আজ বাংলাদেশের মুখোমুখি ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে শোচনীয় হার যতটা না চিন্তায় ফেলেছে ভারতীয় দলকে, তার চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে দলের দুই ক্রিকেটারের চোট নিয়ে। কেদার যাদব ও বিজয় শঙ্কর এখনো ফিট নন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবারের প্রস্তুতি ম্যাচেও মাঠে নামতে পারবেন না তারা। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগে চার নম্বর পজিশনে তাদের দেখে নেয়ার পরিকল্পনা বড়সড় ধাক্কা খেতে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে চার নম্বর পজিশন পাকা করার আরো একটা সুযোগ পাচ্ছেন লোকেশ রাহুল। কিউয়িদের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে সফল হননি তিনি। এই ম্যাচেও রাহুল ব্যর্থ হলে চিন্তার মেঘ মাথায় নিয়েই বিশ্বকাপে নামতে হবে ভারতীয় দলকে। এমন মন্তব্য করা হয়েছে ভারতের একটি পত্রিকায়।

এতে বলা হয়, তবে শুধু চার নম্বর পজিশন নয়, ভারতের কাছে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে প্রথম সারির সব ব্যাটসম্যানের ‘আয়ারাম গয়ারাম’ দৃশ্য। কোহলি, রহিত, ধাওয়ান, ধোনি, কেউই ট্রেন্ট বোল্টদের পেসের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ফলস্বরূপ ৬ উইকেটে হারতে হয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে ইংল্যান্ডে পা রাখা কোহলি ব্রিগেডকে। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৭৯ রানে গুটিয়ে গেছে ভারতের ইনিংস। রবীন্দ্র জাদেজা হাফ-সেঞ্চুরি না করলে সওয়া এক শ’ রানের গণ্ডি অতিক্রম করাও অসম্ভব হতো। এই অবস্থায় বাংলাদেশের ভালো পেস বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদের মনোবল উদ্ধারই হবে ভারতের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের মূল লক্ষ্য।

শনিবার ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ট্রেন্ট বোল্টের সুইংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের টপ অর্ডার। যা নিয়ে ম্যাচের পর অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেছিলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা মতো ব্যাপারটা হয়নি। ইংল্যান্ডে আবহাওয়া মেঘলা থাকলে এরকম হতেই পারে। প্রথম সারির ব্যাটসম্যানরা কখনো ব্যর্থ হলে, তখন পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের তৈরি থাকতে হবে দায়িত্ব নেয়ার জন্য। এই ম্যাচে তার প্রমাণ মিলেছে। তবে এই ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা বিশ্বকাপের আগে আমাদের আরো সতর্ক করে দেবে।’

মঙ্গলবার বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়ার্ম আপ ম্যাচটি হবে কার্ডিফে। রোববার এখানে প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছে। তাই আবারও সেই একই কন্ডিশন অপেক্ষা করছে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য। রহিত-ধাওয়ানদের ঝামেলায় ফেলতে পারে মোস্তাফিজুর রহমানের পেস। এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্র জাদেজা বলেন, ‘এটা প্রস্তুতি ম্যাচ। একজন ব্যাটসম্যানকে কখনও একটা ইনিংস দিয়ে বিচার করা যায় না। তাই একটা ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ইংল্যান্ডে প্রথম দিকে মানিয়ে নেয়াটা বেশ কঠিন কাজ। ভারতে নিষ্প্রাণ উইকেটে খেলতে হয়। তবে এখনো আমাদের কাছে মানিয়ে নেয়ার জন্য আরো সময় আছে।’ সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘ইংল্যান্ডের পরিবেশ ঠিক যে রকম হয়, সে রকম ছিল। পিচ প্রথম দিকে একটু গতিশীল ছিল। কিন্তু যত ম্যাচ গড়িয়েছে, ব্যাটিংয়ের পক্ষে সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। আশা করব, বিশ্বকাপ শুরু হলে পিচে এত ঘাস থাকবে না। ফলে ব্যাটসম্যানরাও সুবিধা পাবে। তবে সবার আগে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। দলে অভিজ্ঞতার অভাব নেই। তাই চিন্তারও কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচেই ব্যাটসম্যানরা ছন্দে ফিরে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।’

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হওয়া মানেই নাটকীয়তার ঘনঘটা। এশিয়া কাপ ও নিধাহাস ট্রফির ফাইনালে অন্তত সেটাই হয়েছে। টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ে স্নায়ুর কঠিন পরীক্ষা। তাতে দু’বারই শেষ হাসি হেসেছে ভারত। মঙ্গলবার আরো একবার মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার দুই প্রতিবেশি দেশ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হলেও ইতিহাস বলছে মঙ্গলবার কার্ডিফে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেয়ার চেষ্টায় খামতি রাখবে না টাইগার বাহিনী। সার্বিক শক্তির বিচারে দুই দলের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে কোহলিদের একাধিকবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন মাশরাফি মর্তুজারা। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ আরও উদ্যমী হয়ে ওঠার রসদ পেতে পারে ভারতকে হারাতে পারলে। আসল লড়াইয়ে লন্ডন যাওয়ার আগে সবচেয়ে বড় টনিকটা বাংলাদেশ তাই নিয়ে যেতে পারে কার্ডিফ থেকেই। রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভণ্ডুল হয়ে গেছে। তাই বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিই তামিম-সাকিবদের কাছে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার একমাত্র সুযোগ।