মাঠ আর সেই দিগন্তজুড়ে কাশফুলের ছন্দের বারতা

কমল দাশ

2

আকাশে সাদা মেঘের ভেলা।

হাওয়ায় কাশফুলের দুলুনি।

যান্ত্রিক নগর জীবনে সব কেন যেন ভুলতে বসেছি। গ্রামের সেই মাঠ , সেই দিগন্তজুড়ে কাশফুলের ছন্দের বারতা..বারবার ছুঁতে ইচ্ছে করছে খুব। ঋতুচক্রের পরিক্রমায় শ্রাবণের অঝোরধারার পর আসে শরৎ।
শরৎ মানেই আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। চারদিকে শান্ত, সমাহিত ভাব। নদীর তীরে, বনের প্রান্তে শুভ্র কাশফুলের রাশি। মৃদু বাতাসে বিলের পানিতে কাঁপন। সাদা কাশফুল, শিউলি, স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না, আর দিনভর আলোছায়ার খেলা এসব মিলেই তো শরৎ! শুভ্রতার প্রতীক শরৎ!
চারদিকে মেঘ, বৃষ্টি আর রোদের খেলা। নেই মলিনতা। চারপাশে যেন নির্মল আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। প্রকৃতিতে চলে অনাবিল রঙের আনাগোনা।
ঋতু পরিক্রমায় বাংলা ভাদ্র আর আশ্বিন- এ দুই মাস মিলেই শরৎকাল। নীল আকাশে বাঁধনহারা সাদা মেঘের পদসঞ্চার জানান দিয়ে দেয় স্নিগ্ধ শরৎ এসেছে। নির্মল আকাশে শুভ্র মেঘের উড়োউড়ি সত্যিই মধুর। জীবনানন্দের রূপসী বাংলায় যেন নতুন প্রাণের ছোঁয়া লাগে। নব যৌবন বিকশিত হয় শরতের আকাশে।

শরতের প্রধান আকর্ষণ কাশফুল! নদীর তীরে বনের প্রান্তে কাশফুলের রাশি অপরূপ শোভা ছড়ায়। এ অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। গাছে গাছে শিউলির মন ভোলানো সুবাস। প্রাণে প্রাণে অনুভূত হয় শরতের ছোঁয়া। মেঘহীন আকাশে গুচ্ছ কাশফুলের মতো সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয় মন। চারপাশের শুভ্রতার মাঝে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি যেন আনন্দের বারতা নিয়ে আসে। দিগন্তজুড়ে সাতরঙা হাসিতে ফুটে ওঠে রংধনু।
প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ এ ঋতুর সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রিয়তমাকে। অনেকের মতে, শরৎকালে নাকি মনটা নেচে ওঠে অনেকটা উৎসবের নেশায়!

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গেয়েছেন :

‘শিউলী ফুলের মালা দোলে/ শারদ রাতের বুকে ঐ’। শরতের প্রথম প্রভাতে আজ
সেই শিউলিফুল ফুটবে, তার বিকশিত রূপ আর গন্ধ ছড়াবে বাতাসে।
আমোদিত হবে প্রকৃতি আর সেই সাথে প্রফুল্ল এবং উৎফুল্লচিত্ত
হয়ে উঠবে মানুষ এবং এই রসহীন নগরজীবনে যারা অভ্যস্ত
হয়ে পড়েছে, তারাও সচকিত হবে শরতের সুরভিমাখা নিমন্ত্রণে। সেই
কবে যারা পল্লির স্নেহসান্নিধ্য ছেড়ে জীবিকার তাগিদে ইট-পাথরের
বিরস কঠিন-কঠোর নগরযাপন শুরু করেছে, তারাও আজ
উপলব্ধি করবে : সত্যিই তো শরৎ এসেছে, আকাশে-বাতাসে তারই
সৌরভ, প্রীতিগন্ধময় আবেশ ছড়ানো দিন আজ।

3