দেশ সাহিত্য উৎসবে গুণীজনের মিলনমেলা

তারুণ্যলোক প্রতিবেদক :  ‘চেতনায় ঐতিহ্য’ স্লোগানটি ধারণ করে পথ চলছে ভিন্নধারার প্রকাশনা সংস্থা ‘দেশ পাবলিকেশন্স’। বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের যাত্রাপথে ‘দেশ’ ধারণ করতে চায় সৃজনশীল চেতনা, চলতে চায় নতুন পদক্ষেপে। এমন চেতনা নিয়েই গত রোববার বিকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো দেশ পাবলিকেশন্স আয়োজিত ‘দেশ সাহিত্য উৎসব-২০১৬’।

13249477_1615032252147270_1255194619_nএ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা সংস্থাটি প্রকাশ করেছে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী রচিত দুটি গ্রন্থ। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের এই শব্দসৈনিকের লেখা গ্রন্থ দুটি হলো ‘মুক্তি-সংগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার’ ও ‘যেন ভুলে না যাই’। অনুষ্ঠিত উৎসবে এই দুটি বইয়ের পাঠোন্মোচন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয় ‘দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার’।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশিত জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে একে গেয়ে শোনায় ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘আমরা পূর্ব পশ্চিমে’, ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ ও ‘ধিতাং ধিতাং বলে’। এরপর মঞ্চে আসেন আবৃত্তিশিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতারের শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম। তিনি পাঠ করে শোনান একাত্তরের ২৫ মে স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রচারিত সংবাদের অংশবিশেষ। মাতৃভূমিকে রক্ষায় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ অভিযানের চিত্র উঠে আসে পঠিত সেই সংবাদে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথিরা গ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বগুড়া-৫ এর সংসদ সদস্য আলহাজ মো. হাবিবর রহমান। ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, স্বাধীন বাংলা বেতারের আরেক শব্দসৈনিক আশফাকুর রহমান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দেশ পাবলিকেশন্সের প্রকাশক অচিন্ত্য চয়ন।
2অনুভূতি প্রকাশ করে কামাল লোহানী বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র সম্পর্কে ইতোমধ্যে অনেক বই বেরিয়েছে। তবে এ নিয়ে আমার মধ্যে কিছু দ্বিধা ছিল। মনে হয়েছে, এত বই প্রকাশিত হলেও সবকিছু বলা হয়নি। বিষয়টির সঙ্গে যেহেতু জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তাই মনে হয়েছে দেশের মানুষও যেন সবকিছু জানতে পারে। সে চিন্তা থেকেই এ বইটি লেখা। যাতে অনেক অপ্রিয় সত্য কথাও উঠে এসেছে। সেই উত্তাল সময়ে বেতন-সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বেতার কর্মীর কর্মবিরতির প্রচেষ্টাসহ নানা তথ্য তুলে ধরেছি। এছাড়া বেতারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১০০ জনের ছবিসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকাও দেওয়া হয়েছে বইটিতে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুজ্জামান বলেন, কামাল লোহানীর ‘মুক্তি-সংগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার’ বইটি পড়েছি। এ বইয়ে আমি প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জের জয় বাংলা বেতারকেন্দ্র সম্পর্কে জেনেছি। সেই সঙ্গে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের পূর্বাপর বিবরণ রয়েছে গ্রন্থটিতে। এতে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্য থেকে শেখার-বোঝার অনেক বিষয় আছে। সেই সময়কার অবরুদ্ধ বাংলার মানুষের মনে সাহস জুগিয়েছে এই বেতার কেন্দ্র। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. হাবিবর রহমান বলেন, দেশ এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে তরুণ সমাজকে ইতিহাস জানতে হবে, আর সঠিক ইতিহাস জানতে হলে কামাল লোহানীর ‘মুক্তি-সংগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার’ গ্রন্থটি অবশ্যই পড়তে হবে।
অনুষ্ঠানে ২০১৪ সালের দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার প্রদান করা হয় বিকাশ মজুমদার, চরু হক, হাসান জাহিদ, অরুণ কুমার বিশ্বাস, বদরুল আলম, মাসুদ পারভেজ ও রিপনচন্দ্র মল্লিককে। ২০১৫ সালের দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার পেয়েছেন কামাল লোহানী, সুমন্ত আসলাম, অদ্বৈত মারুত, তুষার কবির ও লিটন মহন্ত। বাংলাদেশে এই প্রথম নান্দনিক বাঁধাইয়ের জন্য আব্দুল আজিজকে (বাঁধন বাইন্ডিং) ‘দেশ সম্মাননা-২০১৬’ দেওয়া হয়।