আমার আমিকে প্রকাশের জন্যই আমার লেখা

জোবায়ের আহমেদ নবীন-এর জন্ম ১৯৮৫ সালের ১মার্চ রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। পেশায় সাংবাদিক এ লেখকের পৈত্রিক বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার গাওদিয়া গ্রামে। বাবা এম এ জাহের ঝিলন ও নাজমা জাহেরের চার সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। লেখালেখি শুরু ছোটবেলা থেকেই । ২০০৪ সালের একুশে বইমেলায়  প্রকাশিত হয় ‘চোখের জলে লেখা’ নামে একটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ। ২০১৫ সালের একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার একক কাব্যগ্রন্থ  ‘প্রাচীর ভাঙার নেশা’। এবার প্রকাশিত হয়েছে নবীনের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘পাগলি, ভালোবাসি তোকে’।

 

মেলায় এবার আপনার কী বই এসেছে?

এবার মেলায় এসেছে আমার ‘পাগলি, ভালোবাসি তোকে’কাব্যগ্রন্থ। এর প্রছদ এঁকেছেন মোমিন উদ্দীন খালেদ। চার ফর্মার এ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মহাকাল প্রকাশনী।  বইটি পাওয়া যাবে গ্রন্থমেলার ১৪৪ নম্বর স্টলে। বইয়ের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা।

 আপনার নতুন বই সম্পর্কে বলুন

‘পাগলি, ভালোবাসি তোকে’ এমন একটি কাব্যগ্রন্থ যা পড়ার পর প্রত্যেক পাঠকেরই মনে হবে তিনি যাকে ভালোবাসেন তাকে ঠিক এভাবেই বলেছেন কথাটি, অথবা বলতে চান। এখানে মানবজীবনের প্রেমের অনুভূতিগুলো সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে শব্দের গাঁথুনিতে। এটি আসলে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এক একটা জীবনবোধের গল্প। আশা করি কবিতা প্রেমীদের বইটি ভাল লাগবে।

মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনার ভাবনা

ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়- প্রতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন লেখকদের ছড়া, কবিতা, গল্প ও উপন্যাসসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত বই থেকে সেরা লেখক নির্বাচিত করে বাংলা একাডেমি অথবা গ্রন্থমেলা আয়োজন কমিটি পুরস্কৃত করতে পারে। এতে নতুনদের মধ্যে আরো ভালো করার উৎসাহ জাগবে।

16731922_1345943048797549_1184191085_oগ্রন্থবদ্ধ কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন…

আমি আমাকে ভালোবাসি। আর নিজেকে ভালোবাসা থেকেই আমি চারপাশকে ভালোবাসতে পারি। ফলে আমার লেখায় উঠে আসে ব্যক্তি আমি। যেখানে অন্যরাও অনুপস্থিত না। কারণ একা আমাকে দিয়ে তো আর সমাজ, দেশ, পৃথিবী না। আমার আমিকে প্রকাশের জন্যই আমার লেখা। সেই সঙ্গে আমাকে যারা ভালোবাসে তারাও ঘুরে ফিরে নানা উপমায় ধরা দেয় আমার নিজের দুনিয়ায়।

আপনার কবিতা ভাবনা…

আমি মূলত ছড়া, কবিতা, ছোট গল্প লিখি। তবে পেশাগত কারণে বিভিন্ন মাধ্যমে লিখতে হয়। তবে আমি কবিতা লেখায় বেশি স্বস্তিবোধ করি। শব্দেরা যখন মাথায় ঘুরপাক খায় তখন না লিখে আর উপায় থাকে না। আসলে কবিরা চিরকালই সুন্দরের পূজারি, তবে সে সৌন্দর্য দৈহিক গড়নে নয়, অন্তরাত্মায়। হৃদয় গহীনে লুকানো ভালোবাসার সুপ্ত আলো খুঁজে বের করার মাঝেই তাদের আনন্দ।

কবিতার পাঠক সর্ম্পকে আপনার মূল্যায়ন…

আমাদের দেশে সেইভাবে কবিতার পাঠকশ্রেণী গড়ে ওঠেনি, যতোটা অন্য মাধ্যমে হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবারেরও ভূমিকা রয়েছে। শিশুবেলা থেকেই বাচ্চাদের কবিতা পড়তে আগ্রহী করে তোলা যেতে পারে। এতে করে শৈল্পিক মূল্যবোধে বেড়ে উঠবে সেই শিশু।

বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?

একুশের গ্রন্থমেলা হলো পাঠক-লেখকের মিলন মেলা এখানে বই প্রকাশ করা মানে সরাসরি পাঠকের হাতে তুলে দেয়া, যা অন্য সময় হয় না।

আপনার কবিতা চর্চা শুরু যেভাবে…

আমার ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস ছিল। যখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি তখন দৈনিক বাংলা পত্রিকায় আমার লেখা ছড়া প্রকাশিত হয়েছিল। সেই থেকে আমার যাত্রা শুরু। তবে বাবা লেখালেখি করতেন বলেই হয়তো আমার ভেতরেও এসব ছিল।

সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই

এ মেলা হচ্ছে পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের মিলনমেলা। এটি মূলত আমাদের প্রাণের মেলা। এ মেলার জন্য আমরা এগারো মাস অপেক্ষা করে থাকি। এই মিলন মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ ও ভালোবাসা। বইমেলার জন্য আমি নিজেও অপেক্ষা করি। যাদের সঙ্গে বছরে একদিনও দেখা হয় না, তাদের সঙ্গেও দেখা হয়। পরিচিত-অপরিচিত সবার কুশল জানা যায়। বইয়ের খবর জানা যায়। নতুন চিন্তার খোরাক পাওয়া যায়। আর বছরের এই সময়ে শুধু বই প্রকাশ নিয়ে যে উচ্ছ্বাস, উৎসাহ, ভালোবাসা থাকে এর সঙ্গে অন্য কোনো অনুভূতির তুলনা হয় না।

মেলা নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা

২০০৪ সালে একুশে বই মেলায় বই কিনতে গিয়ে দেখি আমার লেখা কবিতার বই বের হয়েছে, অথচ আমি নিজেই জানতাম না, দারুণ চমকে গিয়েছিলাম। পরে প্রকাশকের কাছ থেকে জানলাম পত্রিকায় পাণ্ডুলিপি চাই বিজ্ঞাপন দেখে পাণ্ডুলিপি পাঠিয়েছিলাম, সেই লেখা থেকেই বই বেড়িয়েছে। অবশেষে নিজের লেখা বই দুই কপি কিনে বাসায় আসলাম।

কবিতা চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব…

অবশ্যই বাবা। কারণ তিনিও কবিতা, গল্প লিখতেন

সাক্ষাৎকার: মাহতাব শফি

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*