কখন চাকরি বদলাবেন ?

তারুণ্যলোক ডেস্ক

সকালে উঠে কি রোজ মনে হয়, ‘উফ আবার সেই কাজের জায়গায় যেতে হবে’? তাহলে মনে হয় আপনার চাকরি বদলানোর সময় হয়ে গিয়েছে৷ এমনই কয়েকটি কারণ  জেনে নিন-

সবাই নয়, আমাদের মধ্যে মাত্র কেউ-কেউ ভাগ্যবান৷ কারণ, তাঁরা ঠিকঠাক সংস্থায় চাকরি করেন৷ ঠিকঠাক সংস্থায় অর্থাত্‍, কঠোর পরিশ্রম, পজিটিভ চেষ্টা এবং কাজের সুস্থ পরিবেশ তাঁদের কর্মজীবনে উন্নতির সহায়ক৷ দ্রুত তাঁরা উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে অনেক উপরে উঠে পড়তে পারেন এই সব সংস্থায়৷ আর বাকিরা? তাঁরা এমন সংস্থায় চাকরি করেন যেখানে হাজার পরিশ্রম সত্ত্বেও মাত্র একটি বা দু’টি ধাপ উঠতে পারেন৷ এ-রকম যাঁদের অবস্থা তাঁরা কিন্ত্ত ধরেই নিতে পারেন তাঁদের কেরিয়ার এক ‘ডেড এন্ড’-এ এসে পৌঁছে গিয়েছে খুব দ্রুত তাঁদের কর্মস্থল পরিবর্তন জরুরি৷
ঠিক এই ভাবনাই আজকের দ্রুত-গতির নতুন প্রজন্মকে সব সময় তাড়িয়ে বেড়ায়৷ এবং এই কারণেই তাঁরা নিত্য-নতুন কর্মস্থল বদল করতে থাকেন৷ একবারও ভেবে দেখেন না নদীর ওপারে কি সত্যিই তৃণভূমি এপার থেকে অনেক বেশি সবুজ? এটা কিন্ত্ত আগে দেখে নেওয়া প্রয়োজন৷ তাহলে প্রশ্ন হল, অপেক্ষা করতে-করতে যদি সময় পেরিয়ে যায়? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর যেমন নেই, তেমনই উত্তর নেই সেই প্রশ্নের যেটা হল, চাকরি পরিবর্তনের সত্যিই কোনও নির্দিষ্ট সময় রয়েছে?তবে, বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি ইঙ্গিত উল্লেখ করেছেন, যার যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে আপনি চাকরি পরিবর্তন করতেই পারেন৷

১) বর্তমান কর্মস্থলে আপনি কি সুখী? আপনার কি সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হয়, ‘আবার সেই কাজের জায়গায় যেতে হবে?’ প্রতিটি চাকরিই কিন্ত্ত ক্লান্তিকর, কিন্ত্ত কোনও কর্মক্ষেত্রে কাজ করাটাই যদি বিরক্তি এবং ক্লান্তিকর মনে হয়, তাহলে বুঝবেন এই কর্মস্থল পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে৷

২) আপনার কর্মস্থলটি আপনার বেশ মনের মতো৷ কিন্ত্ত আপনি রোজ টের পাচ্ছেন এই কর্মস্থলটি কিন্ত্ত একটি ডুবন্ত জাহাজ৷ ভেসে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্ত্ত সম্ভব নয়৷ এ-রকম অবস্থায় সংস্থাটি সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ার আগেই কর্মস্থল পরিবর্তন করুন৷

৩) আপনার বয়স কম৷ আপনি পরিশ্রমী৷ কিন্ত্ত, আপনি নতুন কিছু আর শিখবেন না৷ রোজ এক কাজ করে যেতে হচ্ছে, যেন কোনও অ্যাসেম্বলি লাইনের একটা অংশ আপনি৷ যদি নতুন কিছু শিখতে না পারেন, যদি থিতু হয়ে পড়েন-তখন চাকরি ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার পরিকল্পনা নিতেই পরেন৷

৪) অন্য সংস্থায় থাকা আপনার বন্ধুরা তেমন উন্নতি না হলেও, আপনার চেয়ে অনেক রেশি রোজগার করছেন৷ অথচ, আপনার রোজগার প্রায় কিছুই বাড়ছে না এবং পাশাপাশি উন্নতিও তেমন বলবার মতো কিছুই হচ্ছে না৷ পরিস্থিতি এরকম হলে সেটা চাকরি বদলের পক্ষে অনুকূল৷

৫) আপনি কাজে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন৷ কিন্ত্ত আপনি লক্ষ্য করছেন যে, যে-কাজ আপনি করছেন, তাতে বিন্দুমাত্র কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, কোনও নতুনত্ব নেই৷ তাহলে অচিরেই আপনি ‘বোরড’ হয়ে পড়বেন৷ গতানুগতিক, নিস্তরঙ্গ কর্মপরিবেশ আপনাকে ক্লান্ত করে তুলবে৷ সম্ভব হলে দ্রুত চাকরি-স্থল পরিবর্তন করুন৷

৬) যখন কাজে ঢুকেছিলেন তখন মনে হয়েছিল এই কাজের জায়গাটা যেন স্বর্গের মতো৷ আপনার বস, আপনার সহকর্মী সবাই যেন আদর্শ৷ কিন্ত্ত কয়েক বছর পর এখন মনে হচ্ছে বস থেকে শুরু করে সহকর্মীরা প্রত্যেকেই যেন ভিনগ্রহের মানুষ৷ এদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হয়ে উঠছে৷ কখনও-কখনও আপনার মনে হচ্ছে এঁরা প্রত্যেকেই আপনাকে অকর্মণ্য প্রমাণ করার জন্যে উঠে-পড়ে লেগেছে৷ এক্ষুনি চাকরি বদল করুন৷

৭) আপনি নিশ্চিত জানেন আপনার বিশেষ একটি কর্মদক্ষতা আছে, যা আপনার সংস্থায় প্রায় কারও নেই৷ এই দক্ষতার কথা আপনার সুপারভাইজার বা বস জানেন৷ কিন্ত্ত, আপনার সেই দক্ষতার এতটুকু কাজে লাগানোর কোনও ইচ্ছেই আপনার সংস্থার নেই, বরং আপনাকে সেই এক থোড়-বড়ি-খাড়া করে যেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত৷ এতে আপনার সংস্থার কতটুকু ক্ষতি হচ্ছে আপনি জানেন না, কিন্ত্ত আপনি বেশ বুঝতে পারছেন অনুশীলনের অভাবে এতে আপনার স্কিল বা দক্ষতায় মরচে পড়ে যাচ্ছে৷ এমতাবস্থায় চাকরি বদল করার কথা ভেবে দেখতে পারেন৷

কিন্ত্ত চাকরি ছাড়ার ব্যাপারে আজকের প্রজন্মের প্রবণতাই হোল, একের পর এক চাকরি ধরা আর ছাড়া৷ একে বলে ‘ক্রনিক শিফটিং’৷ এর ফলে আপনার কেরিয়ার রেকর্ডে কিন্ত্ত একটি গোপন লাল কালির দাগ পড়ে যেতে পারে৷ নতুন কর্ম-সংস্থার কর্তারা ভাবতেই পারেন সুযোগ পেলে কালকেই আপনি অন্য চাকরিতে চলে যাবেন৷ তাই এ-ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত হল, খুব সম্প্রতি যদি আপনি আগের চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে থাকেন, তবে অন্তত বছর দুয়েক থাকুন এই কর্মস্থলে, চাকরির বদল ঘটান তার পরে৷

পুরনো কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার আগে একটা দ্বিধা এসে আক্রান্ত করে৷ সেটা হোল, চাকরি ছাড়া উচিত হচ্ছে কিনা! এই যাব কি যাব না দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার পিছনে কাজ করে অনেকগুলি ফ্যাক্টর৷ নতুন কাজের জায়গাটা সত্যিই কি বর্তমান জায়গার থেকে ভালো? টাকা-পয়সা কম পেলেও এই জায়গার বস এবং সহকর্মীরা অত্যন্ত ভালো৷ এঁরা নিশ্চয়ই আহত হবেন যদি আপনি চাকরি ছেড়ে চলে যান৷ এই ভাবনায় আপনি আক্রান্ত হন৷ এরকম সময়ে নিজের হূদয়কে জিজ্ঞেস করুন এবং যে উত্তরটা পাবেন সেই মতোই কাজ করুন৷ তবে, নতুন সংস্থায় যাওয়ার আগে সেই সংস্থা সম্পর্কে সমস্ত খুঁটিনাটি জেনে, সিনিয়রদের সঙ্গে মত বিনিময় করে তবেই বর্তমান কর্মস্থল ছাড়ার কথা ভাববেন৷

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*