ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই পাত্তা দিল না বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের বাকি আর ২২ দিন। তার আগে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজকে মোক্ষম উপলক্ষ মানছে বাংলাদেশ, যেখানে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মঙ্গলবার ডাবলিনে তাদের হারিয়েই দারুণ শুরু হয়েছে মাশরাফি মুর্তজাদের। বিশ্বকাপের এই প্রস্তুতি মঞ্চে সব বিভাগে নিজেদের সেরাটা দিয়ে ৮ উইকেটে জিতেছে দুরন্ত বাংলাদেশ। এই জয় নিশ্চিতভাবে সব ভয়কে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাসকেও বাড়িয়ে দিলো বহুগুন।

এ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই সর্বশেষ জয় ছিল বাংলাদেশের। গত ১৪ ডিসেম্বর সিলেটে ৮ উইকেটে জিতেছিল তারা। এরপর নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টানা হারের পর আবার জয়ের ধারায় বাংলাদেশ। কাল ডাবলিনে ক্যারিবীয়দের ৫ ওভার হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মাশরাফি-সাকিবরা। ম্যাচে উল্লেখ করার মতো দিক ছিল সম্মিলিত টিম পারফরম্যান্স। যে যেখানে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তা কাজে লাগিয়েছেন। নিউজিল্যান্ড থেকে ফেরার পর এ ভয় ছিল। বাংলাদেশের সম্মিলিত পারফরম্যান্স বেরিয়ে আসবে তো! কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো একটি দলের বিপক্ষে তা যখন হয়েছে তখন বিশ্বকাপের মিশনের সূচনাকে দুর্দান্তই বলা চলে। কারণ এ সিরিজই হলো ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে অনুষ্ঠিত আসরের প্রতিচ্ছবি। সেখানে মাশরাফি, তামিম, সৌম্য, মাশরাফিরা ভালো খেলেছেন এটা বড় প্রাপ্তি একটা জয়ের চেয়েও।

তামিম যদি সেঞ্চুরি পেয়ে যেতেন তাহলে জয় আরো বেশি সুন্দর দেখাত। কিন্তু শাই হোপের সেঞ্চুরির জবাব হয়নি। ৮০ রান করে আউট হয়ে গেছেন তামিম। তাতে কী? তামিম ও সৌম্য সরকারের ওপেনিং পার্টনারশিপও খেলেছে চমৎকার। ১৪৪ রানের। এমন এক ম্যাচ ও নতুন এক কন্ডিশনে এভাবে সূচনা মানেই বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে সে ইঙ্গিতই মিলেছিল। আসলে ক্যারিবীয়দের মূল কন্ট্রোল করেছে বাংলাদেশের বোলিং। কিন্তু পারছিলেন না তারা একমাত্র শাই হোপের সাথে। আগের ম্যাচে আইরিশদের তুলাধুনা ১৭০ করেছিলেন তার ক্যারিয়ারের ৫০তম ওয়ানডেতে। কাল সে ধারা অব্যাহতই রেখেছেন। এবারো সেঞ্চুরি। ১০৯ রান করে থেমেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। ওপেনিংয়ে রেকর্ড করা আগের ম্যাচের ক্যাম্বেল ছিলেন না।

অ্যামব্রিম নিয়ে সূচনা করে ওই রান করেছেন। বিশ্বকাপের আগে এ প্রস্তুতির টুর্নামেন্টে নিজেকে জানান দিলেন। বিশ্বকাপ সম্ভবত তার জন্য অপেক্ষাই করছে এবার! কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে সে ঝড় তুলতে পারেনি, যা তারা করেছিল আইরিশদের বিপক্ষে। সে ম্যাচে করেছিল তারা ৩৮১/৩ রান। দারুণ কন্ট্রোল করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। এ ম্যাচেও প্রথম ব্যাটিং করেছে তারা। কিন্তু ২৬১/৯ রানেই ইনিংস শেষ করতে বাধ্য হয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে হারের ক্ষত শুকাতে এ ম্যাচকে সিরিয়াস হিসেবেই নিয়েছিলেন বোধ হয় মাশরাফিরা। এতেই ওই অবস্থা। মাশরাফি নিজে তো বটেই এর সাথে মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিন, মুস্তাফিজুর, মেহেদি হাসানদের নিয়ে ওই পর্যায়ে আটকে দেয় ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইন। প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট বলে ক্যারিবীয়রাও ছিল না অতটা সিরিয়াস। তাদের ব্যাটিং লাইনেও ছিল পরির্বতন। না হয় আগের ম্যাচের রেকর্ড করা হোপ ক্যাম্বেলকেই দেখা যেত এ ম্যাচে। সেখানে হোপের সাথে নেমেছিলেন অ্যামব্রিম।

ক্যারিবীয় ইনিংসের দিকে তাকালে ওই হোপ ছাড়া আর কাউকেই স্বস্তিতে ব্যাটিং করতে দেয়নি মাশরাফির বোলিং লাইন। আর চারজন ডাবল ফিগারে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারা ছিলেন, রোস্টন চেজ ৫১, অ্যামব্রিম ৩৮, অ্যাশলে নার্স ১৯ ও কার্টার ১১। আর সবার নামের পাশেই টেলিফোন নাম্বার। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মাশরাফি। প্রস্তুতি ম্যাচ না খেললেও ঢাকায় প্রিমিয়ার ডিভিশনে যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন, তা অব্যাহত রেখেছেন ডাবলিনেও। ১০ ওভারে ৪৯ রানে ৩ উইকেট। এ ছাড়া মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিন ও মুস্তাফিজ নিয়েছেন দু’টি করে উইকেট। আসলে এ তিন পেসারই কন্ট্রোল করে ফেলে ক্যারিবিয়ান ইনিংস। এ ছাড়া সাকিব ও মেহেদি হাসানও ১০ ওভার করে বোলিং করে বেশ ভালো করেছেন। উইকেটও নিয়েছেন তারা ১টি করে। শাই হোপ ১০৯ করেছেন ১৩২ বল খেলে। যার মধ্যে রয়েছে একটি ছক্কা ও ১১টি চারের মার।

এরপর খেলতে নেমে দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য দেখেশুনেই শুরু করেন ইনিংস। তাতেই স্বস্তি। অতবড় পার্টনারশিপ এ কারণেই এসেছে। সৌম্য ৬৮ বলে আউট হয়েছেন ৭৩ করে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে। এরপরই নামেন সাকিব। তামিমকে নিয়ে খেলেন। ১৯৬ এ গিয়ে এরা বিচ্ছিন্ন। তামিম গ্যাব্রিয়েলের বলে হোল্ডারের কাছে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৮০ করে, যা করেছিলেন তিনি ১১৬ বলে সাত চারের সাহায্যে। পরে সাকিব ও মুশফিক আর কোনো ঝামেলা পাকাতে দেয়নি ক্যারিবীয়দের। দুই অভিজ্ঞ মিলে দেন ইনিংস শেষ করে। সাকিব ৬১ বলে ৬১ করে থাকেন অপরাজিত। আর মুশফিক অপরাজিত থাকেন ২৫ বলে ৩২ করে। দু’জনই হাঁকান দু’টি করে ছক্কা। তবে চার মেরেছেন সাকিব তিন, মুশফিক ২টি। ৪৫ ওভারেই পৌঁছে যায় তারা জয়ের লক্ষ্যে (২৬৪/২)। ম্যাচে হারলেও শাই হোপ ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।