বাংলাদেশি তানভিনার সুইডেন জয়

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।দেশ গড়ার সকল কাজে নারীরা আজ পুরুষের পাশাপাশি অবদান রেখে চলেছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বাঙালি নারীর আজ এগিয়ে গেছে। কি ঘরে, কি বাইরে, লড়াই করে জিতে যাচ্ছেন তারা। তাদের সেই লড়াইয়ের গল্প শুনবো আজ। শুনবো তাদের ভেতরের কষ্টের কথা। সুইডেনে মেধা ও শ্রম দিয়ে রেস্তোঁরা ব্যবসায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন তেমনই এক বাংলাদেশি সফল নারী উদ্যোক্তা তানভিনা মহসিন।তার এ স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনে রয়েছে নিজের পরিশ্রম ও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। পথে পথে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে, তবে কখনোই দমে যাননি তিনি। বিশে দেশের নাম সমুজ্জ্বল করেছেন তানভিনা। তিনি একসময় স্বপ্ন দেখতেন ‘বস’ হবেন। অনেক মানুষ কাজ করবে তার প্রতিষ্ঠানে। বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে তুলবেন ব্যবসার মাধ্যমে। তার স্বপ্ন এখন হাতের নাগালে। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ২০০১ সালে ‘ইন্ডিয়ান গার্ডেন’ নামে চালু করেন একটি রেস্তোরাঁ। এখন তার ছয়টি রেস্তোরাঁ ও একটি ফুড ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে। তানভিনা অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গোল্ড ড্রাগন পুরস্কার, ব্রিটিশ অ্যাওয়ার্ড, সেরা ইউরোপিয়ান কারি শেফ পুরস্কার, লন্ডনে সেরা ইউরোপিয়ান কারি শেফ পুরস্কার। ব্যবসা তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক সফলতা। কিন্তু এই উঠে আসতে হয়েছে তাকে কঠোর সংগ্রাম করে। সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তিনি পেরেছেন। সফল একজন ব্যবসায়ীর পাশাপাশি তিনি একজন মানবতাবাদী মানুষ ও সুইডেনে বাঙালি সফল নারীর আইডল হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।

সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে এলে শিক্ষা, সংসার, ব্যবসা এবং প্রবাসে তার অগ্রযাত্রার কথা জানান। গল্পের ফাঁকে এ প্রতিবেদককে জানান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনকাহিনী। বাঙালিদের নিয়ে তার স্বপ্ন, দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা। ওঠে আসে কীভাবে তিনি সৎভাবে ব্যবসা করে অর্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা।
তানভিনা মহসিনের জন্ম ১৯৭৫ সালে ঢাকার সোনারগাঁয়ে। ১২ বছর বয়সে শুরু হয় তার প্রবাসজীবন। তাই কৈশোরটা কেটেছে সুইডেনেই। ছোটবেলা থেকেই তার মাথায় ঘুরপাক খেতো একজন সফল মানুষ হওয়ার, সফল ব্যবসায়ী হওয়ার। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন হয়েছে। সৎভাবে ব্যবসা করে হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত।
উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন এবং রেস্টুরেন্টের যাত্রা কবে থেকে শুরু করেছেন জানতে চাইলে তানভিনা মহসিন বলেন, সুইডেনে স্কুল-কলেজের পড়াশোনা শেষ করার পরই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ভালো একটি চাকরির অফার পাই একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে। সেখানে এক বছরের মতো কাজ করেছি। তারপর করিম রেজাউলকে বিয়ে। ওখানে কাজ করা অবস্থাতে মনের মধ্যে একটা বিষয় বার বার কাজ করেছে- যে আমি ‘বস’ হবো। তখন আমার স্বামীকে বলেছি যে, আমি বস হবো। আমার কিছু করতে হবে। অন্যের অধীনে কাজ করবো না। তারপর আমরা অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষে ‘থ্রি ইন্ডিয়া’ নামে একটি নামকরা রেস্টুরেন্টে কাজে যোগদান করি। সেখানে আমার স্বামী কিচেনে শেফের কাজ করতো। আর আমি সামনেরটা দেখতাম। ওখানে কাস্টমারদের সঙ্গে কথা বলতে হতো, ওয়াইন হুইস্কি সার্ভ করতে হতো। ওখানে এক বছর কাজ করার পর আমরা রেস্টুরেন্ট খুঁজতে শুরু করি। প্রায় এক বছর পর ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্ট পেয়ে যায়। কিন্তু শুরুর বছর খানেক খুব একটা ভালো ছিল না। রেস্টুরেন্টটির নাম ছিল ‘ইন্ডিয়ান গার্ডেন’। কেনার পর নামটা আর পরিবর্তন করিনি। তবে নামে ইন্ডিয়ান গার্ডেন হলেও আমরা আমাদের মতোই পরিবেশন করি। মান বজায় রেখেছি। ওখানে একটা সুইডিশ বিশেষ পরিবেশ নিয়ে এসেছি। তবে সুইডিশ কাস্টমারদের খুব বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কেবল বাংলাদেশির জন্য না, ওখানে এখন আমাদের ছয়টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। আগামীতে ‘বাংলা গার্ডেন’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট করার কথা ভাবছি।

সফলতা ধরা দেয় কবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ইচ্ছে ছিল ভালো কিছু করার। এক বছর রেস্টুরেন্টটি ভালো না গেলেও হাল ছাড়িনি। কাস্টমারদের ওপর খুব খেয়াল রাখতাম। খুঁজতাম কাস্টমার কি চায়। পরে তা পূরণ করি। একদিন দেখলাম সুইডেনের একটি জনপ্রিয় পত্রিকায় আমাদের রেস্টুরেন্ট নিয়ে একটি নিউজ। ওই পত্রিকার প্রথম পাতায়। সেখানে আমাদের বিশেষত্ব তুলে ধরা হয়। এক সময় আমরা ‘বেস্ট রেস্টুরেন্ট’ উপাধি অর্জন করি। ওইদিন সেখানে সুইডেনের রাজাও উপস্থিত ছিল। আমি খুবই সারপ্রাইজ। এরপরই আমাদের কাস্টমার বেড়ে গেল। এক বছরের মধ্যে বদলে যায় আমাদের রেস্টুরেন্টের চিত্র, যা আমরা ভাবতেও পারিনি। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন আমাদের ছয়টি রেস্টুরেন্ট। সাড়ে চারশ’ মানুষ কাজ করে। সুইডেনের সবচেয়ে অভিজাত এলাকায় আমার বাড়ি।

ইন্ডিয়ান গার্ডেন রেস্টুরেন্টের বিশেষত্ব কি জানতে চাইলে তানভিনা মহসিন বলেন, রেস্টুরেন্টের বিশেষজ্ঞত্ব ছিল- খাবার খুব ফ্রেশ, সার্ভিস খুব ভালো। মানুষ যে ওয়াইন খাবে সেটা টেস্ট করে খায়। এগুলো আমরা খুব ভালোভাবে মেনটেইন করি। সসেও আমাদের বিশেষত্ব ছিল। পাঁচ রকমের সস ব্যবহার করি আমরা, যা অন্য কোন রেস্টুরেন্টে নেই।
এই সফলতার পেছনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাহস করে রেস্টুরেন্টটি প্রতিষ্ঠা করেছি। নারীদের সাহস প্রয়োজন। সাহস থাকলেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আমাদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। অনেকেই আছেন যারা রেস্টুরেন্টে কাজ করাকে অন্যভাবে দেখে, এমন খারাপ ধারণা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। মেয়েরা সব জায়গায় কাজ করতে পারে। সেটা মেয়ে হিসেবে না দেখাটাই ভালো। মানুষ হিসেবে দেখুন। এখন আমার রেস্টুরেন্টে দুই-আড়াইশ’ বাঙালি আছে। তবে আমি একটা বিষয় পছন্দ করি না যে, আমার রেস্টুরেন্টে সব বাঙালি কাজ করবে। আমি ২০০৪ সালে প্রথম ডিএন এর মর্যাদাপূর্ন পুরস্কার গোল্ড ড্রাগন, ২০০৫ সালে গোল্ড ড্রাগন প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত এবং প্রথম স্থান অধিকার, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় বারের মতো গোল্ড ড্রাগন পুরস্কার, ২০১০ সালে চতুর্থবারের মতো গোল্ড ড্রাগনের জন্য মনোনীত, ২০১০ সালে ব্রিটিশ অ্যাওয়ার্ড, ২০১২ সালে সেরা ইউরোপিয়ান কারি শেফ পুরস্কার, ২০১৪ সালে লন্ডনে সেরা ইউরোপিয়ান কারি শেফ পুরস্কার অর্জন করি। ২০১৫ সালে আরো দুটি রোস্তরাঁ ও ফুড ফ্যাক্টরিও চালু করি।

বাংলাদেশ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তানভিনা মহসিন বলেন, আমি এখন মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছি। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশে সুইডিশ স্টাইলে বড় একটা রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করবো। যেখানে কেবল মেয়েরাই কাজ করবে। আমি চাই- শিক্ষিত নারীরা কাজ করুক। সুইডেন থেকে শেফদের নিয়ে আসবো। তবে বাঙালি খাবারও থাকবে। বাংলাদেশে এখন প্রচুর মানুষ এবং মানুষের মন-মানসিকতার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যদি এ ধরনের একটা রেস্টুরেন্ট হয় তা চলবে এবং আমি সফল হবো দেশেও।
একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কোনো বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুইডেনে ব্যবসা করতে গিয়ে কখনো কোনো বাধার সম্মখিন হইনি। সুইডেনে এই জিনিস থেকে সবচেয়ে আলাদা। ওরা চায়- আপনি যদি কিছু করতে চান তাহলে ওরা বরং ধাক্কা দিয়ে উপরে নিয়ে যাবে। তারা অনেক সহযোগিতা করে। আমি তাদের কাছ থেকে অনেক সাপোর্ট ও ভালোবাসা পেয়েছি। ওদের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বন্ধুর মতো। পরিবারের সদস্যের মতো। রেস্টুরেন্ট দেয়ার এক বছরে মাঝে মাঝে হতাশ হতাম। তবে আমার স্বামী আমাকে সাহস জোগাতো।
অনেক নারীর অনেক আইডিয়া আছে, পুঁজির অভাবে কিছু শুরু করতে পারে না, অনেকের সাহসেরও অভাব! এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে তানভিনা বলেন, যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা নিয়েই চেষ্টা চালানো উচিত। কারোর ওপর নির্ভর না করে। তবে বাংলাদেশের ব্যাংক থেকেও ঋণ নিতে পারে। এখন অনেক সহজ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার অনেক সহযোগিতা করছে নারী উদ্যোক্তাদের।
পরিবার, সংসার, বিজনেস ম্যানেজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার তিন সন্তান। আমি ওখানে সকাল সাতটায় ঘুম থেকে ওঠি। ওঠে দেখি হাঁটু পর্যন্ত বরফ। আমার গাড়িটা পুরো বরফ দিয়ে ডেকে যায়। ওই বরফটাকে কেটে কেটে ঠিক করি। বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসি। একটু বিশ্রাম নিই। তারপর অফিসিয়াল কাজ করি। পাশাপাশি রান্নাটাও করতে হয়। বিকেলে চলে যাই রেস্টুরেন্টে।
সুইডেনে বাংলাদেশিদের অবস্থা কেমন জানতে চাইলে তানভিনা বলেন, সুইডেনে বাংলাদেশিদের অবস্থা খুব একটা ভালো না। আমরা অনেক কষ্ট করে ছয়টা রেস্টুরেন্ট করেছি। সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখেছি। যারা বাংলাদেশ থেকে গেছে তারা তো সব রেডি পেয়েছে। এখন ইতালির অবস্থা খুব খারাপ। ওখানে কাজ নেই। ওখান থেকে অনেকেই সুইডেনে চলে আসছে। আমাদের রেস্টুরেন্টে অনেকেই এসে কাজ চায়। আমি চেষ্টা করি তাদের কাজ দিতে। আমাদের দেশ থেকে যাওয়া অনেক ছেলে আছে যারা নিজেদের ভিটা বাড়ি বিক্রি করে সুইডেনে গেছে। কিন্তু ওখানে তারা অনেক কষ্ট করে থাকে। একটা রুমে ৩-৪ জন করে। অনেক কষ্ট করতে হয়। তাদের লাইফটাকে উপভোগ করতে পারে না। বারে যেতে পারে না। যায় না। জীবনকে উপভোগ করে না। কেবল নিজের পরিবারের জন্য। যা আয় করে তা পরিবারের জন্য পাঠিয়ে দেয়। তবে ওদের বাবা-মা’র ওপর আমার রাগ লাগে। বিদেশে না পায়ে তারা দেশেই ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে।
রেস্টুরেন্টে খাবারের মান কীভাবে নির্ধারণ করেন জানতে চাইলে তানভিনা বলেন, আমাদের ছয়টা রেস্টুরেন্টের জন্য একটি খাবারের ফ্যাক্টরি আছে। ওই ফ্যাক্টরিতে আমার স্বামী সস তৈরি করে রেখে দেন। ওখানে যা যা লাগে তা তিনি রেখে দেয়। ওখানে শেফ ওকে আছে কিনা তা দেখে ওই ফ্যাক্টরি থেকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়।
সফলতা ও প্রাপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, আমি কাজ করি সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে। ওখানকার মানুষগুলো আমাকে খুব পছন্দ করে। ওরা আমার নাম দিয়েছে স্টকহোমের কুইন। মাদার প্লাস কুইন। আমরা সুইডেন থেকে অনেক প্রাইজ পেয়েছি। সুইডেনে একটা রেস্টুরেন্ট থেকে কিন্তু অন্যটির ডেকোরেশন আলাদা। আমার রেস্টুরেন্টে বিশেষ তিনজন ইন্ডিয়ান শেপ রয়েছেন। এছাড়াও যারা রয়েছেন তারা খুব দক্ষ। আমার যা প্রত্যাশা ছিল তার চেয়ে বেশি সফল আমি। আমার প্রিয় শখ সবজি চাষ। আমি নিজেও ভেজিটেরিয়ান। তবে আমার সফলতার পেছনে যার কাছে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ তিনি আমার বড় ভাই শাহ আলী রিয়াজ।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তানভিনা বলেন, দেখুন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন বলতে যা, তা কিন্তু এখনও দেখছি না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার অনেক পরিবর্তন দরকার। এখানে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা এখনও বিদ্যমান। নারীদের স্বাধীনতা এখনও আসেনি। স্বাধীনতা প্রয়োজন। এখানে নারীকে নারী না ভেবে একজন মানুষ হিসেবে ভাবতে হবে। সেটা কেবল পুরুষ ভাববে তা নয়, একজন নারী নিজেকে সে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। নারী হিসেবে নয়। আমাদের দেশে দেখছি- নাক মুখ ঢেকে নারীরা ঘর থেকে বের হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর বাধ্যবাধকতা আছে। এতে তো নারী তার স্বাধীনতা হারাচ্ছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করলে এর প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের দেশে প্রথম থেকেই মেয়েদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় যে, তুমি একটা মেয়ে। তাকে রান্না করতে হবে, ঘর ঘোছাতে হবে, বাচ্চা

পালতে হবে, সংসার করতে হবে। এটা তো ঠিক না। আমার কষ্ট হচ্ছে ওখানে যে, মা-বাবা মেয়েদের কষ্ট করে পড়াশোনা করায় কিছু একটা করার জন্য, কিন্তু তারা বিয়ের পর সেই পড়াশোনা কাজে লাগায় না। সংসার নিয়েই থাকে। এছাড়াও দেখা যায় আমাদের দেশে সব ধরনের বিজ্ঞাপনে মেয়েদের ব্যবহার করা হয়। একটা টেলিফোনের কার্ডেও মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে, যা মেয়েদের ছোট-ই করা হচ্ছে। সুইডেনে বিজ্ঞাপনে ছেলে-মেয়েদের কোনো বিভেদ নেই। বিজ্ঞাপনে ছেলেদেরও দেখা যায়।
তানভিনা মহসিন ভালোবাসে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের মানুষকে। তাই সময় পেলেই বার বার ছুটে আসেন দেশে। তিনি বলেন, আমার ভাইরা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমার প্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। তাকে আমার খুব ভালো লাগে। সুইডেনে বাঙালিদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি। তবে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে। পরবর্তী প্রজন্মকে ওইসব বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন।
প্রবাসে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বপ্ন অনেক। ইচ্ছা আছে দেশের জন্য, জাতির জন্য কিছু করার। ভবিষ্যতে এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মাহতাব শফি

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*