চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চার তীর্থভূমি : শুভাশীষ শুভ

সংস্কৃতিকর্মী শুভাশীষ শুভ। কর্মে শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলছেন নিয়মিত। তার জন্ম চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে। বাবা সুধাংশু বিকাশ শর্মা ও মা উত্তরা শীল। মেধাবী এ তরুণ সাংঠনিক সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন তারুণ্যের সংগঠন ‘স্বপ্নযাত্রী’র । সম্প্রতি তারুণ্যের সংস্কৃতি নিয়ে তার মুখোমুখি হয়েছিলেন তারুণ্যলোকের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি খোকন মিয়া। যা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

তারুণ্যলোক : আপনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পদার্পণের গল্পটা শুনতে চাই।

শুভাশীষ শুভ : আমার জন্ম ও শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে। দুর্দান্ত একটি গ্রামে জন্ম আমার। আমার ঘুম ভাঙতো পাখির ডাকে। সবাই দল বেঁধে স্কুলে যেতাম। খেলার অনুষঙ্গ ছিল ডাংগুলি, হাডুডু, ঝুম বৃষ্টিতে ফুটবল, কড়কড়ে রোদ্র বিকেলে ক্রিকেট, বর্ষায় ভরে ওঠা বামন সুন্দর খালে দাপাদাপি। সন্ধ্যা কাটতো শিব মন্দিরে প্রার্থনায় কিংবা অষ্টপ্রহর কীর্তনের সুরে। ভূতের ভয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। বলতে পারেন এসব আমার সংস্কৃতির প্রথম পাঠ।

আমাদের গ্রামে তখন প্রতি দূর্গা পুজায় নাটক হতো। বাবাকে সেই নাটকে অভিনয় করতে দেখেছি। রাত জেগে মহড়া দেখেছি। সেই শৈশবেই এসবের প্রতি মূলত মোহ সৃষ্টি হয়। তারপর স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাটকে অভিনয়, আবৃত্তি। চট্টগ্রাম আসার পর লোক থিয়েটারের মাধ্যমে থিয়েটার চর্চার সাথে যুক্ত হই।

তারুণ্যলোক: থিয়েটারে কী কী নাটকে কাজ করেছেন?

শুভাশীষ শুভ: লোক থিয়েটারের হয়ে মনসুর মাসুদের নির্দেশনায় জহির রায়হানের গল্প ও মোহাম্মদ বারীর নাট্যরূপ ‘সময়ের প্রয়োজনে’, মান্নান হীরার ‘পন্তা আকালী, ‘একাত্তরের রাজকন্যা’ এস এম সোলায়মানের ‘ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাঁচাল’, বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি অবাস্তব গল্প’,  আন্তন চেখভের ‘ভল্লুক’ ইত্যাদি নাটকে কাজ করি। পরবর্তীতে নাটুয়ার হয়ে দেবাংশু হোরের নির্দেশনায়, দৃশ্যকাব্য ও মাইমোড্রামা ‘শ্রাবণ সঞ্চয়, সভ্যতার আলো, অমর একুশসহ অনেকগুলো প্রযোজনায় অংশ নিই। এসব প্রযোজনা মঞ্চায়িত হয় চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের বাইরে। যেমন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, বাংলা একাডেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হোটেল সোনার গাঁসহ বিভিন্ন মঞ্চে। এছাড়া স্বপ্নযাত্রীর প্রযোজনায় ২০১৪ সালে আমার রচনা ও নির্দেশনায় ‘প্রেক্ষাপট’ নাটকে কাজ করি। ফুলকির শিক্ষা সংস্কৃতি কার্যক্রমে শিক্ষাকর্মী হিশেবে কাজ করেছি। তখন চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশ কিছু ছোট ছোট প্রযোজনায় নির্দেশনা দিই। এর বাইরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রযোজনা যেমন: সিটিসেল- চ্যানেল আই মিউজিক এওয়ার্ড, ইউসিবি ব্যাংক ইউক্যাশ প্রজেক্ট, প্রথম আলো বর্ণমেলা, ৮ম বাংলাদেশ গেমস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিই।

তারুণ্যলোক: ‘প্রেক্ষাপট’ যেহেতু আপনার রচনা সেহেতু এই নাটকটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন..

শুভাশীষ শুভ: ২০১৩ সাল বাঙালি জাতির ইতিহাসের অনন্য একটি সময়। এসময়ে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি তারা ২০১৩ সালের গণজাগরণ দেখেছি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে গণঅান্দোলন দেখেছি। ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি আমি শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে সেই গণ আন্দোলনে অংশ নিই। এরপর চট্টগ্রামের জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে নিয়মিত অংশ নিই। এই সময়টা আমার ভেতরে তীব্রভাবে নাড়া দেয়। মুক্তিযুদ্ধ, গণজাগরণ ও তার পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে আমি এই নাটকটি লিখি। স্বপ্নযাত্রীর ১৮ জন কর্মী এতে অংশগ্রহণ করে। কাজী নজরুল ইসলাম, কবির সুমন ও ড. এনামুল হকের রচিত কবিতা ও গান, ব্যবহার করি নাটকে।  এর প্রথম মঞ্চায়ন হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিজয়মঞ্চে। এরপর ডিসি হিল, শিল্পকলা একাডেমী ও চট্টগ্রাম শহরের বাইরে বিভিন্ন মঞ্চে নাটকটির ৮ টি মঞ্চায়ন হয়।

তারুণ্যলোক : আপনার লেখালেখি সম্পর্কে জানতে চাই।

শুভাশীষ শুভ : সত্যি বলতে লেখালেখির সঠিক ব্যাকরণ আমার জানা নেই। তবে যখন যা লিখতে ইচ্ছে করেছে তখন তাই লিখি। এছাড়া কখনো প্রয়োজনেও লিখেছি। ধরুন আবৃত্তির প্রয়োজনে বা নাটকের প্রয়োজনে সময়োপযোগী স্ক্রিপ্ট দরকার, তখন তাই লেখার চেষ্টা করেছি। কিংবা কখনো কোন বিষয়ভিত্তিক ফিচার লিখেছি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য কিছু ডকুমেন্টারি স্ক্রিপ্ট করেছিলাম। বেশ কিছু গল্প ও কবিতা লিখেছি। অল্পকিছু বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং ম্যাগাজিনে ছেপেছে। এছাড়া কিছু গান লিখেছি কৌতুহলবশত। এর মধ্যে দুটি লিরিক নিয়ে গান করেছেন সংগীত শিল্পী শাকিল হাসান ও আবু নাভিদ। তবে এই পর্যায়ে এসে মনে হয় জানার জগৎটা বিস্তৃত না হলে লেখা যায় না। তাই ইদানীং পড়ার চেষ্টা করি। এই পড়াটাই আমার লেখার প্রতি ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। মনে হয়, আমি ঠিক লিখতে পারি না।

তারুণ্যলোক:  টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করছেন কি?

শুভাশীষ শুভ : টেলিভিশন বলতে এই তল্লাটে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রে আমি ‘ক’ শ্রেণীর তালিকাভুক্ত উপস্থাপক। এছাড়া আমার গ্রন্থনায় বেশকিছু ডকুমেন্টারি করেছি। যেমন: ঐতিহ্যবাহী চট্টেশ্বরী মন্দির, কাপ্তাই হ্রদ, পথশিশু, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, জাহাজভাঙা শিল্প ইত্যাদি। এছাড়া এই কেন্দ্রে নিয়মিত আবৃত্তিশিল্পী হিশেবে আবৃত্তি করছি।

তারুণ্যলোক : চট্টগ্রামের বাইরে আপনার আবৃত্তিতে পদচারণ কেমন?

শুভাশীষ শুভ : সত্যি বলতে চট্টগ্রামের বাইরে আবৃত্তি করার জন্য আমাকে এখনো কেউ ডাকেনি বা স্বপ্রণোদিত হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করিনি। ভারতের আগরতলা থেকে একবার আমন্ত্রণ পেলেও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যাওয়া হয়নি।

তারুণ্যলোক : থিয়েটার ও লেখালেখির বাইরে আবৃত্তি চর্চার সাথে যুক্ত হলেন কী করে?

শুভাশীষ শুভ – থিয়েটারে কাজ করতে গিয়েই আবৃত্তির সাথে পরিচয়। আমার আবৃত্তির কোন স্কুল বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। নাটকের সংলাপ আওড়াতে গিয়েই এর প্রতি ভালোলাগা। ভুল উচ্চারণে আবৃত্তি করেছি অসংখ্যবার। ঐ ভুলগুলোই মূলত আমাকে শিখেয়েছে এবং এখনো শেখাচ্ছে।

তারুণ্যলোক : আবৃত্তির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আসলে কতোটা দরকার?

শুভাশীষ শুভ : অবশ্যই দরকার আছে। আবৃত্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ওভাবে গড়ে না উঠলেও আবৃত্তির সাংগঠনিক চর্চা হচ্ছে খুব। বেশকিছু খণ্ডকালীন কোর্স আছে এই সংগঠনগুলোর। এই কোর্সগুলো বোধের ভীত মজবুত করবে, নির্দেশনা দিবে সঠিক চর্চার।

তারুণ্যলোক : আপনার আবৃত্তি চর্চা সম্পর্কে বলুন।

শুভাশীষ শুভ : যেহেতু আবৃত্তিতে আমি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে যাইনি সেহেতু এই জায়গাটা আমার প্রথম দিকে সহজ মনে হলেও এখন বেশ কঠিন মনে হয়। তবু চর্চাটা নিয়মিত রাখার চেষ্টা করছি। একক, দ্বৈত ও বৃন্দ আবৃত্তির বাইরে অংশ নিয়েছি বেশ কিছু শ্রুতি প্রযোজনায়। যেমন, ভাণ্ডারী আরিফের নির্দেশনায় ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’, ‘জয় সত্যের জয় (প্রক্রিয়াধীন)’, আমার নির্দেশনায় ‘দেশ মাতার কাছে চিঠি’। এছাড়া ২০১৬ সালে আমার এবং আবৃত্তিশিল্পী লুবাবা ফেরদৌসী সায়কার দ্বৈত আবৃত্তি এলবাম ‘শেকল ভাঙার দিন’ প্রকাশিত হয়।

তারুণ্যলোক : আবৃত্তি অ্যালবাম ‘শেকল ভাঙার দিন’ সম্পর্কে বলুন।

শুভাশীষ শুভ : এই অ্যালবামটিকে আমি বলব সময়ের দলিল। যদিও আমাদের অনভিজ্ঞতার কারণে বা চট্টগ্রামে অডিও সংক্রান্ত সুব্যবস্থা না থাকার কারনে নির্মাণে কিছুকিছু ভুল ছিল। তবুও এটি সীমাবদ্ধতা উত্তরণের প্রয়াস। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, প্রেম, গণজাগরণ, পহেলা বৈশাখ,  মুক্তমনা হত্যার প্রতিবাদ, এবং প্রত্যাশা; মূলত সবকিছুর সমন্বয় ‘শেকল ভাঙার দিন’। ঢাকা- চট্টগ্রাম মিলিয়ে এই এলবামটি সাড়ে চারশ কপি বিক্রি হয়েছে। এই সহজলভ্য ইউটিউবের যুগে ১০০ টাকা দরে সাড়ে চারশ আবৃত্তির সিডি বিক্রি হওয়া নিশ্চয়ই সহজ কথা নয়।

তারুণ্যলোক : আবৃত্তি চর্চায় সীমাবদ্ধতা আছে কী?

শুভাশীষ শুভ : ব্যাক্তিক ও সাংগঠনিক কিছু সীমাবদ্ধতাতো আছেই। এখানকার অধিকাংশ আবৃত্তিশিল্পীরই পর্যাপ্ত পরিমাণ পড়াশোনা নেই। নির্দিষ্ট কবিতার বাইরে চর্চাটা কতটুকু হচ্ছে তা আসলে প্রশ্নবোধক! নেতাকেন্দ্রিক একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায় সাংগঠনিকভাবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে যে আবৃত্তি আয়োজনগুলো বা উৎসবগুলো হয় সবগুলো আয়োজনেই ঘুরেফিরে একই আবৃত্তিশিল্পী, যারা বিভিন্নি সংগঠনের প্রধান। এই প্রধানদেরকে তাদের চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে নতুদের জন্য। আবার সবগুলো আবৃত্তি অনুষ্ঠানই হচ্ছে একই ধাঁচের। যার ফলে আবৃত্তিতে দর্শক সৃষ্টি হচ্ছে না। টেলিভিশনের কথা চিন্তা করলেও ঘুরেফিরে সেই একই মুখগুলো।

তারুণ্যলোক : সংগঠন স্বপ্নযাত্রীর বেশ কিছু আয়োজন আমি দেখেছি, যা গতানুগতিক আবৃত্তি অনুষ্ঠানের মত নয়। যেমন চিঠিপাঠ, গল্পপাঠ, একক কবির কবিতা নিয়ে আয়োজন, ধর্ষনের প্রতিবাদে আয়োজন। এই আয়োজনগুলোর সমন্বয়ক  ছিলেন আপনি। এগুলো কি আপনার এই গতানুগতিক ধাঁচ পরিবর্তনের চেষ্টা?

শুভাশীষ শুভ : দেখুন, কালচারটাকে আমি কখনোই শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিশেবে চিন্তা করিনি। একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই যায়। এই আয়োজনগুলোর আগেও স্বপ্নযাত্রী শুরুর দিকে বেশকিছু সামাজিক কাজ করেছে, পথ শিশুদের স্কুল চালিয়েছে, সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে। আমাদের প্রতিটি আয়োজনে আমরা সেই রকমই কিছু একটা করার চেষ্টা করি। আর তা করতে গিয়ে গতানুগতিকতা ভাঙছে এবং এটা আমাদের দর্শকদের জন্য নতুন এবং সময়োপযোগী রসদ।

তারুণ্যলোক : চট্টগ্রামে আবৃত্তি চর্চা কেমন চলছে?

শুভাশীষ শুভ : আমি বলবো, চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চার তীর্থভূমি। এই ছোট্ট শহরে অনেকগুলো আবৃত্তি সংগঠন নিয়মিত কাজ করে। প্রতিদিন আপনি কোথাও না কোথাও একেবারে ঘরোয়া আয়োজনে হলেও আবৃত্তি অনুষ্ঠান পাবেন। কিছু সাংগঠনিক দূরত্ব অবশ্যই আবৃত্তি কর্মীদের মাঝে আছে। তবে এখানকার সংগঠনগুলোর কার্যমক্রমের কাছে তা কিছুই না।

তারুণ্যলোক : তবে দেশে প্রতিনিধিত্বকারী বা জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসছে না কেন?

শুভাশীষ শুভ : প্রতিনিধিত্ব করার মত অসংখ্য ভালো আবৃত্তিশিল্পী এখানে আছে। তবে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য যে অনুষঙ্গগুলো দরকার তা এখানে নেই। টেলিভিশনগুলোর কথা চিন্তা করে দেখুন না, যা দু-একটা আবৃত্তি অনুষ্ঠান হয় তাতে ঘুরেফিরে ঢাকায় অবস্থানরত ৫-৭ জানকেই দেখা যায়। সত্যি বলতে আবৃত্তিশিল্পটাই এখনো বাংলাদেশে ওভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি।

তারুণ্যলোক: আপনার প্রিয় আবৃত্তিশিল্পী কে?

শুভাশীষ শুভ: এটা আসলে স্থির নয়। যখন যিনি ভালো করেন তখন তিনি প্রিয় হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে তিনি আত্মচর্চায় নিজেকে ধরে রাখতে না পারলে, শ্রোতা হিশেবে আমাকে মুগ্ধ করতে না পারলে তাকে প্রিয়’র তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়। তখন শুধু বলা যায়, তিনি ঐ কবিতাটি ভালো আবৃত্তি করেছিলেন। তবে এই সময়ে আমার প্রিয় আবৃত্তিশিল্পী- ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়, শিমুল মুস্তাফা ও মুবিদুর রহমান সুজাত।

তারুণ্যলোক : তরুণরা এখন আবৃত্তিতে কতোটা সম্পৃক্ত হচ্ছে?

শুভাশীষ শুভ : ইউটিউব, ফেসবুকের এই সহজলভ্য জনপ্রিয়তার সময়ে আবৃত্তিতে তরুণদের সম্পৃক্ততা কমছে। তবে যারা আসে তারা আবৃত্তিটাকে ভালোবেসেই আসে।

তারুণ্যলোক: আবৃত্তি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

শুভাশীষ শুভ : ওভাবে নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই।  চর্চাটা চালিয়ে যেতে চাই শুধু। যখন যা মূখ্য, সময়োপযোগী এবং যৌক্তিক মনে হয়, তাই’ই করতে চাই। আবৃত্তিশিল্পীরা প্রফেশনাল হবে, শিল্পের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন হবে, এমনটি স্বপ্ন দেখি।

তারুণ্যলোক : আপনার পেশাগত জীবন সম্পর্কে জানতে চাই।

শুভাশীষ শুভ : একটি গ্রাহক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হিশেবে কাজ করছি।

তারুণ্যলোক: অভিনেতা, নির্দেশক, সংগঠক, লেখক, পেশাজীবী, কোন পরিচয়ে ভালো লাগে? শেষ পর্যন্ত নিজেকে আসলে কোথায় দেখতে চান?

শুভাশীষ শুভ : এতগুলো কাজ কিন্তু একদিনে বা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয়নি। অনেকগুলো দিন, অনেকগুলো সময়, অনেকগুলো বিসর্জনের গল্প আছে এসবের আড়ালে। একটি নির্দিষ্ট পরিচয় থাকতেই হবে এমন কোন কথা নেই। আবার সবগুলো থাকলেও সমস্যা নেই। আমি আসলে কোন গন্তব্যের চিন্তা করিনি। যখন যা যৌক্তিক মনে হয়েছে তাই করেছি এবং করে যাচ্ছি। শুধু মনে হয় কোনটাই ঠিকভাবে করা হয়নি, শেখা হয়নি। এই ঠিকভাবে করার চেষ্টা আর শেখার চেষ্টা করতে করতেই ফুরিয়ে যাবে সময়টা।

তারুণ্যলোক : ধন্যবাদ আপনাকে

­শুভাশীষ শুভ : তারুণ্যলোক পরিবার ও পাঠকদের ধন্যবাদ।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*