জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শুভ জন্মদিন আজ

আজ জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শুভ জন্মদিন। অনেক অনেক শুভেচ্ছা। তিনি ১৯৮২ সালের ২ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার সদর উপজেলার মুন্সেফপাড়ায় নিজেদের বাগানবাড়ি চৌধুরী মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম নাননু চৌধুরী (মৃত্যু ১৯৮৩, ২১ অক্টোবর), মা বেগম আম্বিয়া চৌধুরী। দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। তিনি ১৯৮৭ সালে নানাবাড়িতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুরের শাহজাদাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ডানপিটে স্বভাবের কারণে বছর পেরুনার আগেই (৮৮’র বন্যার সঙ্গে সঙ্গে) স্কুল ছাড়েন। পরে ১৯৯১-৯২ সালে প্রিয় ছট মামার মৃত্যুর সংবাদে ঢাকায় আসেন। পরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি মাদরাসায় বড় ভাইয়ের কাছে বেড়াতে আসেন। সেখানকার এক শিক্ষকের কাছে অল্প সময়ে আদর্শলিপি মুখস্ত করে দেখিয়ে অবাক করে দেন। সেই শিক্ষকই তাকে পড়াশুনায় উৎসাহ দেন। তিন-চার মাসের পড়াশুনায় মাদরাসার প্রথম শ্রেণীর সিলেবাস শেষ করেন জুবায়ের। ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষায় র্সবচ্চ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দেন। দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণীতে অবাক করা ফলাফল করেন। পরে চতুর্থ শ্রেণীতে উঠার পর তার আনুষ্ঠানিক ভর্তি সম্পন্ন করা হয়। এর আগ পর্যন্ত তিনিই সব শ্রেণীতেই রোল নম্বর ১ অধিকার করেন। দাখিল পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা থাকে।  কিন্তু ১৯৯৮ সালে মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল না পরীক্ষায় না দিয়েই ওই মাদরাসা ত্যাগ করেন। আবার শিক্ষাজীবনে ভাটা পড়ে। অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের পর ২০০৩ সালে তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি, ২০০৫ সালে সরকারি বাঙলা কলেজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
পরে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে ঢাকা কলেজে বিজ্ঞানের কোন বিষয়ে ভর্তি না হয়ে বাঙলা সাহিত্যে পড়ালেখার সিদ্ধান্ত নেন। সেখান থার্ড ইয়ার পর্যন্ত পড়াশুনার পর সেশনজটে অতিষ্ঠ হয়ে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙলা সাহিত্যে ভর্তি হন। ২০১০ সালে বেসরকারি এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাঙলা সাহিত্য অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
পড়াশুনার ফাঁকে টিউশনি, ভর্তি কোচিং এ ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। ২০০৬ সালে দৈনিক দিনের শেষে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন নির্বাহী হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। সেখানে ভাল না লাগায় দেড় মাসের মাথায় চাকরি ছাড়েন। কিছুদিন পেশা বদল করে কাজ নেন উত্তরার একটি হাসপাতালে। পরে ২০০৭ সালে তিন হাজার টাকা বেতনে সাপ্তাহিক শিক্ষাবিচিত্রায় স্টাফ রিোর্টার হিসেবে যোগ দেন। সেই শুরু, এখন্ও সেই একই পেশায়। সাংবাদিকতা। নেশাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।
২০০৫ সালে দৈনিক দিনের শেষে, ২০০৭ সালে সাপ্তাহিক শিক্ষাবিচিত্রা, একই সময়ে ঢাকায় ভারতের তারা টিভিতে শিক্ষানািবশ হিসেবে কাজ করেন কিছুদিন। এর পর বিভিন্ন ছোট পত্রিকায় ও অনলাইনে কাজ করেন। ২০১২ সালের শুরুতে দৈনিক মানবকণ্ঠে স্টাফ রিোর্টার, ২০১৩ আোকিত বাংলাদেশ, সর্বশেষ ২০১৫ সালের শুরুতে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী দৈনিক আজাদীর ঢাকা ব্যুরোতে সিনিয়র রিোর্টার হিসেবে কাজ করছেন।
২০০১ সাল থেকে ন্ওল কিশর ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন।
২০১৪ সালে ১৪ এপ্রিল (পয়লা বৈশাখ) তিনি ফারজানা রহমান চোধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
তার পছন্দের রং সাদা-কাল। পছন্দের ফুল, কদম ফুল। পছন্দের খাবার  যেকোন হালাল বাঙলা খাবার। তবে ভর্তা, খিচুড়ি ও গরুর বুনা বেশ পছন্দ। অবসর কাটে আড্ডায়। জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে তিনি বলেন, মসজিদ ও গরীবদের কিছু দান করব আর সহকর্মীদের মিষ্টি খাওয়াব ভাবছি।