শখ মেটাতেই অন্ধ হলেন জুয়েল

ছেলেবেলা থেকেই শখ ছিল সে অন্ধ হবে। এমন এমন আজব শখ সারাক্ষণ ঘুরত তার মাথার মধ্যে। নিজের শখ পূরণে তাই চোখে ড্রেন পরিষ্কার কররা কেমিক্যাল চোখে ঢেলে অন্ধ হয়ে যায় ২১ বছরের জুয়েল। আর তাতেই সে ভীষণ খুশি। দৃষ্টি ফেরানোর আর কোনও ইচ্ছাই নেই তার।

বর্তমানে বছর ৩০ -এর জুয়েল তাঁর প্রেমিক মাইকের সঙ্গে একটি ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করছে। তাঁর প্রেমিকও অন্ধ। জুয়েল জানিয়েছেন, তাঁর ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল যে তিনি একদিন অন্ধ হবেন। ২০০৬ সালে তাঁর সেই স্বপ্ন সত্যি হয়। তাঁর এই মানসিক রোগের নাম ‘বডি ইনটেগ্রিটি আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার (বিআইআইডি)। এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে তাঁর চোখ নষ্ট করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ-উপরোধ করেন। দয়া পরবশ হয়ে রাজিও হয়ে যান এক চিকিৎসক। তিনিই কয়েক ফোঁটা কেমিক্যাল ঢেলে দেন জুয়েলের চোখে। এমনকী চোখে দিতে গিয়ে খানিকটা মুখও পুড়েও যায় তাঁর।

 ডেইলি মেল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুয়েল জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টা খুবই কষ্টকর ছিল। প্রায় ছ;’মাস ধরে একটু একটি করে অন্ধ হয়ে যায় তাঁর চোখ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিকিৎসকরা তাঁর দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু লাভ হয়নি। তাঁর ডান চোখে গ্লুকোমা হয়ে যায় আর বাঁ চোখটাই বাদ দিতে হয়।

জানা গিয়েছে, এটাই ছোটবেলা থেকে একমাত্র শখ ছিল জুয়েল শাপিং-এর। একসময় তিনি সূর্যের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বসে থাকতেন। যাতে তাঁর চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ১৮ বছর বয়স থেকেই চোখে মোটা কালো সানগ্লাস পরা শুরু করেন। এমনকী ব্রেল (অন্ধদের লেখার পদ্ধতি) রীতিমত অভ্যাস করেন তিনি। এরপর ২১ বছর বয়সেই মাথায় পোকাটা সারাক্ষণ ঘুরতে থাকত। তারপরই কাজটা সেরেই ফেলেন তিনি। না, তাঁর কোনও আফসোস নেই। তিনি মনে করেন, তাঁর জন্ম থেকেই অন্ধ হওয়া উচিৎ ছিল।

সূত্র : kolkata24x7.com