রায়হান উল্লাহ’র একগুচ্ছ কবিতা

2

 

রায়হান উল্লাহ। জন্ম ও বেড়ে ওঠা শিল্প-সংস্কৃতির রাজধানী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিতাসের জল ছুঁয়ে হাঁটছেন অজানায়। একটি জীবনের বিনিময়ে হতে চান কবি। সংখ্যা বা প্রচার নয়, মানে বিশ্বাসী এ কবির ধ্যানে-জ্ঞানে কাব্য। আপাত পেশা সাংবাদিকতা।  নগর, প্রকৃতি ও ইহজাগতিক নানা বিষয় তাঁকে ভাবিত করে। এসব থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতেই হাঁটছেন কাব্যজগতে, লিখছেন কবিতা।

 
জীবন-১

এক রহস্যের বেড়াজালে
আটকে যাবার নাম জীবন
রহস্য রহস্যই থেকে যায়
তখন দেখি দুয়ারে দাঁড়িয়ে মরণ
তবে কেন আসা যাবার মেলা
প্রকৃতির সৃষ্টি ও ধ্বংসের খেলা

একান্ত

ইয়ত্তাহীন অনেক কিছুই
হারিয়ে গেছে
বেধের ভাবনায়
অন্তরালে থাকে সবই
সুদূরের ছায়ায়
ছায়া-কায়া একাকার
অস্পৃশ্যকে ছোঁয়াই
রূপেই মাতালো পাখি
হেই হারাই
অস্পৃশ্যে তোমাতে ডানা
তোমার সুরে মেলাই
নীলিমার নীলে গেছি
চন্দ্রাহত হয়েছি
তোমাকে পাবার আশায়
তাতেই ফলাফল
বিপরীতে কোলাহল
সরব মাতোয়ারা
ইঙ্গিত ইশারা
জেনেই তোমাতে যাওয়া
অস্পৃশ্যে তোমাকে পাওয়া
কুঁড়ানো যত
তাই একান্ত

10470935_864926180203165_6987466624185592308_n

জীবনের মানে

মাঝরাতের নীরবতা ভাঙছে
বৃষ্টির ক্ষুদ্র জলকণা
আর মেঘের গুরুগুরু ডাক

কতোটা জল ভূমিতে গড়ালে
আকাশ হেসে উঠে
তা কেউ জানে না

কতোটা ভুল সময় পেরোলে
মানুষ হয়ে যায় নির্বাক
আমি তো বুঝি না

অনেক আশার গাঁথুনির মালা
এ জীবন
ভুল পথে বৃথাই মানুষের
জীবন অন্বেষণ

শিরোনামহীন-৫

মুঠো মুঠো লাগামহীন দুঃখ পথ
শূন্য বায়ু ছায়ারেখায় জয় রথ
চেনা চেনা মায়ারেখায় কর্ণ ফাঁদ
সাদা কালো সীমারেখায় মম হাত
আলো থালো ভালোবাসার মায়া জাল
ঢলে দলে দিনানিপাতে দেখ ভাল
মূলে তুলে মরণশীল কথা দান
রীতে হিতে যতনশীল কায়া গান
কবে যবে ঝলকানিতে সাদা পাঠ
মম চিতে বিশেষায়িত ভরা মাঠ
গত যত বাধনহারা ভাব লেশ
শত নত তীলকরেখা বাহ বেশ

বিমূর্ত শীৎকার

নগর ও মানুষ অক্সিজেনে দীর্ঘায়ু
কী লিখব প্রেমের সংলাপ
তবুও লিখতে হবে
হাত পাতা চারপাশ
মেলে ঢঙ্গালাপ
ঘোঙ্গানির বিমূর্ত শীৎকার
বিচ্ছিন্ন মায়াটান
উচাটন মায়া গেঁথে
হাওয়াগাড়ির গোধূলি ভেদ
কায়াচর শিকড় ছেদে
ছায়ারেখাই ঠিকুজি
দোদুল্যমান বাহনে
বিশ্বাসের বোঝাপড়া
বর্ষণাহত এপিটাফ
তোমার তরে…

শিরোনামহীন-৪

চারপাশে বৈরী বাতাস
ছুটছে হাওয়া গাড়ি
গন্তব্য আগামীর
ছলাকলা ভূলুণ্ঠিত
বিশ্বাসের মন্থনে
কারুকাজের সজ্জায়
বিমূর্ততার অভাববোধ
রকমারি বাহন
ঘূণের লক্ষ্যবস্তু
কীইবা আর মিলে
মূলহীন অর্চণায়
ব্যঙ্গাত্মক ফলাফল
তারপরও যাপন
লক্ষ্যের দিকেই
সব পথ
বিন্দুর বাস্তবতায়
সিনায় সিনায়
তোমারি ঝংকার
বাতাস শনশন
মুকুলের ঘ্রাণে
বর্ষিত আক্ষেপ
সহজ ব্যাপ্তিতে
সযতন বিক্ষেপ
মিটিমিটি কামনায়
রিনিঝিনি নিক্ষেপ
চর্বিত সীমানায়
আচমকা ভ্রƒক্ষেপ
গোধূলির সীমারেখায়
সব সুরে
কামনার প্রতিধ্বনি
তখনই বাতাস
লুটিয়ে ঝাপটায়
মেঘের দেশে
অফুরান কাল
তারপর…
তার আর পর নেই…
আলো…
লুটালো…

নায়িকারা কি জানে?

নায়িকারা কি জানে
সময়ের বাঁকে খোঁজ চলে
কেমন তাদের হালচাল
সময় কোথায় কার হয়ে যায়
মুখের রেখার ত্রিকোণমিতি
কিছুই দৃষ্টি এড়ায় না

কাজ ও সঙ্গহীনের
কর্তব্য এমনই
বুঝলাম মানলামও
বুঝানো যায়নি

সময় গড়িয়ে যায়
দূরত্ব ব্যাকুল
পালিতর দায়িত্ব
ঠেকায় সব বর্ণহীন
ঠেকেছি ঠেকি রূপ ভিন্ন

ভালোবাসায় ঠকতেও হয়
এখানটাই সহমত
তাইতো নিখোঁজ

আশা-২

ঘর আমাকে টানে
মনে-প্রাণে
তবু কেন রাস্তায়
অজানায় হেঁটে যাই
কার আশায়

দুঃখ-৮

জীবন নামের নদীর জলে
পাই অনেক অবলম্বন
আশ্রয়ের ইচ্ছায় এগুতেই দেখি
সওয়ারি আরেক জন

3