চাকরীজীবনেও থাকুক বই পড়ার অভ্যাস

তারুণ্যলোক ডেস্ক:  বই পড়া একটি ভাল অভ্যাস সেটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু নিয়মিত বই ছাত্রজীবনের পর আর পড়া হয়ে ওঠে না। কেন যেন সময়ই আর হয়ে ওঠে না। বই না পড়তে পড়তে কমতে থাকে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। মনে হয় যেন, আর আগের মত সব কিছু মনে থাকে না। মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে। আমরা দোষ দিই বয়সকে। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন, এই সমস্যাগুলো যে বয়সে গিয়ে আপনি লক্ষ্য করেন সেই বয়সটা কিন্তু মোটেই ভুলে যাওয়ার বয়স নয়। এটা চর্চার অভাব মাত্র।

ছাত্রজীবনে আপনি প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। নিয়ম করে আপনি নতুন জিনিস শিখেছেন। কিন্তু এরপর আপনি যখন আর কিছুই পড়েন না তখন মস্তিষ্কের কাজ কমে আসে। আপনি হয়ত ভাবছেন, আপনি তো অফিসে প্রচুর কাজ করেন। অফিসে আপনি আপনার শিক্ষার প্রতিফলন ঘটান নানান কাজে। নতুন কিছু তুলনামূলক অনেক কম শেখা হয়। আবার পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মোটেই কঠিন কিছু নয় এটি। বেছে নিন এই কৌশলগুলো-

প্রতিমাসে একটি বই
প্রতিমাসে অন্তত একটি বই পড়ুন। একটি তালিকা তৈরি করুন কোন বইগুলো পড়তে চান। নিজেই নিজেকে এসাইন্মেন্ট দিন যে বইটি শেষ এই মাসে করবেন। তবে অবশ্যই আপনার পড়ার গতি, আগ্রহ ইত্যাদি খেয়াল রাখুন। আপনি যদি অনেক ধীরে পড়েন আর বিশাল একটা বই শেষ করার টার্গেট নেন যা সময় অনুযায়ী আপনার সামর্থ্যের বাইরে তাহলে প্রথম মাসেই হতাশ হয়ে পড়বেন।

বৈচিত্র্য আনুন
একই ধরণের বই পড়তে ভাল নাও লাগতে পারে। তাই বই পড়ার তালিকায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসুন। আপনি দর্শন পড়তে ভালবাসেন? তাহলে দার্শনিকদের জীবনী, তাদের সময়ের ইতিহাসও পড়ুন। সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে জানুন। একই বিষয়ে বেশীক্ষণ পড়া কঠিন। একঘেয়ে লাগলে আর হয়ত পড়তেই ভাল লাগবে না আপনার। তাই নানান বিষয়ে পড়ুন।

আনন্দ পেতে পড়ুন
শুধু পড়ার জন্য না পড়ে পড়ার মাঝেই খুজে নিন আনন্দ। ভাল লাগার জন্য পড়ুন। বই শুধু জ্ঞান দিয়ে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় না। আনন্দ দিয়েও বাড়ায়। আপনি যদি কোন আনন্দই না পান তাহলে এই বই পড়াই আবার আপনার জন্য মানসিক চাপ হয়ে যাবে।

ভাল না লাগলে পড়বেন না
যে বইটি পড়তে শুরু করেছেন হতে পারে পড়ার পর আপনার মনে হল, বইটি ভাল লাগছে না। শেষ করতেই হবে এমন কোন কথা নেই। ভাল না লাগলে পড়বেন না। একটি ভাল বই আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। অযথা কেন সেই বই এর পেছনে সময় দেবেন যা আপনার কৌতুহলের সাথে মেলে না? বরং সেই বই পড়ুন যা আপনাকে গড়ে তুলবে, করে তুলবে আরো বড় মানুষ। অথবা অন্তত আপনার সৌখিনতার চর্চা হবে। ফলে আপনি সবসময় থাকবেন মাইন্ডফুল।

সময় বের করে নিন
আপনি হয়ত ভাবছেন, সময়ই তো নেই। কখন বই পড়ব? বিছানায় বালিশের পাশে রাখতে পারেন বইটা। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অন্তত ৩০ মিনিট পড়লেন। অথবা ব্যাগে রাখুন। অফিসে কাজের ফাকে একঘেয়েমিতা কাটাতে বা পথে গাড়িতে বসে বসে পড়লেন। আর বই যখন আপনার ভাল লেগে যাবে আপনি হয়ত টেরও পাবেন না কিভাবে নিজেই সময় বের করে নিচ্ছেন পড়ার জন্য।

একসাথে পড়ুন
বন্ধুরা মিলে একসাথে পড়ুন। কোন বই টার্গেট নিয়ে একসাথে পড়া শুরু করুন। কিছুদিন এভাবে পড়তে পড়তে আপনার পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে। আর একসাথে পড়ার কারণে আপনি গল্পটি নিয়ে আপনার অনুভুতি শেয়ার করার জায়গাও পাবেন। আনন্দ বেড়ে যাবে বহুগুণে।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*