পড়াশোনা ভাল লাগছে না ? করে ফেলুন ১০টি কোর্স

তারুণ্যলোক ডেস্ক: যে যাই বলুক, সবার অ্যাপ্টিটিউড সমান হয় না। আর সবাই যদি প্রচুর পড়াশোনা করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়র-প্রফেসর হবেন বলে ভাবেন তবে দেশে শিল্পী-সাহিত্যিক-খেলোয়াড়-অভিনেতা বলে কেউই থাকবেন না। তাই যদি পড়াশোনায় একেবারেই মন না থাকে তবে উচ্চমাধ্যমিকের পরে এমন কিছু কোর্স করতে পারেন যা মনের মতো হয় আবার কেরিয়ারের দিক থেকেও ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল থাকে।

তেমনই ১০টি কোর্সের খোঁজখবর রইল—

১) অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে যাঁদের আগ্রহ রয়েছে তাঁরা উচ্চমাধ্যমিকের পর এনরোল করতে পারেন মাউন্টেনিয়ারিং, স্কিয়িং, স্কুবা ডাইভিং, ওয়াটার স্পোর্টস, বাঞ্জি জাম্পিং, প্যারাগ্লাইডিং ইত্যাদি কোর্সে। ভারতে এগুলি শেখায় এমন বহু ইনস্টিটিউট রয়েছে। কোর্স শেষ হলে গাইড বা ট্রেনার হিসেবে কাজ করতে পারেন। যাঁরা মাউন্টেনিয়ারিং কোর্স করেছেন তাঁরা চাকরি না করেও প্রফেশনাল ট্রেনার হিসেবে প্রচুর টাকা আয় করতে পারেন।

২) পার্টি করতে ভালবাসেন? বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনদের যে কোনও অনুষ্ঠানের সব দায়িত্ব থাকে আপনার কাঁধে? তবে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ওয়েডিং প্ল্যানিংয়ের শর্ট কোর্স করে নিন আর লেগে পড়ুন কাজে। প্রথম কয়েক বছর কোনও ভাল কোম্পানিতে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। তার পর নিজেই নিজের বস হয়ে যান।

৩) বেড়াতে ভালবাসেন? তবে দু’তিনটি বিদেশি ভাষার কোর্সে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি ইন্দিরা গাঁধী ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ট্যুরিজম স্টাডিজ-এর ব্যাচেলর ডিগ্রি কোর্সটি করে নিলেই সোনায় সোহাগা। তিন বছর পরে আপনার ডিগ্রি কোর্সও শেষ আবার দু’তিনটি বিদেশি ভাষাও রপ্ত। এর পর ট্যুরিস্ট এজেন্সি এবং ট্যুরিজম কোম্পানিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং ফুল টাইম ট্যুরিস্ট গাইড হয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো।

৪) গান বা নাচ এর যে কোনও একটি যদি ছোটবেলা থেকে চর্চা করে থাকেন তবে উচ্চমাধ্যমিকের পরে এইগুলি নিয়েই ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। এখন প্রায় সব স্কুলেই মিউজিক এবং ডান্স টিচার থাকেন। তেমন কোনও চাকরি করতে পারেন আবার বাড়িতে বসে শেখানোর সুযোগ তো রয়েইছে। পাশাপাশি প্রফেশনাল ডান্সার বা সিঙ্গার হিসেবে অনুষ্ঠান করেও আয় করতে পারেন।

৫) ছবি আঁকতে ভাল লাগলে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়তেই পারেন কিন্তু অন্য অনেক কোর্সের তুলনায় এটি কিন্তু বেজায় শক্ত। এখানেও থিয়োরি পেপার থাকে। শিল্পের ইতিহাস পড়তে হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হল বুদ্ধি, তীব্র অনুভূতিপ্রবণতা এবং সৃজনশীলতা, এই তিনটি না থাকলে ফাইন আর্টসে ডিগ্রি নিয়েও খুব বেশিদূর এগোনো যায় না।

৬) যদি অভিনয়ে আগ্রহ থাকে তবে ভর্তি হতে পারেন ব্যাচেলর অফ ড্রামাটিক আর্টস ডিগ্রি কোর্সে। থিয়োরি যে পড়তে হয় না তা নয় তবে অনেকটা অংশ থাকে অভিনয় শিক্ষা, ফিজিক্যাল ফিটনেস ইত্যাদি নিয়ে। সাধারণ বিএ বা বিএসসি কোর্সের মতো পাহাড়প্রমাণ পড়ার চাপ থাকে না। আবার ভাল ফল নিয়ে পাশ করলে টেলিভিশন এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

৭) মডেলিংয়ে যাঁদের আগ্রহ রয়েছে তাঁরা কোনও ভাল ইনস্টিটিউট থেকে ফ্যাশন মডেলিংয়ের কোর্স করতে পারেন। তবে এই কোর্সগুলি বেশিরভাগই সার্টিফিকেট কোর্স কারণ এতে থিয়োরি পড়ানোর কিছু নেই। তাই তাড়াতাড়ি কাজের জগতে ঢুকে পড়ারও সুযোগ থাকে। তবে এই প্রফেশনে টিঁকে থাকা কিন্তু খুব সহজ কাজ নয়।

৮) খেলাধূলোয় ভাল? তবে ব্যাচেলর অফ ফিজিক্যাল এডুকেশন কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। এটি ডিগ্রি কোর্স। পড়ার চেয়ে শরীরচর্চাই বেশি করে শেখানো হয়। কোর্স শেষে স্কুলে গেমস টিচার হিসেবে চাকরি করতে পারেন, স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে চাকরি পেতে পারেন অথবা ফিটনেস ইনস্ট্রাকটার হিসেবেও কাজ করতে পারেন।

৯) সাজগোজ, স্কিনকেয়ার ইত্যাদিতে আগ্রহ থাকলে ভাল কোনও সংস্থা থেকে বিউটিশিয়ান কোর্স করে নিন। অথবা হেয়ারস্টাইল ও মেকআপ-এরও কোর্স করতে পারেন। এগুলিও বেশিরভাগই সার্টিফিকেট এবং ডিপ্লোমা। এই কোর্স করার পরে কোনও নামকরা মেকআপ আর্টিস্ট বা হেয়ার স্টাইলিস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে হবে অন্তত দু’তিন বছর। ভাল অভিজ্ঞতা হলে তবেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। এই বিশেষ প্রফেশনটি কিন্তু দিন দিন প্রচণ্ড গ্ল্যামারাস হয়ে উঠছে ফ্যাশন এবং এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির রমরমার কারণে।

১০) যাঁরা খুব প্রিম অ্যান্ড প্রপার দৈনন্দিন জীবনে তাঁরা কোনও ভাল ফিনিশিং স্কুলে ভর্তি হতে পারেন। এই বিশেষ স্কুলগুলিতে শেখানো হয় সফট স্কিল, বিজনেস এটিকেট, ডাইনিং এটিকেট, সোশ্যাল এটিকেট, গ্রুমিং ইত্যাদি। এটি একেবারেই প্রফেশনাল কোর্স। কোর্স শেষে সফট স্কিল প্রফেশনাল হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় এখন এগজিকিউটিভদের জন্য সফট স্কিল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া নিজেই বাড়িতে গ্রুমিং অ্যান্ড এটিকেট স্কুল খুলতে পারেন। ৬ থেকে ৬০, সকলেরই বেসিক এটিকেট জ্ঞান থাকা দরকার।