মালয়েশিয়ার ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী দুই হাজার বাংলাদেশী

‘মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরতদের মধ্যে নানা অভিযোগে বর্তমানে সব ডিটেনশন ক্যাম্পে ২ হাজারের মতো বাংলাদেশী বন্দী রয়েছেন। এটিই হচ্ছে দেশটির দেয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য। কিন্তু বিষয়টি না জেনে আমাদের কিছু মিডিয়ায় বলা হচ্ছে, ডিটেনশন ক্যাম্পে হাজার হাজার বাংলাদেশী বন্দী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। যা মোটেও সত্য নয়’।

গতকাল মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমদ মুনিরুছ সালেহিন এ প্রতিবেদককে এ কথা জানান।

মালয়েশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল ৬ দিনের সফরে বর্তমানে কুয়ালালামপুরে রয়েছেন। আজ বুধবার প্রতিনিধি দলটি সাবাহ সারাওয়াকের উদ্দেশে কুয়ালালমপুর ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সাবাহ সারাওয়াকের গভর্নরসহ পৃথক দুটি বৈঠক শেষে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মানবসম্পদমন্ত্রীর সাথে পৃথক বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত সচিব মনিরুছ সালেহিন বলেন, আলোচনায় তারা একাধিকবার বলেছেন, বাংলাদেশী কর্মীই তাদের পছন্দের প্রথম তালিকায় রয়েছে। কারণ তারা কর্মঠ। এর জন্যই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ওয়ার্ক প্লান তৈরি করবেন। আর ওয়ার্ক প্লান তৈরির জন্য চলতি মাসের শেষের দিকে আরো একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আশা করছি ওই মিটিংয়ের পরই দ্রুত স্থগিত শ্রমবাজার খোলার একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করে কেবিনেটে পাঠাবেন।

মালয়েশিয়া সরকার খুবই পজিটিভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপরও শ্রমবাজারে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সেগুলো পরবর্তী বৈঠকে দুই দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে উত্থাপন করে সমাধানের পথ বের করবেন। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় থাকা আনডকুমেন্টেড শ্রমিকদের বিষয়টি উঠেছে। এটার সহজ সমাধান উভয়পক্ষ মিলে বের করা হবে।

বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি এ প্রতিবেদককে আরো বলেন, শ্রমবাজারে এবার যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেশন না থাকে সে ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্য স্পষ্ট করেই দুই মন্ত্রীকে বলেছেন, এবার কোনো সিন্ডিকেশন হবে না। অবশ্যই কম খরচে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো হবে।

মালয়েশিয়ার পুলিশ ও ইমিগ্রেশনের সাঁড়াশি অভিযানে ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে আনডকুমেন্টে বাংলাদেশী বন্দী হয়ে আছে- এ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ড. আহমদ মনিরুছ সালেহিন এ প্রতিবেদককে বলেন, আনডকুমেন্টে শ্রমিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা উঠেছে। তবে ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া হিসাব অনুযায়ী এই মুহূর্তে দুই হাজারেরও কম লোক আটক আছে। কিন্তু মিডিয়াতে লেখা হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক বন্দী থেকে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এটা মোটেও ঠিক না। এই কথাগুলোই মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তোমাদের দেশের মিডিয়াতে মালয়েশিয়া নিয়ে একটু বেশি বেশি লেখা হয়, যা অনেক সময় আমাদেরও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। সূত্র: নয়া দিগন্ত

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*