বেসিস নির্বাচন : সদস্যরা উপেক্ষিত

Zahid-statusঢাকা: আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ সফটওয়ার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) এর ২০১৬-১৯ মেয়াদের নির্বাচনে সদস্যেদের উপেক্ষা করা হয়েছে। সংগঠনিটর এক  হাজারের বেশী সদস্য থাকলেও  আসন্ন নির্বাচনে ভোটার হয়েছেন মাত্র ৫১৬ জন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান কমিটি বেসিস সদস্যদের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে  নিজ সংগঠনের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোরই যদি কোন উন্নয়ন না হয়ে থাকে, তাহলে দেশের সফটওয়্যার খাতের উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব ?  তাহলে বর্তমান পরিচালকরা যে উন্নয়নের কথা বলছেন সেটাকি শুধুই মুখে মুখে।

রোববার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টার হোস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেসিস সদস্য জাহিদ আলম বলেন,  বেসিস-এর ওয়েবসাইট মোতাবেক মোট সদস্য ১০৭৩ হলেও এই নির্বাচনে ভোটার হয়েছেন মাত্র ৫১৬টি প্রতিষ্ঠান যা মোট সদস্য সংখ্যার ৪৮% বাকি ৫২% সদস্যের ভোটাধিকার বিচ্যুত করে কিভাবে গণতান্ত্রিকভাবে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব তা বেসিস-এর সংবিধান পরিপন্থী না হলেও ইন্ডাস্ট্রির জন্য মঙ্গলজনক কিংবা বোধগম্য নয়। আমি জানি আমার এই মন্তব্যে কারো কিছু যায় আসে না কিন্তু বিগত দুই নির্বাচনেও একই ধারা চলার কারণে আজ আমরা ৫২% সদস্যকে উপেক্ষা করে চলছি।

সাম্প্রতিক সময়ে বেসিসের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যদের কোন  উন্নয়নে আসেই না এমনকি কারো খোঁজ খবরও রাখেনা বলেও অভিযোগ করেন  এই বেসিস সদস্য।

তিনি বলেন, বেসিস তো এও জানেনা যে কোন সদস্যের আর্থিক, মার্কেট, স্থায়িত্ব, পরিস্থিতি, ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি ! এই ১০৭৩ জন সদস্যের ইনার পার্ট-ই যদি না জানে বেসিস তাহলে পুরো দেশের সম্পর্কে কি জানবে! আসলে আমাদের মতো সদস্যদের নিয়ে বেসিস-এর কোনো চিন্তাই নাই !

ঐ ফেসবুক স্টাট্যাসে বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান, সহ-সভাপতি রাশেদুল হাসান, রাসেল টি আহমেদসহ বর্তমান পরিচালনা কমিটির কয়েকজন পরিচালকের নাম সরাসরি উল্লেখ করে জাহিদ তাদের প্রতি প্রশ্ন করেন, বিগত ২ বছরে এত কষ্ট করে আমাদের মেম্বারদের জন্য যা কিছুই করেছেন তার ফল কি মোট ১০৭৩ জন সদস্যের ২০% মানে ২১৫ জন সদস্যের উপকারে/কাজে লেগেছে?

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেসিস সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল বলেন, বেসিস সদস্যদের মধ্যে অনেকেই আছে সফটওয়্যার ভ্যাট ট্যাক্স নিয়মিত প্রদান করেন নি। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্সের উপর নতুন আইন অনুযায়ী এক বছরের ভ্যাট চাওয়া হচ্ছে। সব টাকা পয়সা জমা দিয়েও অনেক নিয়মিত সদস্যও তাদের সব কাগজপত্র হালনানাগাদ করতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, এর বাইরেও অনেকেই ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। এখন ট্রেড লাইসেন্স  নিয়ে আগের ঠিকানা যদি দক্ষিনে হয় তাহলে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাছে গেলে তারা বলছে ছাড় পত্র আনতে। দক্ষিনে ছাড়পত্র আনতে গেলেও সেখানে ওই অর্থ বছরের সম্পূর্ণ ভ্যাট রাখা হচ্ছে। তাই ট্যাক্স রিটার্ন ইস্যু এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি ও অতিরিক্ত ভ্যাট এই ইস্যু গুলোতেই অনেক সদস্যই ভোটাধিকার পাচ্ছেন না।

এই ব্যাপারে বেসিস কেন তার সদস্যদের সাহায্য কড়ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এই সমস্যাগুলো নিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু ওই কর্মকর্তারা তাদের নিয়মনীতি দেখিয়ে সেই সীমারেখার বাইরে যেতে পারছেন বলে জানান।