‘জেল থেকে বেরিয়ে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়েছি’

‘ওরা আমাকে কথা দিয়েছে, ‘অদম্য বাংলাদেশে’র মজার ইশকুল চলবে’

“কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। একটি ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে গেছে। তবে দমে যাইনি বরং দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছে আমাদের ‘অদম্য বাংলাদেশ’। যে শিশুদের নিয়ে কাজ করি তাদের সঙ্গেই মুক্তির উচ্ছ্বাস ভাগাভাগি করেছি ‘মজার ইশকুলে’। আর যে শিশুদের ঘিরে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিলো ওরাও এসেছিলো জেলগেটে”।
এভাবেই মুক্তির আনন্দ ও নিজেদের সংকল্পের কথা জানান অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আরিফুর রহমান ওরফে আরিয়ান আরিফ।আরিফ বলেন,“যা ঘটেছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাবো। সাংগঠনিক স্বচ্ছতায় আরও মনোযোগী এবং সাবধানী হবে ‘অদম্য বাংলাদেশ’।এক মাস কারাবাসের পর মুক্তির অনুভূতি প্রকাশে এই তরুণ বলেন,“জেল ভালো জায়গা নয়, সেখানে অপরাধী না হয়েও থাকতে হয়েছে ১ মাস ৮ দিন।

যা-ই হোক জেল থেকে বের হয়ে প্রথমে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়েছি,দেখেছি আলোকিত পৃথিবী। সে অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে শিশুদের নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছিলো তাদের কয়েকজনকে আমাদের জন্য জেলগেটে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ”।

‘অদম্য বাংলাদেশে’র ৪ স্বেচ্ছাসেবকের মুক্তির জন্য সরব হওয়া গণমাধ্যমকর্মী আশীফ এন্তাজ রবি গিয়েছিলেন জেলগেটে। সেসময় তার চোখে দেখা আরিফদের মুক্তির আনন্দ তুলে ধরে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,“ রায়ের কপি নিয়ে গেলাম জেলগেটে, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। ওরা বেরিয়ে আসলো। ক্ষোভ-আনন্দের অশ্রুধারা ঝরছিলো ওদের গাল বেয়ে।

আরিফ-জাকিয়াদের মুক্তির জন্য সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে খোলা চিঠি লেখা আশীফ এন্তাজ আরও বলেন,“পেশাগত কারণে অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় থাকলেও শুরুতে ওদের হয়ে পাশে দাড়ানোর মতো তেমন কাউকে পাচ্ছিলাম না। অসহায় বোধ করছিলাম। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে খোলা চিঠি লিখি। ফেসবুকে প্রকাশিত ওই চিঠিটি দশ হাজারের মতো শেয়ার হয়। অবশেষে চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোচরে আসলে তারা সহায়তার আশ্বাস দেন”।

আরিফদের সংকল্পের সমর্থনে আশীফ বলেন,“পুরো দেশ ওদের পাশে ছিলো,দেশের মানুষ ওদের জন্য রাস্তায় দাড়িয়েছে। দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ ওরা আমাকে কথা দিয়েছে, ‘অদম্য বাংলাদেশে’র মজার ইশকুল চলবে”।

গত ১২ সেপ্টেম্বর বনশ্রীর ‘সি’ ব্লকের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ১০ শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময়ই অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের আরিফুর, জাকিয়া, ফিরোজ ও হাসিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন উদ্ধার হওয়া এক শিশুর চাচা। ঢাকার হাকিম আদালত ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে পুলিশ রিমান্ডেও পাঠায়। সূত্র : channelionline.com