নিয়মিত যোগাসনে ভাল থাকুন

যোগাসনের উৎপত্তি ভোলা মহেশ্বর অর্থাৎ শিব ঠাকুরের হাতে তা কি জানেন? যোগ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে শিব ঠাকুর প্রায় ৮৪ লক্ষ যোগাসনের উদ্ভাবন করেছেন। এদের মধ্যে মানুষের উপযোগী আসনের সংখ্যা মাত্র ৮৪ টি। এর মধ্যে কয়েকটি আসনকে বেছে নিলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও যেমন বাড়বে একইসঙ্গে মানসিক চাপকে বশেও রাখা যায় আর ভালও থাকা যায়।

উত্থানপদাসন: চিৎ হয়ে শুয়ে দুহাত শরীরের দুপাশে রাখুন। দুই পা একসঙ্গে জোড়া ও সোজা করে মাটি থেকে এক হাত উপরে তুলুন। স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিতে নিতে কুড়ি থেকে তিরিশ গুনুন। এই ভাবে তিনবার করতে হবে। এই আসনটি করার সময় লক্ষ্য করবেন পেটে বেশ চাপ পড়ছে। আসলে এতে পেটের পেশী মজবুত হয়। পেটের মেদ ঝড়াতে এই আসন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। আমাশয় ও গ্যাস্ট্রারাইটিসের ক্ষেত্রেও উপযোগী।

পবনমুক্তাসন: চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার প্রথমে ডান পা হাঁটু থেকে ভাঁজ করে পেত ও বুকের ওপর রেখে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে চেপে ধরুন। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে মনে মনে কুড়ি পর্যন্ত গুনতে হবে। একই ভাবে বাঁ পা ও পরে দুই পা একত্রে পেটের ওপর রেখে আসনটি করুন। পেটের বাড়তি চর্বি ঝড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বল, হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্যেও এই পবনমুক্ত আসন খুব উপকারি।

সুপ্ত বজ্রাসন: মাটিতে হাঁটু মুড়ে বজ্রাসনে বসুন। এইবার পেছন দিকে ধীরে ধীরে সুয়ে পড়ুন। দুহাত সোজা রেখে মাথার দুপাশে আনুন। এরপর দুহাত কনুই থেকে ভাঁজ করে ডান হাতের চেটো দিয়ে ডান কনুই ধরুন। স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসে মনে মনে কুড়ি পর্যন্ত গুনুন। এরপর শবাসনে বিশ্রাম নিন। তিনবার অভ্যাস করুন। থলথলে ঊরু ও পেট টোন করতে এই আসনটি অত্যন্ত কার্যকর। এমনকি হজমের গোলমাল থাকলেও তা দূর করে খিদে বাড়ায়।

অর্ধকূর্মাসন: মাটিতে বজ্রাসনে বসুন। এইবার হাত দুটি সোজা করে মাথার ওপরে তুলে নমস্কারের ভঙ্গিতে জড়ো করুন। পেট ও বুক যেন ঊরুর মঙ্গে লেগে থাকে। এই অবস্থায় মনেমনে কুড়ি পর্যন্ত গুনুন। ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসে শবাসনে বিশ্রাম নিন। এই ভাবে তিনবার অভ্যাস করতে হবে। পেট ও নিতম্বের চর্বি কমাতে এই আসনটি অত্যন্ত উপযোগী।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*