মঙ্গোলিয়াকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক, ১ মে : নেই মূল স্টাইকার স্বপ্না। গত দুই ম্যাচে জোড়া গোল করা কৃষ্ণাও অনুপস্থিত। চিন্তা ভর করছিল ,নিত্য গোল মিস বাংলাদেশ দল পেরুতে পারবে তো সেমিতে মঙ্গোলিয়া বাধা। অবশ্য এই দুই ফরোয়ার্ডের অভাব বুঝতে দেননি মনিকা, মারজিয়া আবেং বদলী হিসেবে নামা তহুরা। মঙ্গলবার তাদের নৈপূন্যে মঙ্গোলিয়াকে ৩-০তে উড়িয়ে প্রথম বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবলের ফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। ফলে ৩ মে আসরের ফাইনালে লাল সবুজরা পাচ্ছে শক্তিশালী লাওসকে। লাওস গত পরশু প্রথম সেমিতে ৭-১ গোলে পরাজিত করে কিরগিজস্তানকে। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নিজে দূর্দান্ত গোল করে, পরে এক গোলের উৎস হয়ে এবং সারা ম্যাচ দাবিয়ে বেড়িয়ে ম্যাচ সেরার ৫ শত ডলার জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ৬ নং জার্সীধারী মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা।

শুরু থেকেই মঙ্গোলিয়ার উপর চড়াও হওয়া বাংলাদেশ দলের। কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ৩০ সেকেন্ড গোল। মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ২৫ সেকেন্ডেই গোল পেতে পারতো লাল সবুজরা। যদি ইনজুরড সিরাত জাহান স্বপ্নার বদলে প্রথম একাদশে চান্স পাওয়া সাজেদা খাতুন একটু বুদ্ধীর পরিচয় দিতেন। বল কাছে আসার সাথে সাথে যদি তাতে পা চালাতেন বা পরের মুহুর্তে জটলায় বলে টোকা দিতে পারতেন।

২ মিনিটে থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে আর দেরী করেননি সাজেদা। চলতি বলেই তার ডান পায়ের শট। কিন্তু কপাল মন্দ সাজেদা এবং বাংলাদেশ দলের। এই ফরোয়ার্ডের শট প্রতিহত হয় বিপক্ষ কিপার সেনজাভের মুখে লেগে। ১৫ মিনিটে সাজেদার পাসে আগের দুই ম্যাচে দুই গোল করা কৃষ্ণা রানী সরকারের পরিবর্তে নামা মারজিয়ার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৭ মিনিটে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের স্বাগতিকরা গোল পায়নি ভাগ্য সহায় না থাকায়। বক্সের ভেতর থেকে নেয়া সানজিদার তীব্র শট আঘাত হানে পোষ্টে। আগের মিনিটে মারিয়ার কর্নারে নার্গিসের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়।

এভাবে একের পর এক হতাশার পর অবশেষে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ( ৪৬ মি.) বাংলাদেশ শিবিরে আনন্দ উল্লাস। সাজেদার পাস থেকে বক্সের উপর বল পান মনিকা চাকমা। এরপর সে বল হেডে নামিয়ে বাম পায়ের যে তীব্র ভলি নেন মনিকা তাতে পরাস্ত মঙ্গোলিয়ান কিপার। সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শক সহ টিভি পর্দার সামনে থাকা লক্ষ কোটি ফুটবল প্রেমীর বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাস। আসরে এটি বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ফুটবলারের প্রথম গোল। ফেব্রুয়ারীতে তার সর্বশেষ গোল ছিল মিয়ানমারের বিপক্ষে তাদের মাটিতে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে। তা ছিল সরাসরি কর্নার থেকে। যা অলিম্পিক গোল নামে পরিচিত।

বিরতির পর সাজেদাকে তুলে নামানো ‘মেসি” খ্যাত তুহুরা খাতুনকে। ৫২ মিনিটে এই তহুরার বানানো বলে মারজিয়ার নিশ্চিত গোলের শট চলে যায় পোষ্টের অনেক দূর দিয়ে। ৫৮ মিনিটে মারিয়া মান্ডার শট জালে যাওয়ার আগ মুহুতে মঙ্গোলিয়ার শেষ প্রহরীর হাতে লেগে কর্নার হয়। এরপর ৬৭ এবং ৭০ মিনিটে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩৬ গোল করা তহুরার দুটি গোল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ৬৯ মিনিটে ছোটন বাহিনীর দ্বিতীয় গোল। মনিকার থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়র প্লেসিং শটে আসরে নিজের প্রথম গোল মারজিয়ার। ৮৩ মিনিটে এই টুর্নামেন্টে প্রথম এবং ৩৭ তম আন্তর্জাতিক গোল আদায় তহুরার। শাসুন্নাহারের পাস থেকে বল পেয়ে গোল এই স্ট্রাইকারের। শেষ সময়ে তার শট বার ঘেঁষে যাওয়ায় চতুর্থ গোল পায়নি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ আগের দুই ম্যাচে ২-০তে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ২-১ গোলে কিরগিজস্তানকে হারায়। কাল স্বপ্না, কৃষ্ণার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তারা আরো বড় ব্যবধানে জিতলো। মানে যোগ্য বিকল্পও আছে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের হাতে। এই ম্যাচে মঙ্গোলিয়া একবারই লাল সবুজদের পোস্টে শট নেয়। ৮২ মিনিটে নেয়া সেই শট যায় পোষ্টের অনেক দূর দিয়ে।

বাংলাদেশ দল: রুপনা, নার্গিস, শিউলি ( মাসুরা ৭৫মি.), আঁখি, শামসুন্নাহার, মৌসুমী, মারিয়া, মনিকা, সাজেদা ( তহুরা ৪৬মি.) মারজিয়া, সানজিদা ( রাজিয়া ৭১ মি,)।

৩ মে ই ফাইনাল
বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জতিক ফুটবলের ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল ৩ মে। পরে বাফুফে থেকে জানানো হয় ৪ তারিখে হবে ফাইনাল। কিন্তু কাল বাফুফে জানায় ফাইনাল ৩ মে ই অনুষ্ঠিত হবে। তবে ফাইনালে প্রধান অতিথি কে উপস্থিত থাকবেন তা পরে জাননো হবে। উল্লেখ্য ফাইনালের প্রধান অতিথির উপস্থিতির জন্যই এই তারিখ পরিবর্তন দুই দফা।

অনূর্ধ্ব- ১৮ সাফ নেপালে

এ বছর সাফের তিনটি বয়ষ ভিত্তিক আসর। কাল নেপালে অনুষ্ঠিত সাফের সভায় এর দুটি আসরের ভেন্যু চ’ড়ান্ত হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৮ পুরুষ সাফ হবে নেপালে। অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ সাফ হবে ভারতে। আর অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা সাফ বাংলাদেশে নাকি ভুটানে হবে তা পরে ঠিক করা হবে। কালকেই এই সভায় এএফসিতে সফের প্রতিনিধি হিসেবে শ্রীলংকার অনুরা সিলভাকে মনোনীত করা হয়। এই সাফের সভা শ্রীলংকায় হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জন্য ভেন্যু বদল।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*