একদিনের ট্যুর!

তারুণ্যলোক ডেস্ক: কম খরচে কম সময়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্যে চট্টগ্রেমের সীতাকুন্ড এবং মিরসরাইয়ের রেঞ্জ গুলো অনেক বেশী সুবিধাজনক। কেউ চাইলে দিনে গিয়ে দিনেই চলে আসতে পারেন অথবা রাতে রওনা দিয়ে সারাদিন ঘুরোঘুরি করে রাত ১২ টার মধ্যে ঢাকায় অবস্থান করতে পারবেন।

এখানে আপনি পাবেন ঝর্না, পাহাড়, লেক আর সমুদ্র বীচ সহ অনেক কিছুই। রেঞ্জটিতে অনেক গুলো ঝর্না পাহাড় সীবীচ রয়েছে। একদিনে সব গুলো স্পটে ঘুরতে পারা সম্ভব না হলেও, বেশ কয়েকটি স্পট দেখে আসতে পারবেন। সাথে পাবেন পাহাড় ঝর্না পেরিয়ে রোমাঞ্চকর এডভেঞ্চারের ছোয়া। নতুনদের জন্যে এই রেঞ্জ হবে শেখার একটি জায়গা, যারা ট্রেকিং কখনোই করেন নি তাদের জন্য দারুন একটি জায়গা হতে পারে।

তবে হ্যাঁ আপনাকে সঠিক সময়ে সঠিক প্লান করে যেতে হবে। বর্ষা শীত যেকোনো সময়ে আপনি চাইলে যেতে পারবেন। তবে, ঝর্নায় পানি দেখতে চাইলে বর্ষা সময়টাই বেশী উপযুক্ত সময়।

ঢাকা থেকে দূরুত্ব ১৯৭ থেকে ২১৩ কিলোমিটার।

একদিনে সারাদিন ঘুরোঘুরি আর খাওয়া দাওয়া করে খরচ পরবে অবস্থান ভেদে ৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যেই। তবে ট্রেকিং ট্যুরে ট্যুরমীট চার থেকে পাঁচ জন হলেই ভালো। খুব ভালোভাবে ঘুরতে পারা যায় আর খরচ ও সাশ্রয়ী হয়। গ্র“প করে বেশী লোক না যাওয়াই ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

#ট্রেনে যাতায়ত: আপ-ডাউন ট্রেন ১০০+১০০=২০০ টাকা। অনেকেই যাওয়ার সময় ট্রেনে আর আসার সময় বাসের ভ্রমনটি বেচে নেন। এতে করে সময় টাকা দুটোই বেঁচে যায়।

#বাসে যাতায়ত: বাসে আপ-ডাউন জন প্রতি ৯৪০ টাকা লাগবে। আপনি চাইলে লোকাল বাসে করেও যাওয়া আসা করতে পারেন। মাত্র ৫০০ টাকায় খুব ভালোভাবেই যাওয়া আসা হবে।

#মাইক্রো যাতায়ত: মাইক্রো রেন্ট নিয়ে ট্যুরটি দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ একটু বেশিই পরবে। অথবা ভোর পাঁচটায় রওনা দিলে সকাল নয়টায় পৌঁছে যাবেন। সারাদিনের জন্য মাইক্রো রেন্ট নিলে দরদাম করে ৭০০০ থেকে ১২০০০+ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ১০/১২ জনের গ্র“প হলে বেশ ভালো হয় খরচ টা কমে আসবে। মাইক্রো নিয়ে ইচ্ছে মত ঘুড়া যাবে।

মিরসরাইয় রেঞ্জে যা দেখতে পাবেন: মহামায়া লেক, খৈয়াছড়া ঝর্না, নাপিত্তাচড়া ট্রেল, বোয়ালিয়াবাউশ্যা ট্রেল।

সীতাকুন্ড রেঞ্জে যা দেখতে পাবেন: চন্দ্রনাথ পাহাড়, সুপ্তধারা সহস্রধারা ট্রেল, কমলদহ ট্রেল, ঝরঝরি ঝর্না, সহস্রধারা-২, সোনাইছড়ি ট্রেল, গুলিয়াখালি সীবীচ, বাঁশবাড়িয়া সীবীচ এবং কুমিরা ঘাট।

এছাড়া আরো অনেক স্পট রয়েছে উপরের গুলো উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশে ঢাকার খুব কাছেই এতো সুন্দর প্লেস রয়েছে তা অনেকেরই অজানা। কিন্তু আমরা প্রকৃতিকে ভালোবেসেই তার কাছে যাওয়া হয়। আর সেই ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে পারি না।

যেখানে সেখানে নিজেদের ইচ্ছেমতো পরিবেশ নোংরা করে চলে আসি। তাই ঘুরতে গিয়ে শুধু অভ্যাস পরিবর্তন নয় সব সময়ই আমাদের অভ্যাসে পরিণত করে নিতে হবে। যেখানে সেখানে চিপ্সের প্যাকেট, বোতল ইত্যাদি ফেলে আসবো না। যদি পারি ঘুরতে গিয়ে এমন ময়লা চোখে দেখলে নিজ উদ্যোগে যথাযথ স্থানে ফেলবো।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*