বাজিরাওয়ের মস্তানি

পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা পুঁজি করে লড়তে নেমেছেন ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে! তবুও আত্মবিশ্বাসী তিনি। মোটে ২১ দিনে নিজেকে পেশোয়া বাজিরাও হিসেবে তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন পরিচালককে!

শাহরুখ খানের ছবির বিপরীতে আপনার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। বিষয়টাকে নিশ্চয়ই সাফল্য হিসেবে দেখছেন?
সাফল্য? কী বলছেন! আমি তো চাইনি বিষয়টা ঘটুক। সব সময় চেয়েছি ‘বাজিরাও মস্তানি’র সোলো রিলিজ হোক। বলতে পারেন, ছবির প্রযোজনা সংস্থার জন্য আমি বেশ চিন্তিত। কিন্তু পরিস্থিতি যদি এটাই হয় তো কী করা যাবে! আর এগুলো আমার হাতেও নেই। যেটা হাতে আছে, সেটা আমার পারফরম্যান্স। সেখানে কোনও কার্পণ্য করিনি। জান লড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু একই দিনে দু’টো ছবি মুক্তি পেলে একটা তুলনা আসবেই। আসতে বাধ্য।

খারাপভাবে নেবেন না। যে কথাগুলো এই মুহূর্তে ঘুরছে সেটা হল, শাহরুখ খান বনাম সঞ্জয় লীলা বনশালী। রোহিত শেট্টি বনাম বনশালী নয় কিন্তু। বা শাহরুখ বনাম রণবীরও নয়…!
একেবারেই খারাপভাবে নিচ্ছি না। মহারথীর সঙ্গে মহারথীরই টক্কর হয়। শাহরুখ খানের সঙ্গে আমার তুলনা করার কোনও মানেই হয় না। মোটে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা আমার। শাহরুখের ২৫ বছর। তাহলে? আমি কোনওদিনই ভাবিনি, নিয়তি আমাকে এই রাস্তায় নিয়ে যাবে। যাঁদের সঙ্গে কাজ করছি, কোনওদিন ভাবিনি করতে পারব! যখন হোর্ডিং, টেলিভিশন বা অন্যত্র নিজের ছবি দেখি, মনে হয় এগুলো সত্যি তো? কেরিয়ারের শুরুর দিকে একটা ভাল ব্রেক চাইছিলাম। তা বলে ‘যশ রাজ ফিল্মস’এর সোলো হিরো? যে প্রযোজনা স়ংস্থা গত ৩৫ বছরে কোনও আনকোরা মুখকে হিরো হিসেবে লঞ্চ করেনি, তারা আমাকে একটা প্রজেক্টে একমাত্র নায়ক হিসেবে লঞ্চ করছে— এই ইতিহাসটা আমার জীবনে ঘটবে এটাও ভাবিনি। এখন কোনওদিন সকালে যখন ফোনটা দেখি, তখন আমার ইনবক্সের প্রথম পাঁচটা মেসেজ ইন্ডাস্ট্রির কোনও না কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির হয়।

কথা শুনে মনে হচ্ছে, এই দ্বৈরথ আপনাকে খানিক নার্ভাস করে দিয়েছে…।
নার্ভাস কথাটা ব্যবহার করব না। আমার টিমের জন্য খারাপ লাগছে। এত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বড় বাজেটের ছবি ‘বাজিরাও মস্তানি’। সেই কারণেই এটার সোলো রিলিজ প্রয়োজন ছিল। ছবি যেভাবে তৈরি হয়েছে তা নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। ক্লাসিক হিসেবে ‘বাজিরাও মস্তানি’র নাম থেকে যাবে। ছবির ব্যবসার কথা বললেও, আমি ব্যক্তিগতভাবে বাণিজ্যিক বিষয়ে মাথা ঘামাই না কিন্তু। কিছু লোক আছেন যাঁরা প্রশ্ন করেন, ‘শুক্রবারের ওপেনিং কেমন হল’? আমার প্রশ্ন হয়, ‘ছবিটা কেমন লাগল’? আমার চিন্তা-দুশ্চিন্তা সবটাই প্রযোজকের জন্য।

bajirao mastani poster

‘বাজিরাও মাস্তানি’-র পোস্টার।

বাজিরাওয়ের চরিত্রের জন্য আরও অনেককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কী মনে হয়, আপনিই সেরা বাছাই ছিলেন?
প্রত্যেক ছবির নিজস্ব ভবিষ্যৎ থাকে। চরিত্রেরও তাই। এই প্রশ্নটার জবাব মিস্টার বনশালীর দেওয়া উচিত। উনি আমাকে যেটুকু বলেছেন বা ওঁর ঘনিষ্ঠদের থেকে যা শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে উনি আমার কাজে খুশি।

আপনি সম্প্রতি ‘বিগ বস্‌’এ ছবির প্রচারে গিয়েছিলেন। সেখানে সলমন খান জানান, উনি বাজিরাওয়ের চরিত্রের জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন…।
হ্যাঁ। উনি কথাটা বার কয়েক স্টেজে বলেছেন বটে। কিন্তু উনি কোন কথা মজা করে বলেন আর কখন রহস্য করেন সেটা বোঝা মুশকিল! আশা করব, আমার কাজ ওঁর ভাল লাগবে।

বাজিরাওয়ের চরিত্রটা করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল? আপনি তো মানসিক-শারীরিক দু’রকমভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন…?
নাহ্‌। শারীরিক প্রস্তুতি তো সকালের দিকে খানিকক্ষণের ব্যাপার ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে জিমে যেতাম। যোদ্ধার শরীর তৈরি করতে যে কসরত দরকার সেগুলোই করতাম। তারপর সারাদিন চলত উচ্চারণ রপ্ত করার ক্লাস। সন্ধের দিকে আমার ট্রেনার চলে গেলে নিজেই আদবকায়দা, হাঁটাচলা, বসার ধরন এগুলো অনুশীলন করতাম। এসব বার বার অভ্যেস করতে হতো, কারণ এর কোনওটাই রণবীর সিংহ করে না। আপনারা যাকে স্ক্রিনে দেখবেন সে রণবীর নয়, পেশোয়া বাজিরাও। ড্যানিয়েল ডে লুইসকে দেখবেন, ওঁর একটা ছবির কাজের সঙ্গে আরেকটার মিল নেই। আমিও সেটাই করতে চাই। প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আমার হাতে ২১ দিন ছিল। তাই দিন-রাত কাজে লাগিয়েছিলাম। তারপর মিস্টার বনশালীর কাছে গিয়েছিলাম। আমার প্রস্তুতিতে উনি খুশি হয়েছিলেন।

সম্প্রতি পেশোয়া পরিবারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, চরিত্রের জন্য আপনি মানানসই নন…।
ওঁরা আগে থেকেই অনেক কিছু ভেবে ফেলেছেন। আমার মনে হয়, ছবিটা দেখে তারপর মন্তব্য করা উচিত। মিস্টার বনশালী পেশোয়া পরিবার এবং সাম্রাজ্যের ঘটনাকে নিজের মতো করে ইন্টারপ্রেট করেছেন। আমরা তো বলছি না, যা দেখানো হয়েছে সব সত্যি! অনেক কিছুই কাল্পনিক।

ছবির প্রচারের জন্য আপনি যে ধরনের পোশাক পরছেন তাতে নাকি সঞ্জয় আপনার উপর ক্ষুব্ধ?
উনি কোনওদিন আমার ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপারে কথা বলেননি।

খবর কিন্তু তাই বলছে!
কথাটা সত্যি নয়।

বক্স অফিস সাফল্য, ফাইভ স্টার রিভিউ, সঞ্জয়ের থেকে টেক্সট। কোনটা পেতে চান ১৮ ডিসেম্বর?
সঞ্জয়ের থেকে টেক্সট (হাসি)।