আপনি কি ‘ম্যাচিওর’? বুঝবেন কী করে?

সকলের সামনে স্বীকার না করলেও মনে মনে আপনি খুঁতখুঁত করেন, যতটা পরিণতমনস্ক বলে আপনি নিজেকে দাবি করেন, ততখানি পরিণতি কি সত্যিই আপনার রয়েছে?

বেশিরভাগ মানুষের প্রধান সমস্যাই এই যে, তিনি নিজেকে ম্যাচিওর এবং অন্যদের ইম্ম্যাচিওর বলে মনে করেন। অবশ্য এ কথাও ঠিক যে, অন্যদের অপরিণত হিসেবে না দেখলে নিজের পরিণত মনস্কতাকে টের পাওয়া বেশ দুরূহ। কিন্তু এই স্ব-আরোপিত ম্যাচিওরিটি অনেক সময়েই তাঁকে বিপদে ফেলে, বপদে ফেলে অন্যদেরও। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বার বার এই ম্যাচিওরিটি-মরীচিকা আপনাকে বিভ্রান্ত করেছে। সকলের সামনে স্বীকার না করলেও মনে মনে আপনি খুঁতখুঁত করেন, যতটা পরিণতমনস্ক বলে আপনি নিজেকে দাবি করেন, ততখানি পরিণতি কি সত্যিই আপনার রয়েছে?

ম্যাচিওরিটি মাপার কোনও উপায় বা যন্ত্র সভ্যতা আজও আবিষ্কার করে উঠতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পেরে উঠবে বলে মনে হয় না। কারণ, ম্যাচিওরিটি একটা বিমূর্ত ধারণা। একে ফিতে দিয়ে বা ওজন করে মপে ওঠা সম্ভব নয়। কিন্তু কতগুলো সাধারণ বিষয় রয়েছে, যেগুলোর দিকে খেয়াল রাখলে কিছুটা আত্মোপলব্ধি সম্ভব বলে জানাচ্ছেন মনোবিদরা। দেখা যাক তার কয়েকটিকে।

• ম্যাচিওরিটি একটা ধারণা মাত্র। বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। এটা কি মনে রাখেন আপনি?

• কোনও বিষয়কে সাদা-কালোয় না-দেখা। প্রতিটি বিষয়েরই কিছু ‘গ্রে জোন’ রয়েছে। তা আপনার বোধগম্য না-ও হতে পারে। এটা স্বীকার করাই কিন্তু পরিণতমনস্কতার অন্যতম লক্ষণ।

• কখন ছেলেমানুষি করবেন আর কখ করবেন না, সেটা টের পাওয়াও ম্যচিওরিটির লক্ষণ।

• কখন থামতে হয়, সেটা জানা অবশ্যই মানসিক পরিণতির লক্ষণ।

• গোপনীয়তা কতটা রক্ষা করতে পারেন? এটা কিন্তু ম্যাচিওরিটির একটা বড় শর্ত।

• অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করাটাও ম্যাচিওরিটির লক্ষণ।

• আপনি কতটা অন্যর কথা শোনেন? মনে রাখবেন, ভাল শ্রোতা হওয়াটা কিন্তু জরুরি।

• সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রচার থেকে বিরত থাকা।

• আপনার সমালোচনা আপনি সহ্য করতে পারেন কি? না পারলে পরিণতমনস্কতা যেকে আপনি বহুদূরে।

• নিজের সঙ্গে কতটা সময় কাটান? নীরবে হিসেব করুন। এটাও ম্যচিওরিটির একটা বড় শর্ত।

সূত্র: এবি