মেসির মতোই ব্যর্থ নেইমার

‘বি’ গ্রুপে পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচ ড্র’য়ে নিস্পত্তি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়৷ ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগীজদের একাই টেনে নিয়ে গিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো৷ সেখানে ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশ দল সেয়ানে সেয়ানে লড়াই চালিয়ে গ্রুপের সব থেকে কঠিন ম্যাচ উতরে গিয়েছে না হেরে৷ তবে ‘ডি’ গ্রুপে আইসল্যান্ডের কাছে আর্জেন্তিনার আটকে যাওয়া ও ‘এফ’ গ্রুপে মেক্সিকোর কাছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির হার কার্যত রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতেই অঘটন হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে৷

অঘটনের তালিকা আরও দীর্ঘ হল ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সুইজারল্যান্ডের কাছে আটকে যাওয়ায়৷ প্রথমার্ধে কুটিনহোর গোলে এগিয়ে গিয়েও নেইমাররা ১-১ গোলে ড্র করে সুইসদের বিরুদ্ধে৷

বিশ্বকাপের আগে ফুটবল বিশ্বের নজর ছিল রোনাল্ডো, মেসি, নেইমার ত্রয়ীর দিকে৷ প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে সিআর সেভেন বিশ্বকাপের নায়ক হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ গোল করা তো দূরের কথা, আর্জেন্তিনার প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে কার্যত খলনায়ক বনে গিয়েছেন মেসি৷ সেই অর্থে নেইমারকে খলনায়ক বলা যাবে না বটে, তবে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে তাঁকে পার্শ্বচরিত্র হিসাবেও বিবেচনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে৷

মেসির মতো একাধিক মার্কার বরাদ্দ ছিল নেইমারের জন্যও৷ এক মুহূর্তের জন্য খালি জায়গা ছেড়ে রাখা হয়নি নেইমারের আশেপাশে৷ প্রতিপক্ষের বেড়াজাল ভাঙতে পারেননি মেসি৷ নেইমারও পারলেন না৷ তবু ব্রাজিল সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছিল ২০ মিনিটে ফিলিপ কুটিনহোর দুরন্ত গোল৷ প্রথমার্ধে চালকের আসনে থাকা ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে গোল খেয়ে বসায় কাজে লাগেনি বার্সা তারকার মূল্যবান অবদান৷

৫০ মিনিটের মাথায় হফেনহেইমের মিডফিল্ডার স্টিভেন জুবের কর্ণার কিক থেকে হেডারে ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান৷ বাকি সময়ে ব্রাজিল মরিয়া আক্রমণে গিয়েও ম্যাচের স্কোরলাইন বদলাতে পারেনি৷ প্রতিআক্রমণ থেকে সুইসরাও বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বটে, তবে ধৈর্য্য দেখাতে না পারায় তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা৷

ঘরের মাঠে গত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭ গোলের দুঃস্বপ্ন এখনও তাড়া করে বেড়ায় ব্রাজিলকে৷ এবার নতুন মোড়কে ব্রাজিলিয়ান দলের লক্ষ্য ছিল ইতিবাচক শুরু৷ সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরুটা মন্দও হয়নি তাদের৷ তবে গোটা ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য দেখাতে পারেনি নেইমার, জেসুস, কুটিনহোরা৷ ফলে সুরুতেই পয়েন্ট ভাগ করে নিতে হয় তিতের দলকে৷ কোস্টারিকা ও সার্বিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপের বাকি দু’টি ম্যাচ এখন ব্রাজিলের কাছে মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াল৷

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*