নিজেই নিজের শিক্ষক হওয়া যেতে পারে

জানার কোনও শেষ নেই৷ কিন্ত্ত কে জানাবে আপনাকে? না, আজকের এই ব্যস্ত জীবনে আপনাকে নিজে থেকে কেউ ‘শিক্ষা’ দেবে না৷ তাই সেলফ এডুকেশন সার্বিক উন্নতির অন্যতম হাতিয়ার৷ লিখছেন পৃথা দাশগুপ্ত

জানা বা শেখার কোনও শেষ হয়না৷ আর তা যে কোনও বয়সেই হোক৷ শুধুমাত্র শিক্ষক বা শিক্ষিকার মাধ্যমেই শিক্ষাদান নয়, আপনি নিজেও শিক্ষা লাভ করতে পারেন৷ এই স্ব-শিক্ষা বা সেলফ এডুকেশন মানে যে ছকে বাধা কিংবা সিলেবাসে দেওয়া কিছু পড়া, তা নয়৷ জীবনের প্রতি পদক্ষেপে নিজেকে উন্নত করার জন্যও প্রয়োজন হয় শিক্ষার৷ আর আপনি নিজেকে আরও কীভাবে উন্নত করতে পারেন তাই আজ আমাদের আলোচনার বিষয়৷
কৌতুহলী হওয়া
কৌতুহলী মন সর্বদা কিছু নতুনের সন্ধান চায়৷ নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করুন৷ যে বিষয় উত্‍সাহ রয়েছে, তা নিয়ে জানার চেষ্টা করুন৷ কারণ কোনও বিষয়ে জানার শেষ নেই৷ এবার যে কোনও আলোচনায় আপনি সেই বিষয়ে সংক্রান্ত কথা বলুন৷ তাহলে আপনার জ্ঞান যেমন একাধারে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন, তেমনই আলোচনার মাধ্যমে আপনারও অনেক তথ্যও জানা হয়ে যাবে৷

জ্ঞানকে সুসংহত করা
যে বিষয় আপনার জ্ঞান স্বল্প, সে বিষয় পড়াশোনা করতে হবে৷ মনে রাখবেন, যে বিষয় আপনি দুর্বল সে বিষয় নিজেকে মাস্টার প্রমাণ করা হল সবচেয়ে কঠিন কাজ৷ দৈনন্দিন জীবনে নিজের প্রতিদ্বন্দীর থেকে এগিয়ে থাকতে গেলে পড়াশোনা এবং জ্ঞান অর্জন করা খুব জরুরি৷ শুধু তাই নয়, আপনার চারপাশে যা ঘটছে সেই বিষয় অবহিত থাকাও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ৷ বোঝার চেষ্টা করুন আপনার চারপাশের মানুষ কী ভাবছে, কী জানতে চায় বা কী বলতে চায়৷ তার জন্য প্রয়োজন উপস্থিত বুদ্ধির৷ শুধু বই পড়লে চলবে না, ভাল ডকুমেন্টারি দেখা বা ইন্টারনেট ঘেঁটে বিষয়গুলি সম্পর্কে কী-কী আপডেট রয়েছে, সেটা দেখাও দরকার৷ কখনও কখনও মিউজিয়ামে গিয়ে ইতিহাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতে পারেন৷

নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা
কৌতুহলী হওয়ার অন্যতম পদ্ধতি হল নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা৷ কারণ কৌতুহল থাকলে আপনার জানার ইচ্ছা থাকবে, আর প্রতিনিয়ত জানতে থাকলে আরও নতুন কিছু শেখার চ্যালেঞ্জ আসবে নিজের মধ্যে৷ নতুন কিছু শিখতে গিয়ে হয়তো প্রথমে আপনার একটু অস্বস্তি বোধ হবে, কিন্ত্ত হাল ছাড়লে চলবে না৷ নিজেকে সব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে৷ নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে-করতে কখন যে আপনি নিজেকে উন্নত করে ফেলেছেন তা আপনি বুঝতেও পারবেন না৷

স্কুল বা কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে পড়া অব্যাহত রাখা
অঙ্ক, বিজ্ঞান বা ইতিহাস সম্বন্ধে স্কুলে পড়তে পড়তে যে ধারণা জন্মায়, তা আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই বিস্মৃত হয়ে যায়৷ খেয়াল করলে দেখতে পাবেন সেই বিষয়গুলোতে আরও বিশদে অনেক কিছু জানার রয়েছে৷ যা আপনার ভব্যিষতে কাজে লাগতে পারে৷ এজন্য ইন্টারনেট রইলই৷

নিত্যদিন পড়াশোনা করা
কর্মক্ষেত্রের ফাঁকে হোক বা অন্য কোনও অবসর সময়, খানিকটা পড়াশোনা আপনি ইচ্ছা করলেই করতে পারেন৷ নিত্যদিনের ব্যস্ত জীবনে পড়াটাকে অভ্যেস হিসাবে তৈরি করে ফেলুন৷ এখন তো ইন্টারনেটের যুগ৷ কাজের ফাঁকে নাহয় গুগলে সার্চ করুন কোনও পছন্দের বিষয়ে, আর চোখ বুলিয়ে নিন৷ স্ব-শিক্ষিত হওয়ার সবথেকে ভাল উপায়৷

গুণী এবং বয়স্ক লোকের সান্নিধ্যে থাকা
কোনও শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা ফেলা যায় না৷ আপনার সিনিয়ররা জীবনে যা কিছু শিখে এসেছেন তাদের থেকে সেইটুকু নেওয়ার চেষ্টা করুন৷ সময় বার করে তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনুন৷ এছাড়াও সর্বদা নিজেকে বিষয়ভিত্তিক এক্সপার্টদের সান্নিধ্যে রাখার চেষ্টা করুন৷ গ্রুপ ডিসকাশান যেমন কনফারেন্স, সেমিনারে অংশগ্রহন করতে পারেন৷

মাথায় রাখুন

এমওওসি (মাল্টি অনলাইন ওপেন কোসের্স) জাতীয় অনলাইন কোর্সগুলোতে আপনি সহজেই জ্ঞান অর্জন করতে পারেন৷ শিক্ষিত এবং গুণী মানুষদের চরিত্র এবং অভ্যেসগুলোকে লক্ষ্য করুন৷ নিজের কাজকে আরও কীভাবে উন্নত করা যায় তার খেয়াল সর্বদা রাখুন৷ কখনও সময় নষ্ট করবেন না৷ অবসর সময় পড়তে না ইচ্ছা করলে ভাল সিনেমা বা ডকুমেন্টারি দেখতে পারেন৷ প্রতিদিন কাগজ পড়াটা কিন্ত্ত মাস্ট৷ সময়ের অভাব হলে অনলাইনে নিউজ পড়ুন৷