সাহিত্যের দীর্ঘপথটি ধীরে ধীরে হেঁটে যেতে চান রিপনচন্দ্র মল্লিক

তারুণ্যলোক প্রতিবেদক

রিপনচন্দ্র মল্লিক। এই সময়ে বাংলাদেশে সাহিত্য চর্চায় যে কজন গুটি কয়েক তরুণ গল্পলেখক সিরিয়াসলি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে ছোটগল্প লিখছেন, তিনি তাদের মধ্যে একজন। তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘কাঠপরানের দ্রোহ’ দিয়েই বাংলা ভাষার দায়িত্বশীল পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই অল্প সময়েই তার লেখা বেশ কিছু ছোটগল্প ইংরেজিতে রুপান্তর হয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। দারুণ আশাবাদী এই গল্পলেখক যেতে চান বহুদূর। তিনি বলেন, ‘সাহিত্যের যে শাখায় তিনি কাজ করতে চান, এই শাখার পথটি অনেক দীর্ঘ। এই দীর্ঘ পথটি তিনি ধীরে ধীরে হেঁটে যেতে চান।’
তিনি তার গল্পে আমাদের মাটিতে প্রোথিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আনন্দ-বেদনা-দ্রোহের বোধ নিবির মমতায় ফুটিয়ে তুলছেন। অন্তরে অনুরণিত নানা মাত্রিক অনুভবগুলি সরল বাক্য বিন্যাসে তার গল্পে রূপ নেয়। গল্পকে এগিয়ে নেবার সহজাত ক্ষমতা এ লেখকের বেশ প্রবল। তার কোনো গল্পের যাত্রায় চলমান হাহাকার, মায়াবি দীর্ঘশ্বাস পাঠককে গল্পের চরিত্রের ভেতরে নিমজ্জিত করে রাখে।
গল্পলেখক হবেন, এই চিন্তা কখন মাথায় আসলো জিজ্ঞেস করতেই তিনি ঠোঁটে প্রজাপতির ডানার মতো রঙ্গিন স্বপ্ন মাখানো হাসি ঝুলিয়ে বললেন,‘আসলে আমি যে গল্পকার হবো, এই স্বপ্ন আমার বুকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই বুনেছিলাম। যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, তখন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাদারীপুর শাখার কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত হই। বুঝতেই পারছেন, তখন ক্লাস সিক্সেই বনফুল, জিম করবেট, জুলভার্ন, রবার্ট লুইস স্টিভেনসন আরো অনেক বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্যের কালজয়ী লেখকদের বইয়ের সাথে পরিচিত হতে থাকি। ওই বয়সেই মাঝে মাঝে ভাবতাম, ইস আমার লেখাও যদি বইয়ে ছাপা হতো। মূলত তখন থেকেই গল্পলেখক হবো, এই চিন্তা মাথায় কাজ করছিল।’
গল্পকার রিপনচন্দ্র মল্লিকের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘কাঠপরানের দ্রোহ’ এবছরের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটির প্রকাশ নিয়ে গল্পলেখক বললেন, ‘আমি বিজ্ঞাপন দেখে দেশ পাবলিকেশন্সে ‘কাঠপরানের দ্রোহ’ পান্ডুলিপি পুরস্কারের জন্য পান্ডুলিপি জমা দেই। আমাকে অবাক করে দিয়ে আমাকে ছোটগল্পের জন্য দেশ পান্ডুলিপি পুরস্কার দেওয়া হয় এবং দেশ পাবলিকেশন্সই বইটি প্রকাশের দায়িত্ব নেয়। এর আগেই আমার এই গ্রন্থের ‘সুখনগরে’ নামের গল্পটির জন্য আমাকে ‘সুনীল সাহিত্য পুরস্কার’ দেওয়া হয়।’-বললেন এই গল্পলেখক। তিনি বেঁচে থাকার জন্য পেশাগত কাজ ছাড়া বাকী জীবনটা পড়া ও লেখার মধ্যেই নিজেকে নিমজ্জিত রাখতে চান। ইতোমধ্যেই তার লেখা ‘কাঠপরানের দ্রোহ’ ও ‘আত্মপরিচয়’ ছোটগল্প দুটি ইংরেজি ভাষায় রুপান্তর হয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। রিপনচন্দ্র মল্লিক সবার ভালোবাসা ও স্নেহে সাহিত্যের এই দীর্ঘ পথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান।

12071466_880375505372096_1468995043_n