পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে আমিয়াকুম

বান্দরবানের গহীনে অবস্থিত আমিয়াকুম বাংলাদেশের ঝরণাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ঝরনার সামনে পৌঁছাতে হলে আপনাকে পাড়ি দিতে হবে বেশ লম্বা পথ। কিন্তু কষ্ট করে একবার পৌঁছালে দূর হয়ে যাবে পথের সব ক্লান্তি।

ঢাকা থেকে রাতের বাসে রওনা হলে আপনি বান্দরবানে পৌঁছাবেন সকালে। এরপর লোকাল বাস বা চান্দের গাড়িতে করে যেতে হবে থানছি বাজার। থানছি পৌঁছে আমিয়াকুম পর্যন্ত একজন গাইড ঠিক করতে হবে। এই ঝরনায় পৌঁছানোর দুটি পথ আছে।

পথ ১: থানছি বাজার থেকে নৌকা নিয়ে যেতে হবে রেমাক্রি। পথে পড়বে তিন্দুর বড় পাথর এলাকা। বড় বড় পাথর আর পাহাড়ঘেরা তিন্দুর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যাবেন। রেমাক্রি পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পে এন্ট্রি করে নিতে হবে নিজেদের যাবতীয় তথ্য।

খুব ভোরে উঠে রেমাক্রি খাল ধরে এগোতে থাকুন। তিন ঘণ্টারও কম সময়ে পেয়ে যাবেন আরেক সুন্দরী ঝরনা নাফাকুম। পথ যেহেতু একটাই, তাই আমিয়াকুমের পরিকল্পনা করার সময় নাফাকুমটাও একই তালিকায় রাখা উচিত। এখানে সময় কাটিয়ে এগোতে থাকুন থুইসা পাড়ার পথে। সন্ধ্যার মাঝেই পৌঁছে যাবেন থুইসা পাড়া।

খুব ভোরে উঠে রওনা হয়ে যান অনিন্দ্যসুন্দরী আমিয়াকুম দেখতে। অনেক কষ্টে দেবতা পাহাড় পেরিয়ে দাঁড়ালে দেখতে পাবেন গহীনে লুকিয়ে থাকা এই ঝরনাকে। এখানে সময় কাটিয়ে কিছু দূর এগিয়ে গেলে আছে ভেলাকুম, সাত ভাই কুম। সময় থাকলে সেখানে ঘুরতে পারেন ভেলা নিয়ে। চেষ্টা করুন অন্ধকার হওয়ার আগেই থুইসা পাড়া ফিরতে। আবার চাইলে রাতটা এখানেই কাটিয়ে দিতে পারেন ক্যাম্পিং করে।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটিয়ে এবার বাড়ি ফেরার পালা। তাই সকাল সকাল রওনা হয়ে যান থানছির পথে। এবার ফিরতে পারেন সেই পথ দিয়েই, যে পথে আপনি এসেছেন।

পথ ২: পাহাড় ডিঙিয়ে রেমাক্রি খাল ছেড়ে দিয়ে পদ্ম ঝিরি হয়ে পদ্মমুখে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে নৌকা করে সোজা চলে যাবেন থানছি। এই পদ্ম ঝিরি দারুণ সুন্দর এক ঝিরি পথ। ছোট-বড় পাথরে ভরা। ঝিরির পানি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভুলে যাবেন পথের ক্লান্তি।

কিছু টিপস

১. যদি বড় দল হয়, তাহলে বান্দরবান থেকে থানছি স্থানীয় বাসে যাতায়াত না করে চান্দের গাড়ি ভাড়া করতে পারেন।
২. নিরাপত্তার জন্য বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে অনুমতি নেবেন।
৩. এসব অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ আছে। তাই ভ্রমণের আগের দিন থেকেই ম্যালেরিয়া প্রতিরোধক ওষুধ সেবন শুরু করা উচিত।
৪. ট্রেকিং উপযোগী ভালো গ্রিপের জুতা পরবেন ও ট্রেকিংয়ের জন্য যথাযথ ব্যাগ বহন করবেন।
৫. পেইন কিলার, খাবার স্যালাইন আর প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো সাথে রাখুন।

শুভ হোক আপনার ভ্রমণ।

সূত্র: প্রিয়.কম

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*