কনকনে শীতে সোয়েটার

কমল দাশ, তারুণ্যলোক: একসময় দাদি-নানির হাতে উলের বল আর দুটি কাঠি নিয়ে অবসর কাটানোই বলে দিত, শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই। প্রিয়জনের জন্য সোয়েটার বুনতেন তাঁরা। হাতে বানানো সোয়েটারের কদরও ছিল। এখন অবশ্য ঘরে উলের সোয়েটার কম বোনা হয়। বাজারেই পাওয়া যায় রংবেরঙের নানা নকশার সোয়েটার।

5555গলার ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের সোয়েটার পাওয়া যায়। ছেলেদের জন্য আছে ভি নেক, টারটল নেক, ক্রু নেক, গোল গলা প্রভৃতি। রঙের ক্ষেত্রে কালো, লাল, সাদা, নীল, ছাই, সাদা-কালোর শেড, দুই রঙের মিশ্রণ, চেকসহ গাঢ় রং চলছে। উলের বদলে সুতি বা ভিসকস কাপড়ও ব্যবহার হচ্ছে।

ছেলেদের সোয়েটারের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় হচ্ছে ভি-নেক। এটি ক্যাজুয়াল ও ফরমাল পোশাকের সঙ্গে ভালো দেখায়। এ ছাড়া পাবেন গোল গলা, সামনে খোলা, চেইন, হাই নেক, খাটো হাতা, ম্যাগি হাতা ইত্যাদি। ইনফিনিটি ও রিচম্যানের পরিচালক নাইমুল হক খান জানালেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায়, পার্টিতে বা বেড়াতে গেলে সবচেয়ে আরামদায়ক হতে পারে ক্রু নেক বা গোল গলার সোয়েটারগুলো। যেকোনো ট্রাউজার বা জিনসের সঙ্গে মানিয়ে যায় এটি। এ ছাড়া ব্লেজার কিংবা জ্যাকেটের নিচে পরা যায়, যা বেশ ট্রেন্ডি ও স্টাইলিশ। শীতের প্রকোপ বেশি হলে টারটেল নেক বা হাই নেক সোয়েটার রয়েছে, যা শরীর উষ্ণ রাখে। সোয়েটার সাধারণত ফুল স্লিভ ও এক রঙের হলে ভালো লাগে।

ব্যাং-এর পরিচালক সায়েম হাসান জানালেন, ছেলেদের সোয়েটারে পরিবর্তন এসেছে। সোয়েটারের কলারগুলো বেশ বড় হচ্ছে। বাহারি রংও দেখা যাচ্ছে। হাফ হাতার সঙ্গে হুডি কিংবা ক্যাঙারু পকেট চলছে।

t1ফ্যাশন ডিজাইনার আসিফ ইকবাল জানালেন, বেশি শীত পড়লে মিডল গার্মেন্ট (মাঝের পোশাক) হিসেবে সোয়েটার ব্যবহূত হয়। এর ওপর থাকতে পারে কোট, জ্যাকেট বা ব্লেজার। অল্প শীতে শার্ট, টি-শার্টের ওপর সোয়েটার পরা হয়। পাতলা, গাঢ় রঙের, বাহারি সোয়েটার জনপ্রিয় বেশি।

এছাড়া নানারকম প্রিন্ট ও নতুন মোটিফ সংযোজনে সোয়েটারের চেহারা বেশ পাল্টে গেছে। কম শীত হলে (খাটো হাতা) হাফ স্লিভ সোয়েটার সব বয়সীদের কাছে পছন্দনীয়।

ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তরুণদের সোয়েটার প্রতিটি ৬০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা এবং গার্মেন্টসে তৈরি রপ্তানিযোগ্য সোয়েটার এক হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকায় প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মডেল – তনি