প্রেম, প্রতিভায় সহজাত শান্তনু চৌধুরী

তারুণ্যলোক প্রতিবেদক

995161_10151747114979223_1936147607_nশুরুতেই প্রশ্ন ছিল, আপনার প্রায় লেখাতে প্রেম ভরপুর কেনো ? জবাবটা যেনো ছিল ঠোঁটের কাছেই, ‘আমার ভেতর প্রেম টগবগ করে ফুটে বলেই হয়তো লেখাগুলো আসে প্রেম হয়ে। কোথায় প্রেম নেই বলুন। আদিকালের সৃষ্টি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সব সৃষ্টির মূলেই প্রেম। শরীরের সামান্য একটি বাঁক, সুক্ষè একটি কুঞ্চন, একটি রেখা, তিল, এক পলকে দেখা, চোখের ভঙ্গিমা, একরাশ চুল, ঠোঁট ফাটা হাসি নিয়ে যে অগাধ সাহিত্য রচিত হয়েছে তার হিসেব নেই। আমার মন ভালোবাসায় ভরপুর। ফুল ভালোবাসি, পাখি ভালোবাসি। ভর সন্ধ্যায় ডাকুকের বিচিত্র ডাক আমাকে আন্দোলিত করে। বৃষ্টির শব্দ আমাকে চঞ্চল করে। আর আমি ভালোবাসা ভালোবাসি।’

shantanu 1
এ নিঃশ্বাসে যিনি কথাগুলো বলছিলেন তিনি তরুণ জনপ্রিয় লিখিয়ে শান্তনু চৌধুরী। খানিকটা অভিমানী, জেদিও বটে! তবে স্বভাবজাত বিনয়ের আকাশে প্রায়শ ঢাকা পড়ে অভিমান আর জেদের মেঘ। অল্প সময়ে অর্জিত সাফল্যগুলোর সবটুকুর পিছনে তার জেদই কাজ করেছে বেশি। পাহাড়কে স্পর্শ করে করে বড় হয়েছেন তাই হয়তো খানিকটা উদার হয়ে মিশে যেতে পারেন সবার সাথেই। পাহাড়ের জনপদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার উত্তর ঢেমশা গ্রামে মধ্যবিত্ত দশটি  ছেলের মতো কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর। বাবার শাসন, মায়ের হাতের হলদি গন্ধ, কাদামাটি, বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, লুকিয়ে প্রেমপত্র লেখা, কখনো মার্বেল  খেলতে গিয়ে মারামারি। কিন্তু ক্লাসে নম্র, ভদ্র ও শান্ত। বাল্যকাল থেকেই পাহাড়, সাগর আর বৃষ্টির প্রতি দুর্বলতা। খানিকটা সখ্যতাও বলা যায়। তাইতো সুযোগ পেলেই ছুটে যান বান্দরবান, কক্সবাজার। সবুজ পাহাড় আর সমুদ্রকে ছুঁয়ে দেখতে। শান্তনু চৌধুরীর জন্ম ৭ ডিসেম্বর। বাবা ডা. অঞ্জন চৌধুরী (প্রয়াত) ও মা রুবি চৌধুরীর চার সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। ১৯৯৬ সালে  ঢেমশা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি, ১৯৯৮ সালে  তেজগাঁও কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ তম ব্যাচের দর্শন বিভাগ থেকে ২০০৩ সালে অনার্স ও একই বিভাগ থেকে ২০০৪ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পড়ালেখার প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ গুটিয়ে  ফেললেও স্বশিক্ষিত হওয়ার চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত। বিত্তবান না হয়ে চিত্তবান হতে বেশি আগ্রহ তার। অদ্ভুত সারল্য আর ভালোবাসায় ভরপুর তার মন। শান্তনু চৌধুরী কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিকতা দিয়ে। ছাত্রাবস্থায় ১৯৯৮ সালে প্রথম আলোতে প্রদায়ক হিসেবে শুরু। পওে দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চে, জনকন্ঠে,দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশে নিজস্ব প্রতিবেদক। একদিন উচ্চশিক্ষার্থে মেঠোপথ ছেড়ে যেমন পাড়ি দিয়েছিলেন শহুরে গন্ধে মাতবে বলে, তেমনি ঢাকায় পাড়ি দেওয়া সময়ের প্রয়োজনে। দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক সংবাদপত্র, রেডিও এবিসিতে বার্তা প্রযোজক এবং যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক হিসেবে  বেসরকারি টিভি চ্যানেল এসএ টেলিভিশনে কাজ করেন। বর্তমানে কাজ করছেন সময় টিভির যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক হিসেবে। কাগুজে, অন্তর্জালিক, শ্রুতিনির্ভ ও দৃশ্যমান সব মাধ্যমেই কাজ করেছেন শান্তনু।

shantanu
পাঠক নন্দিত বই লিখে বেশ সাড়া ফেলেছেন এই তরুণ। নিজের লেখনীর মধ্যে রোমান্টিকতাকে খানিকটা বেশি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। নিপুণ হাতের সুশ্রী লেখনী দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে এক জনপ্রিয় নাম শান্তনুু। তার লেখা কথা প্রসঙ্গে- বইটি বাংলাদেশের বিখ্যাত তারকাদের নিয়ে মজার ঘটনা।, তারার অন্তরালে বইটি একটি সেলিব্রেটি প্রকল্প। বীর চট্টলার সেলিব্রেটি। যারা একসময় চট্টগ্রামে কাটিয়েছেন তারা আছেন এই গ্রন্থে। রম্যলেখব আহসান হাবীব এই প্রসঙ্গে বলেছেন, এই তরুণ শুধু সেলিব্রেটিদের নিয়ে কাজ করে কেনো এটাও একটা রহস্য। তবে আমার ধারণা সে নিজেও একদিন সেলিব্রেটি হয়ে উঠবে দেখে ওর এই ‘সেলিব্রেটি প্রকল্প’।’ প্রথম চিঠি’র গল্পগুলো সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে। ভালোবাসার নাগরিক মানুষ শান্তনু চৌধুরী। উপন্যাস ‘ফিরে এসো’ প্রেমের বালুকাবেলার একটি জলছাপ মাত্র। জীবিকার তাগিদের পাশাপাশি সম্প্রতি শেষ করেছেন আরো একটি জীবনঘনিষ্ট উপন্যাস। উপন্যাস শেষ করে শান্তনু চৌধুরী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, রাস্তায় রাস্তায় একা একা হাঁটা তার পুরনো অভ্যাস। সেদিনও তিনি সেটাই করেছেন। এই উপন্যাস তার আগের সৃষ্টিশীলতাকেও ছাড়িয়ে যাবে বিশ্বাস ফেসবুকেও জনপ্রিয় এই তরুণ তারকার।