আজ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে মাশরাফি বাহিনী

স্পোর্টস ডেস্ক, ১৭ মে : ক্রমেই সত্যিকারের জায়ান্ট দলে পরিণত হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। টাইগাররা ইতোপূর্বে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। এ সময় তারা হোম ও এ্যাওয়ে সিরিজে বিশ্ব সেরা দলকে পরাজিতও করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত জয় করতে পারেনি তিন বা চার দলের অংশগ্রহনে কোনো সিরিজের শিরোপা। এ পর্যন্ত তারা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও টি ২০ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলেছে ছয়বার। কিন্তু ফাইনাল খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। জয় করতে পারেনি ত্রিদেশীয় বা এর বেশি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের শিরোপা।

তবে এবার আয়ারল্যান্ড সফরে ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বে বেশ শক্তিশালী পারফর্মেন্স দেখাচ্ছে টাইগাররা। সপ্তমবারের মতো এমন টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। আজ ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোকাবেলা করবে মাশরাফি বাহিনী।

এর আগে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার বিপক্ষে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। এই প্রথম ত্রিদেশীয় ইভেন্টের ফাইনালে ক্যারিবীয়দের মোকাবেলা করতে যাচ্ছে টাইগাররা। এই ম্যাচে কি বাংলাদেশ জয়লাভের মাধ্যমে দুর্ভ্যাগ্য দূর করতে পারবে?

সপ্তম টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার আগে বাংলাদেশ দলের ছয়টি ফাইনালের পরিসংখ্যান নিচে দেয়া হলো:

ত্রিদেশীয় ওডিআই টুর্নামেন্ট, ১৬ জানুয়ারি ২০০৯ ঢাকা (শ্রীলংকার কাছে ২ উইকেটে হার) : ২০০৯ সালে শ্রীলংকার কাছে ২ উইকেটের হৃদয় বিদারক ওই হারটি দিয়েই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পরাজয়ের ধারা। এরপর থেকে ওই হারের গন্ডিতেই ঘুরপাক খেতে হয়েছে টাইগার দলকে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওই সিরিজে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা ছাড়া বাকী দল হিসেবে অংশ নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে।

লো স্কোরিং ম্যাচে টাইগার দলের ১৫২ রান সংগ্রহ করা স্বাগতিক দলের হয়ে সর্বাধিক ৪৩ রান করেছিলেন রকিবুল হাসান। ম্যাচে বাংলাদেশ যে হারবে সেটি প্রত্যাশিতই ছিল। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কানায় কানায় পুর্ন দর্শকদের উপস্থিতিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ যখন ৫ রানের বিপরীতে ৬ উইকেট সংগ্রহ করেছিল তখন সবাই আশা করছিল প্রথমবারের মত সিরিজ জিততে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কুমার সাঙ্গাকারা এরপর ৫৯ রান সংগ্রহ করে লংকান ইনিংসটি মেরামত করেন। এরপর পারভিজ মাহরুফের অপরাজিত ৩৮ রান এবং মুত্তিয়া মুরালিধারনের ১৬ বলে হার না মানা ৩৩ রানে ভর করে টাইগারদের জয় ছিনিয়ে নেয় সফরকারী শ্রীলংকা।

এশিয়া কাপ, ২২ মার্চ ২০১২ ঢাকা (পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হার) : শ্রীলংকার কাছে হৃদয় বিদারক ২ উইকেটে পরাজয়ের তিন বছর পর বাংলাদেশ ২য় ফাইনালে উঠে জয়ের আভাস দিচ্ছিল। কিন্তু এই দফায় পাকিস্তানের কাছে তারা হার মানতে বাধ্য হয় দুই রানে। এই হার ছিল আরো বেশী হৃদয় বিদারক। এই হার বাংলাদেশ শিবিরকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে টাইগার দলের সবচেয়ে শক্তিশালী মনোবলের অধিকারী সাকিব আল হাসানকের দেখা গেছে শিশুদের মত কাঁদতে।

ওই আসরে গ্রুপ পর্বে ভারত ও শ্রীলংকার মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য গ্রুপ পর্বেও পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল টাইগাররা। ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ২৩৫ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় পাকিস্তান। তামিম ইকবালের ৬০ ও সাকিব আল হাসানের ৬৮ রানের সংগ্রহে ওই লক্ষ্যকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে বাংলাদেশ। এরপর নিয়মিত উইকেট পতনের পরও জয়ের পথেই ছিল স্বাগতিকরা। শেষ ওভারে এসে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান। ১৭ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন নির্ভরযোগ্য ব্যাাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন তিনি। মাত্র দুই রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

Be the first to comment

Leave a comment

Your email address will not be published.


*