মেকআপকে এখন পেশা হিসেবে নেওয়া যায়: তানিয়া

দেশে মেকআপ শিল্প নিঃসন্দেহে এখন প্রশংসার দাবি রাখে। তারা নিজেদের নিয়ে গেছেন উচ্চ এক আসনে। একজন চিত্রশিল্পী যেমন ক্যানভাসে একটু একটু করে রং দিয়ে নারী প্রতিকৃতিকে সাজিয়ে তোলেন, ঠিক এই একই কাজটি করেন একজন মেকআপ আর্টিস্টও। তার জন্য ক্যানভাস হলো একজন নারীর চেহারা আর রঙ হলো মেকআপ। তেমনই একজন শিল্পী তানিয়া হোসেন। সম্প্রতি তিনি মেকআপ নিয়ে নিজের ভাবনা, ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তারুণ্যলোকের সঙ্গে।

আপনার জন্ম শৈশব কৈশোর সম্পর্কে জানতে চাই
তানিয়া: আমার জন্ম পুরান ঢাকায়, আর এখানেই আমার শৈশব কাটে। ঢাকার আলো বাতাসেই আমি বড়ো হয়েছি।

ছোটবেলার কোন স্মৃতির কথা বেশি মনে পড়ে?
তানিয়া: মেকআপের প্রতি আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। যখন আমি স্কুলে পড়তাম। তখন আমি শুধু পরীক্ষা শেষ হবার অপেক্ষা করতাম কারণ পরীক্ষা শেষ হলে আমি সুযোগ পেতাম সাজগোজ নিয়ে পরে থাকার। সারাটা বছর আমার টিফিনের টাকা খরচ না করে জমাতাম আর ওই টাকা দিয়ে মেকআপ-এর জিনিস কিনতাম।

মেকআপ নিয়ে আগ্রহটি তৈরি হল কীভাবে?
তানিয়া : আমার মায়ের কাছে থেকে, আসলে আমার মা খুব ভালো সাজাতে পারতো আর আমার খালা চাচী ফুফু মামী এবং আমার অন্যান্য বোনেরা আমার মায়ের কাছে সাজতে আসতো আর ওখান থেকেই আমার মেকআপ-এর প্রতি আগ্রহ বাড়ে।

যাত্রা শুরু হল কীভাবে?
তানিয়া: মেকআপ এক সময় আমার শখের কাজ ছিল আর আমার মায়ের উৎসাহে আমি আমার শখটাকে পেশা বানিয়েছি।

বাংলাদেশে মেকআপ ফ্রিল্যান্সিঙের সম্ভাবনা কেমন বলে আপনার ধারণা? আপনার ফ্রিল্যান্সিং অভিজ্ঞতা কেমন?
তানিয়া: বিগত দিনের কথা আমি জানিনা তবে জবে থেকে আমি মেকআপকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। আমি স্বাবলম্বী।

এ পর্যন্ত আপনার প্রাপ্তি/পুরস্কার/সম্মাননা কি পেয়েছেন। সেই অনুভূতি কেমন?
তানিয়া: আমি কম বেশি অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছি, তার মধ্যে আমি দুইটা ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারও পেয়েছি।

মেকাপকে কি এখন পেশা হিসাবে নেওয়া যায়?
তানিয়া: হ্যাঁ অবশ্যই, আমি নিজেই নিয়েছি। এখন আমাদের দেশের মেয়েদের কাছে মেকআপ-এর চাহিদা অনেক আর তাই মেয়েদের বাইরে চাকরির খোঁজ করা থেকে তারা এটাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে।

আপনার উত্তরণের গল্প শুরু হলো কবে থেকে?
তানিয়: আমার মা আমাকে উৎসাহিত করে, আমার মা আমার হাতের কাজ দেখে আমাকে পেশা হিসেবে মেকআপ করতে বলে। তারপর একটু একটু করে আজ এখানে পৌঁছে গেছি।

একজন ভালো মেকাপ আর্টিস্ট হতে গেলে কি গুনাবলী প্রয়োজন?
তানিয়া: মেকআপটা সম্পূর্ণই হাতের গুণ আর বুদ্ধি। সুতরাং অবশ্যই এই দুইটি গুণ প্রথমে দরকার।

নিজের সাজটাকে অন্যদের থেকে আলাদা করতে আপনি কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখেন?
তানিয়া: আসলে আমি সব সময় আমার গ্রাহকের চাহিদার দিকে খেয়াল রাখি। আমার গ্রাহক এর চাহিদা আর আমার বুদ্ধি দিয়ে একটা সমন্বয় করে একটা সুন্দর রূপ দেবার চেষ্টা করি।

কোন ধরনের সাজ করাতে বেশি পছন্দ করেন?
তানিয়া: বিয়ের সাজটায় বেশি পছন্দ করি।

এ পর্যন্ত ক্যারিয়ারে কোন ধরনের ক্ষোভ আছে?
তানিয়া: যখন প্রথম মেকআপ-এর কাজ শুরু করি তখন অনেকেই আমাকে নিয়ে উপহাস করতো কিন্তু আমি ওটাকে মানিয়ে নিয়েছি আর তাই আজ এই পর্যায় পৌঁছাতে পেরেছি।

আপনার কাছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা কী?
তানিয়া: আমার কাছে সৌন্দর্য এবং মেকআপ এবং রঙ সবকিছুর উপর চূড়ান্ত স্পর্শের মতো।

নতুনদের জন্য কোন পরামর্শ আছে কি?
তানিয়া: ফোকাস অনেক জরুরি মেকআপ-এর জন্য। তোমরা কাজের প্রতি ফোকাস করো এবং বেশি বেশি প্র্যাক্টিস করো আর তোমার গ্রাহকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করার চেষ্টা করো যা তোমাকে এক্সপার্ট মেকআপ আর্টিস্ট করে তুলতে সাহায্য করবে।

বর্তমানে কী কী কাজ করছেন? ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
তানিয়া: বর্তমানে আমি বিভিন্ন টিভি শো এবং ম্যাগাজিন-এর জন্য মেকআপ-এর কাজ করছি। আমার নিজের একটি পার্লার আছে। আমার ২টা স্টুডেন্ট ব্যাচ আছে, যাদের আমি সপ্তাহে ৩ দিন ক্লাস নিয়ে থাকি। আমি চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বড় শহরে আমার একটা ব্রাঞ্চ খুলতে।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*