জাবিতে ব্যতিক্রম ভিজিটিং কার্ডধারী ছাত্রলীগের ব্যতিক্রমী সমর্থক

তারুণ্যলোক, জাবি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রলীগের রাজনীতি করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতিসহ অনেকে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাও হয়েছেন। জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) শিক্ষার্থী ফারহান আনজুম তানজিল ছাত্রলীগের ভিজিটিং কার্ডধারী ব্যতিক্রমী একজন সমর্থক। নিজের ইচ্ছায় নিজের নামে জাবি ছাত্রলীগের সমর্থকের কার্ড তৈরি করেছেন। মাওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র তানজিলের বাড়ি জামালপুর জেলায়। শহরের tarunnoloak-1পাঁচরাস্তা মোড়ে বাবার বাসায় বড় হয়েছেন তিনি।

তার বাবার নাম  মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি জামালপুরের সরকারি জাহেদা শাফির কলেজের বাংলা বিভাগের সভাপতি এবং মা হোসনে আরা হাই স্কুল শিক্ষক। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট তিনি। বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড ফিজিক্স থেকে স্নাতক (সম্মান) শেষ করেছেন।

জামালপুর জেলা স্কুল থেকে ২০১৩ সালে এসএসসি ও ২০১৫ সালে আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

ছাত্রলীগের সমর্থক কার্ড তৈরি ও ছাত্রলীগের রাজনীতি করার ইচ্ছা সম্পর্কে তানজীল তারুণ্যলোককে জানান, এ দেশের স্বাধীনতা এনেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অথচ স্বপরিবারে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যে স্বাধীনতা এনে দিলেন তাকেই হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতা নেই কিন্তু তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিতে হবে।

ছাত্রলীগের সমর্থক কার্ড তৈরি সম্পর্কে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীর কোন পদবী নেই তাই সমর্থক দিয়ে কার্ড তৈরি করেছি।

তানজিল আরো জানান, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার ইচ্ছা রয়েছে তার।

রাজনীতি করে ভবিষ্যতে কি করতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাল কাজ করে ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তার

tarunnoloak-2মাওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র ও জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুরশিদুর রহমান জানান, তানজীলের ছাত্রলীগের প্রতি ভালোবাসা দেখে তিনি মুগ্ধ।ভাসানী হলের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষার্থীরা এমন একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিককে পেয়ে গর্বিত।

জাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, শনিবার দুপুরে তানজিলের সাথে বটতলায় কথা হয়েছে।আমি ছাত্রলীগ করলেও তানজিলের মতো হতে পারিনি। তানজিলকে স্যালুট জানাই। তানজিলের মতো কর্মীরা আছে বলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আজো জীবিত।

জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যে রাজনৈতিকভাবে পরিশুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী তানজিলই তার প্রমাণ।