সফল কৃষি গবেষক ড. কে,বি,এম, সাইফুল ইসলাম

এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশিদের কত শত কীর্তিগাঁথা যে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী তাঁর ইয়ত্তা কী? পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে, নানারকম আবিষ্কার উদ্ভাবনের কীর্তিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্ববাসীর কাছে সমীহের জায়গাটিই করে নেয়নি শুধু, বরং ইমার্জিং টাইগার অব এশিয়া’ হিসেবে বিশ্বমিডিয়াতেও চলছে বাংলাদেশকে নিয়ে কত শত প্রচারণা। ক্রিকেটীয় ক্রীড়াশৈলীর সুবাদে এদেশের তরুণ প্রজন্মের জয়-জয়কার বিশ্বব্যাপী। গোটা বিশ্বই যেন এখন বাংলাদেশের ফ্যান হতে বসেছে। সম্প্রতি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণ সহযোগী অধ্যাপক ড. কেবিএম সাইফুল ইসলাম যুক্ত করেছেন এক ভিন্ন মাত্রা। গবেষণা কর্মের সুবাদে ইতোমধ্যে কেবিএম সাইফুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে পেয়েছেন বহু সম্মাননা। তাঁর গবেষণামূলক প্রবন্ধগুলো প্রকাশিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড প্রেস্টিটিজিউয়াস সায়েন্স জার্নালে। সম্প্রতি এই তরুণ বিজ্ঞানী নির্বাচিত হয়েছে ফ্রান্সের ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল অব এলফোর্ট (এনভা) এবং সেভা সান্তে এনিম্যালি (সেভা)-এর ভিজিটিং স্কলারের বিরল সম্মাননা লাভ করেছেন। ‘কীর্তিমান বাংলাদেশি’ বিভাগে তুলে ধরা হলো সাইফুল ইসলামের অনন্য কীর্তির আদ্যোপান্ত –নূরউদ্দিন রানা

ড. কে,বি,এম, সাইফুল ইসলাম
ফ্রান্সের ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল অফ এলফোর্ট (এনভা)
এবং সেভা সান্তে এনিম্যালি (সেভা)’র ভিজিটিং স্কলার

With the Dean of School of Veterinary Medicine-ENVAআর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট পোষা প্রাণি চিকিৎসক ড. কে,বি,এম, সাইফুল ইসলাম। বর্তমানে কর্মরত আছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)-এর মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে। সম্প্রতি তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন প্রাণিচিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রান্সের ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল অফ এলফোর্ট (এনভা) এবং বিশ্ববিখ্যাত ভেটেরিনারি ভ্যাক্সিন ও স্বাস্থ্যপণ্য উৎপাদনাকারি প্রতিষ্ঠান সেভা সান্তে এনিম্যালি (সেভা), ফ্রান্সের ভিজিটিং স্কলার এবং বিরল সম্মান অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ১৭৬৫ সালে স্থাপিত ফ্রান্সের ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল অফ এলফোর্ট বিশ্বের প্রাচীনতম ভেটেরিনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের অন্যতম এবং সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রাণিচিকিৎসা ও প্রাণিগবেষণা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টির পারস্পারিক শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সমঝোতা রয়েছে। অনুরূপভাবে, ভেটেরিনারি ভ্যাক্সিন ও স্বাস্থ্যপণ্য উৎপাদনাকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগারের জন্য সেভা সান্তে এনিম্যালি’র সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে বিশ্বব্যাপী। এই প্রথম বাংলাদেশের কোন ভেটেরিনারিয়ান (প্রাণিচিকিৎসক) একই সাথে ফ্রান্সের এই দু’টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ভিসিটিং স্কলার হবার বিরল সম্মান লাভ করলেন।
ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলাম ভিসিটিং স্কলার হিসেবে ১৯-২০ জুন ২০১৭ ফ্রান্সের প্যারিস এবং লিবোর্নে এনভা এবং সেভা’র বিভিন্ন ল্যাবরেটরি, ক্লিনিকস ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন ও অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি ফ্রান্সের সেভা সান্তে এনিম্যালি’র সহযোগিতায় শেকৃবি’র মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন “এভিয়ান ডিজিসেস ভেটেরিনারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং প্রোগ্রাম”-এর বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ইনচার্জ হিসেবে সেভা সান্তে এনিম্যালি’র পরিচালক এবং কর্মসূচী ব্যবস্থাপকের সাথে নীতি-নির্ধারণী সভায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য যে, ভেটেরিনারি শিক্ষা, গবেষণা ও পোষা প্রাণিচিকিৎসায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলাম এ পর্যন্ত ১০ বার বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক পূরস্কার ও স্বীকৃতি অর্জন করার বিরল গৌরব অর্জন করেছেন।
111111111ড. ইসলাম জাপানের ইম্পেরিয়াল শ্রেণীভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হক্কাইডো ইউনিভার্সিটির এপ্লাইড বায়োসায়েন্স বিভাগের, মাইক্রোবিয়াল ফিজিওলজি ল্যাবরেটরিতে অন্ত্রস্থ ব্যাকটেরিয়া এবং এদের গঠন ও নিয়ন্ত্রণে শরীরবৃত্তীয় নির্ণায়কের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি দীর্ঘ ৫ বছর ইদুরের উপর গবেষণা করে উদঘাটন করেন যে সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত বিভিন্ন মেটাবোলিক রোগসমূহ (যেমন, স্থূলতা, ডায়াবেটিকস, হাইপারকোলেস্টেরলেমিয়া বা রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল প্রভৃতি) এবং অন্ত্রস্থ ব্যাকটেরিয়ার পারস্পরিক সম্পর্ক মূলতঃ একটি শরীরবৃত্তীয় নিঃসরণ (পিত্তরস; এর নিঃসরণ উচ্চমাত্রার চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে সম্বন্ধযুক্ত) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ড. ইসলামের এ মৌলিক আবিস্কার অন্ত্রস্থ ব্যাকটেরিয়া গঠন ও নিয়ন্ত্রণে শরীরবৃত্তীয় নির্ণায়কের ভূমিকা জনসম্মুখে উন্মোচিত করে; যা দীর্ঘ একশত বছরেরও অধিককাল সময় অনুজীববিজ্ঞানীদের অজানা ছিল। তাঁর সিকোয়েন্স করা ৮২৫টি জিন সিকোয়েন্স রাইবোসোমাল ডেটাবেজ প্রজেক্ট (আরডিপি)-এর জিন ব্যাংকে সংরক্ষিত আছে। ড. ইসলামের এই আবিস্কার এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় উপস্থাপিত হয়। অন্ত্রস্থ ব্যাকটেরিয়া (অনুজীব) গঠন ও নিয়ন্ত্রণে  শরীরবৃত্তীয় নির্ণায়কের ভূমিকা জনসম্মুখে উন্মোচিত হওয়ায় তা মৌলিক ও প্রায়োগিক অনুজীববিজ্ঞান বোঝা, চর্চা ও প্রয়োগে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে এবং জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মেটাবোলিক রোগসমূহে অন্ত্রস্থ ব্যকটেরিয়ার প্রভাব এবং এসব রোগসমূহের কারণ উদঘাটন, প্রতিকার ও প্রতিরোধে নতুন দিগন্তের সুচনা করবে বলে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় উপস্থিত বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের দেশী মুরগী খাবার অন্বেষণে যত্রতত্র চড়ে বেড়ায় এবং ময়লা, আবর্জনা এমনকি প্রাণীর বিষ্ঠা থেকেও খাবার গ্রহণ করে কিন্তু তাদের পেটের পীড়াজনিত রোগ-বালাই কম বা হয় না বললেই চলে। অধিকন্তু, আমাদের দেশীয় মোরগ-মুরগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক অনেক বেশি। বিষয়টি পর্যবেক্ষন করে ড. ইসলাম আমাদের দেশীয় মোরগ-মুরগীর অন্ত্রে বিশেষ ধরণের উপকারী অনুজীবের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণার বশবতী হয়ে নিবিড় গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। দীর্ঘ গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি আমাদের দেশীয় মোরগ-মুরগীর অন্ত্রে বিশেষ ধরণের উপকারী অনুজীবের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং তাদের পৃথকীকরণ ও চিহ্নিতকরণ এর কাজ সফলতার সাথে সমাপ্ত করেন।

সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত
কে,বি,এম, সাইফুল ইসলাম (মিরাজ) ১৯৭৮ সালের ১৫ জুলাই মাদারিপুর সদর উপজেলার তরমুগুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জনাব আলাউদ্দিন আহমেদ ও মাতা সৈয়দা সামসুন্নাহার। পুরো শিক্ষাজীবন অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন সাইফুল ইসলাম। তাঁর সহধর্মিণী ডা. সৈয়দা সিরাজ-উম-মাহমুদা, এমবিবিএস (ঢামেক), এমডি (ইন কোর্স, বিএসএমএমইউ) এবং একমাত্র কন্যা সামাইরা ওয়াইযাল।

কৃতিত্বে ভরপুর শিক্ষাজীবন
জনাব ইসলাম ১৯৯৩ ও ১৯৯৫ সালে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় স্টার মার্কস’সহ প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। ২০০১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিভিশন পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান (স্বর্ণপদক) লাভ করেন। এরপর ২০০৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস. ইন মেডিসিন (ডিস্টিংশনসহ) প্রথম শ্রেণী এবং ২০০৮ সালে জাপানের হক্কাইডো ইউনিভার্সিটি থেকে এমএস ইন বায়োসিস্টেম সাসটেইনেবিলিটি‘তে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর ২০১১ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তার অনবদ্য পিইচডি গবেষণা হক্কাইডো ইউনিভার্সিটি এগ্রিকালচারাল ফ্যাকাল্টির বিগত ১৪০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরধারী জার্নালে প্রকাশিত হবার গৌরব অর্জন করে (ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর যথাক্রমে ১৮.১৮৭)। ২০০৬ সালে ডেনমার্কের ‘দ্য রয়্যাল ভেটেরিনারি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ২০১৬ সালে ফ্রান্সের ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল অফ প্যারিস থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।

গবেষণা প্রকাশনা এবং অন্যান্য
ড. কে,বি,এম, সাইফুল ইসলামের গবেষণা প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে মোট ৪৬টি। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্থান পেয়েছে ৩৬টি। কীর্তিমান তরুণ গবেষক সাইফুল ইসলাম বেশ ক’টি বিশ্বমানের জার্নালের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য। তিনি যুক্তরাজ্যের জার্নাল অব পাবলিক হেলথ ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অফ এনিমেল হেলথ অ্যান্ড বিহেবিয়ারাল সায়েন্স, মালয়েশিয়ার ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিন, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ এনিমেল রিসোর্সেস, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ লাইভস্টক জার্নালের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য। এছাড়া রিভিউয়া’র হিসেবে সম্পৃক্ত আছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ৫০টির অধিক জার্নালে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ মেডিসিন এন্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস, ইউএসএ; মেরিট রিসার্চ জার্নাল অফ মেডিসিন এন্ড মেডিক্যাল সায়েন্সেস, ইউএসএ; ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিন, মালয়েশিয়া; আফ্রিকান জার্নাল অফ মাইক্রোবায়োলজি রিসার্চ, সাউদ আফ্রিকা; জার্নাল অফ এনিম্যেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন, নাইজেরিয়া এবং বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত জার্নাল অফ লাইভেস্টক রিসার্চ, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ এনিম্যেল রিসোর্সেস, জার্নাল অফ শেরে বাংলা এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ লাইভস্টক জার্নাল।

পুরস্কার, স্বীকৃতি ও অর্জন
তরুণ গবেষক হিসেবে ঈর্ষণীয় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন শাকৃবি’র সহযোগী অধ্যাপক ড. কে,বি,এম, সাইফুল ইসলাম। প্রাণী চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ পর্যন্ত ১০ বার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার, স্বীকৃতি ও বৃত্তি লাভের বিরল অর্জন রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : ফ্রান্সের ন্যাশনাল ভেটেরিনারি স্কুল অফ প্যারিস কর্তৃক ‘ভিজিটিং স্কলার’ হিসেবে ২০১৭ সালে বিভিন্ন ল্যাব পরিদর্শন, বৈজ্ঞানিক সভায় অংশগ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক বক্তৃতা প্রদানের জন্য ফ্রান্স গমন।
বাংলাদেশের একমাত্র ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে পোষা প্রাণী চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য পরপর তিন বার আন্তর্জাতিকভাবে ‘কি ওপিনিয়ন লিডার’-এর স্বীকৃতি অর্জন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথমবার ২০১৫ তে ভিয়েতনামে, ২য় বার ২০১৫ তে ফিলিপিনস এ এবং ৩য় বার ২০১৬ তে মালয়েশিয়ায়।
থাইল্যান্ডের পাতায়া’তে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত “ফিফথ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাসটেইনেবল এনিমেল এগ্রিকালচার ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তরুণ তিনি বিজ্ঞানী পূরস্কার-২০১৫ অর্জন করেন। উল্লেখ্য, এই সম্মেলনে বিশ্বের ৪১ দেশের ৪৫০ জনেরও অধিক তরুণ বিজ্ঞানী অংশ নিয়েছিল।
চীনের বেইজিং এ অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড কনফারেন্স অন ব্যাকটেরিওলজি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে ২০১৪ সালে আমেরিকান সায়েন্টিফিক রিসার্চ, ওপেন এক্সেস লাইব্রেরি ও চীনের ইঞ্জিনিয়ারিং ইনফরমেশন ইন্সটিটিউট কর্তৃক যৌথভাবে প্রদত্ত তরুণ গবেষক পুরস্কার-২০১৪ এবং কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সোসাইটি প্রদত্ত ‘ট্রাভেল গ্র্যান্ট ২০১৪‘ অর্জন করেন।
জাপানের সাপ্পোরো‘তে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সোসাইটির কংগ্রেসে ‘সিক্সথ এশিয়ান কনফারেন্স অন ল্যাকটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এশিয়ার তরুণ ল্যাব বিজ্ঞানী পূরস্কার-২০১১  অর্জন করেন। উল্লেখ্য, এই সম্মেলনে ৬১ দেশের ৪৩০০ জনেরও অধিক বিজ্ঞানি অংশ নিয়েছিল। এছাড়া বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, পরপর ২ বার (২০০৬ ও ২০০৮) জাপান সরকারের মনবুকাগাকুশো বৃত্তি লাভ করেন কে.বি.এম. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া তিনি ২০০৬ সালে ডেনমার্ক সরকারের ‘ডানিডা ফেলোশিপ’ লাভ করেন।
এছাড়া তীক্ষèধিসম্পন্ন তরুণ কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম প্রাথমিক (১৯৮৭) ও জুনিয়র বৃত্তি (১৯৯০) লাভ- ট্যালেন্টপুল; ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ স্কলারশিপ কাউন্সিল কর্তৃক বৃত্তি এবং ডিভিএম পরীক্ষায় ১ম শ্রেণীতে ১ম হওয়ায় মেধা পুরস্কার (স্বর্ণপদক); বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটির ‘জিনিয়াস এওয়ার্ড-২০১৬’, বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটির ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০১৬’ এবং বাংলাভিশন ফাউন্ডেশনের ‘মাদার তেরেসা পদক-২০১৭’ লাভ করেন।

কর্মময় জীবন
ড. কে বি এম সাইফুল ইসলামের রয়েছে পেশাগত সম্পৃক্ততার এক বিস্তৃত জগত। তিনি আজীবন সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত আছেন বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটি, বাংলাদেশ; হক্কাইডো ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশন, জাপান; দি ভেট এক্সিকিউটিভ, বাংলাদেশ; বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন; ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ এবং চিটাগং ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশনে।
এছাড়া জনাব ইসলাম জাপানের বিফিডাস ফাউন্ডেশন ও জাপান সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, দ্য নেদারল্যান্ডসের  ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সোসাইটি, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ফর বাংলাদেশি বায়োটেকনোলজিস্ট, ইউএসএ; সায়েন্টিস্ট সলিউশন, ইউএসএ; কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ; ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন এবং জাপানিস ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ-এর আজীবন সাধারণ সদস্য।

সামাজিক সম্পৃক্ততা
দেশাত্মবোধের চেতনায় উজ্জীবিত কে,বি,এম, সাইফুল ইসলাম শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুজিব আদর্শের সংগঠন নীল দল-এর সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ল্যাঙ্গুয়েজ কাবের মডারেটর; অলাভজনক এনিমেল ওয়েলফেয়ার সংগঠন কেয়ার ফর পজ-এর ভাইস-চেয়ারম্যান এবং দেশের প্রথম অনলাইনভিত্তিক প্রাণীস্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভেট অ্যান্ড পেট কেয়ার’-এর ফাউন্ডার এবং চিফ কনসালটেন্ট।

চেতনায় দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ
ড. কে.বি.এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, বড় বড় অফার রেখে দেশে ফিরে এসেছি। দেশে মেধার মূল্যায়ন হোক বা না হোক দুঃখ নেই, দেশের জন্য দেশে থেকেই কাজ করে যাবো। তবে এই বিষয়ে আগামীতে শুধুমাত্র গবেষণার জন্য বিদেশে যেতে পারি। তাঁর উপলব্ধি হলো, প্রাণীসম্পদ ও মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশের সকল মানুষ ও প্রাণীর উপকার হবে।
এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, আমরা জানতাম ব্যাকটেরিয়া শুধুমাত্র ক্ষতিকর প্রাণী। বর্তমানে বেছে বেছে প্রো-বায়োটিক বা উপকারীকারী ব্যাকটেরিয়া মানুষ ও যাবতীয় প্রাণীকূলের উপকারে ব্যবহার করা যাবে। যে প্রাণী-ই প্রো-বায়োটিক ভক্ষণ করবে, তার শরীরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থেকে ধ্বংস হয়ে যাবে, এতে ওই প্রাণ উপকৃত হবে।
অচিরেই বড় ধরনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে আশা করে কে.বি.এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ ও পশু-পাখির জন্য কোটি কোটি ডলারের প্রো-বায়োটিক ব্যাকটেরিয়া বিদেশ থেকে ক্রয় করে আনা হয়। আমার গবেষণালব্ধ ফলাফল এখন দেশের প্রাণীসম্পদ গবেষণায় প্রো-বায়োটিক ডেভেলপমেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ডেভেলপমেন্ট যে অবস্থায় রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করলেই কোটি কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। বর্তমানে তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফলের উন্নয়ন চলছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*