পাহাড়ের কোলে লেপচা

ভুটানের কাছে ছোট্ট গ্রাম লেপচাখা। ট্র্যাক করতে করতে যেখানে প্রকৃতির অপরূপ শোভায় হারিয়ে যাওয়া যায়। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা গ্রামটি। সুন্দর বনানীর মধ্য দিয়ে চওড়া পথ। ভদ্রস্থ চড়াই পথ। যেকোনো বয়সের মানুষ এ পথে আরামে চলতে পারবেন।

পথের মাঝে দু’ধারে নানা রঙের ফুলের গাছ। পথের দু’পাশের দৃশ্য চলার কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। ক্লান্তির অনুভবই আসে না। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট উচ্চতায় গেলে বাংলা ও ভুটান সীমান্তের রূপসী গ্রাম, লেপচাখা।

গ্রামটি পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত হলেও এটি আদৌতে একটি ভুটানি গ্রাম। এখানকার সকল অধিবাসীই ডুকপা সম্প্রদায়ের। প্রায় সত্তর-আশি ঘর লোক। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাস করেন। এই গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা চাষাবাদ। ভুট্টা, আদা, আলু, বাঁধাকপি, স্কোয়াশ, লেবু ইত্যাদি চাষ হয়। গ্রামের মাঝে তিব্বতি গুম্ফা। চারধারে প্রার্থনা পতাকা।

ভুটানের পাহাড় দিয়ে ঘেরা ডুয়ার্সের উচ্চ তরাই অঞ্চল। পাহাড়ের ওপাশেই ভুটান। এ পাশের গ্রামগুলো হলো— ফুলবাড়ি, আদমা, গোপ্তা, নামনা, চুনাভাটি, সদরবাজার, বক্সা, লেপচাখা, তাসিগাও, অংচুলুং। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরে চীনা ও তিব্বতিরাও এসব অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।

সবুজ রঙের কাঠের দো’তলা ডুকপা ট্রেকার্স হাট আশ্রয়স্থল। সামনে উন্মুক্ত দিগন্ত। সবুজ পাহাড়, ছোট ছোট গ্রাম, সোপান খেত, নদীধারা, বৃক্ষরাজি। বাংলার উচ্চ তরাইয়ের এই অখ্যাত গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কারও চোখ জুড়িয়ে দেয়।

এখানে সূর্যোদয় মিস করা যাবে না। সূর্যোদয় দেখার জন্য যেতে হবে রোভার্স ভিউ পয়েন্ট। ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চড়াই পথ।

যেভাবে যাবেন:
ট্রেনে নিউ আলিপুরদুয়ার বা আলিপুরদুয়ার জংশন। সেখান থেকে গাড়িতে ৩২ কিলোমিটার দূরে সান্তারাবাড়ি। বড় গাড়ির ভাড়া প্রায় ১২০০ টাকা। রাজাভাতখাওয়া চেকপোস্টে জন প্রতি ৬০ টাকা প্রবেশমূল্য লাগে। গাড়ি পিছু লাগে ২৫০ টাকা। লেপচাখা চার কিলোমিটার দূরে। ট্র্যাক করে যাওয়া যায়। রাস্তা বেশ চওড়া।

কোথায় থাকবেন:
লেপচাখায় থাকার জন্য গোটা পাঁচেক হোম স্টে আছে। ব্যবস্থা বেশ ভালো। থাকা-খাওয়া জন প্রতি, প্রতিদিন ৮০০ টাকা। বক্সায় থাকার জন্য সাধারণ মানের দু’একটি হোম স্টে রয়েছে।

যা দেখবেন:
প্রধান আকর্ষণ লেপচাখার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। লেপচাখা থেকে ছোট ছোট ট্র্যাক করে ঘুরে আসা যায় চুনাভাটি, অংচুলুং ও তাসিগাও। ভুটান পাহাড় দিয়ে ঘেরা টেবিলের মতো একচিলতে লেপচাখায় দিন দুয়েক কাটানোর অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ। অতি উৎসাহীরা রূপম ভ্যালি ট্র্যাক করতে চাইলে সঙ্গে টেন্ট ও রেশন থাকা বাঞ্ছনীয়।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*