্ট নয়। বহু নির্বাচনী পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি, সাধারণ জ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রশ্ন থাকে। সব বিভাগ থেকে প্রশ্ন নাও আসতে পারে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোনো পরীক্ষায় ইংরেজি, গণিত, অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি ও সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন এলেও বাংলা থেকে প্রশ্ন দেওয়া হয়নি। তবে অধিকাংশ পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন থাকে। লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত থেকে।

বাংলা

বহু নির্বাচনী পরীক্ষায় সাহিত্য ও ব্যাকরণ থেকে প্রশ্ন আসে। ব্যাকরণ থেকে কারকবিভক্তি, ধাতু, প্রকৃতি প্রত্যয়, সমাস, পদপ্রকরণ, স্বরসংগতি, ধ্বনি, বর্ণ, বানানশুদ্ধি থেকে প্রশ্ন থাকে। ব্যাকরণের বিভিন্ন বিষয় থেকে সংজ্ঞা, উদাহরণ জাতীয় প্রশ্ন করা হয়। বেশি প্রশ্ন থাকে এককথায় প্রকাশ, বাগধারা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, প্রতিশব্দ, পারিভাষিক শব্দ এবং শুদ্ধ ও অশুদ্ধ শব্দ নির্ণয় থেকে। একই ধরনের ৪ থেকে ৫টি প্রশ্ন থাকতে পারে। সাহিত্য অংশে কবি ও সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম, জীবনী ও ছদ্মনাম, সাহিত্যের বিখ্যাত চরিত্র ও ঘটনা থেকেই বেশির ভাগ প্রশ্ন করা হয়।

লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নোত্তর লিখন বা রচনা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। গতানুগতিক বিষয়ের চেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ওপর জোর দেওয়া হয়। রচনা ও অন্যান্য প্রশ্নের ক্ষেত্রে অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। থাকতে পারে দরখাস্ত বা প্রতিবেদন লিখন। অনেক সময় লিখিত পরীক্ষায় প্রত্যেক প্রশ্নোত্তরের জন্য নির্ধারিত জায়গা বরাদ্দ থাকে। বরাদ্দকৃত জায়গার মধ্যে মূল বিষয়গুলো উপস্থাপন করে লেখা শেষ করতে হয়।

ইংরেজি

পূবালী ব্যাংক সিলেট স্টেডিয়াম শাখার সিনিয়র অফিসার শামীম হারুন জানান, বাংলা অংশ বাদে পুরো প্রশ্ন ইংরেজিতে করা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষায় Right Form of Verbs, Parts of Speech, Tense, Number, Preposition, Voice, Completing sentence থেকে প্রশ্ন থাকে। Analogy, Phrase and Idioms, Correct Spelling, Synonym, Antonym থেকে বেশি প্রশ্ন আসে।

লিখিত অংশে Short Essay, Paragraph, Translation থেকে প্রশ্ন থাকে। Short Essay, Paragraph-এর জন্য ইংরেজিতেও সাম্প্রতিক বিষয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বিষয়ে ধারণা রাখতে হবে এবং ইংরেজিতে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ের অভ্যাস থাকলে ভালো করা যাবে। Passage Translation-এ ভাবানুবাদ করতে হবে।

গণিত ও অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি

পূবালী ব্যাংক সাভার শাখার জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) মো. শাহেদ জানান, পাটিগণিতে ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, লসাগু, গসাগু, সুদকষা, বীজ গণিতের বিভিন্ন সূত্রের প্রয়োগ, বহুপদী, মেট্রিক্স এবং জ্যামিতির সূত্র থেকে প্রশ্ন আসে। মানসিক দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য বহু নির্বাচনী অংশে অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটির প্রশ্ন আসতে পারে। হুবহু বইয়ের সমস্যা সমাধানের চেয়ে বিসিএস এবং বিভিন্ন ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করাটাই বেশি কাজে দেয়। টেকনিক প্রয়োগ করে অল্প সময়ে অঙ্ক করার অভ্যাস থাকতে হবে। বহু নির্বাচনীতে শুধু শর্টকাট নিয়মে সমাধান করে ফল দাগিয়ে দিলেই হয়। লিখিত অংশেও সহজ ধাপ অনুসরণ করে গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সাধারণ জ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ভৌগোলিক অবস্থান, সম্পদ, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, মুদ্রা বিনিময়নীতি, অর্থনীতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানপ্রধান, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অ্যাব্রিভিয়েশন বা নামের পূর্ণরূপ থেকে প্রশ্ন থাকে। প্রশ্ন আসতে পারে সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে। ইন্টারনেট, কম্পিউটারসহ তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয় থেকেও প্রশ্ন করা হয়।

সহায়ক যত

বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীর ব্যাংক রিক্রুটমেন্ট গাইড ও ব্যাংক জব সলিউশন পাওয়া যায়। বাংলা ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্য বই এবং ইংরেজি প্রস্তুতির জন্য জিআরই, জিম্যাট বই পড়তে হবে। গণিতে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির বোর্ড প্রণীত পাঠ্য বই, ব্যাংক ম্যাথ সলিউশন, অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটির জন্য আইবিএ, এমবিএ গাইড বই সহায়ক হবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য আজকের বিশ্ব, নতুন বিশ্ব, এমপিথ্রি, জ্ঞানকোষের পাশাপাশি পড়তে হবে তথ্যভিত্তিক মাসিক ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা।

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা

নিয়োগপ্রাপ্তদের ঢাকার বাইরের কার্যালয়ে পদায়ন করা হবে। সব পদেই এক বছর প্রবেশনারি হিসেবে থাকতে হবে। প্রবেশনারি সময়ে সিনিয়র অফিসার পদে ৩০ হাজার, অফিসার পদে ২৫ হাজার ও জুনিয়র অফিসার ক্যাশ পদে ২০ হাজার টাকা মাসিক বেতন দেওয়া হবে। প্রবেশনারি মেয়াদ শেষে নির্ধারিত স্কেলে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। সূত্র : কালের কণ্ঠ