বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোলায়মান চা -পান বিক্রেতা

তারুণ্যলোক ডেস্ক

রাজনীতিবিদদের ও দেশের মানুষের নিকট এক আদর্শের নাম হতে পারেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোলায়মান হোসেন খান।  নিজের পড়ালেখার খরচ মেটাতে বঙ্গবন্ধু হলের এক কোনে  তিন মাস ধরে বিক্রি করছেন চা পান।

প্রশংগত, বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে সক্রিয় সোলায়মান ১৯৯১ সালে নেত্রকোনা জেলার দক্ষিণ সাতপাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  দুই ভাই তিনবোনের সবার বড় সোলায়মান ১৯৯৪ সালে রংপুরে আসেন।

চায়ের দোকানের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোলায়মান বলেন, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হলেও সৎ ভাবে বেঁচে থাকার শিক্ষা পেয়েছি পরিবার থেকে। আমার রাজনৈতিক পদকে ব্যবহার করে অন্য কোন উপায়ে সুন্দর জীবন কাটাতে পারতাম। কিন্তু তাতে শান্তি পেতাম না। তাই এই চায়ের দোকানকেই বেছে নিয়েছি।

সোলায়মান আরও বলেন, ছাত্রলীগ একটি ইতিহাসের নাম। ছাত্রলীগের রয়েছে দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। আর সেই সংগঠনের নেতা হয়ে আমি অসৎ জীবন-যাপন করতে পারিনা।

তার চায়ের দোকান নিয়ে কারও বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সোলায়মান বলেন, আমি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বারবার সহযোগিতা কামনা করেও কোন ফল পাইনি। তারপর যখন এই পথ বেছে নিলাম তখন প্রশাসন আমার এই দোকান বন্ধ করতে বলে। কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদে আমকে এই দোকান চালাতে হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্বন্ধে সোলায়মান বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে দেশের জন্য রাজনীতি করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে একজন আদর্শ সৈনিক হতে চাই।

বেরোবি ক্যাম্পাসে সোলায়মান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সকলের পরিচিত সোলায়মান এখন অনেকের আদর্শ। ক্যাম্পাসের সর্বত্রই চলে তাকে নিয়ে আলোচনা। সোলায়মানের শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব, দলীয় নেতাকর্মীসহ সকলেই তাকে নিয়ে গর্বিত।

উল্লেখ্য, রংপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে একই বিভাগে এমবিএ করছেন সোলায়মান হাসান।

সূত্র- উত্তরবাংলাডটকম