বিশ্বকাপে চোখ থাকছে যাদের ওপর

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ মানেই তারার উত্থান। সেরা হওয়ার এ মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ থাকে খেলোয়াড়দের। আবার এ মঞ্চে ব্যর্থ হয়ে অনেক তারকা হারিয়ে যান অন্ধকারে। তবে যারা নিজেদের প্রতিভার স্ফুরণ ঘটিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন, তাদেরই কেবল মনে রাখে বিশ্বকাপ। এছাড়া অনেকেই আছেন যারা তারকা খ্যাতি নিয়েই নামেন মাঠের লড়াইয়ে। কেউ কেউ নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করে জ্বলে উঠতে পারলেও কেউ মিশন শেষ করেন হতাশা নিয়ে। বিশ্বকাপে জ্বলে ওঠার সম্ভাবনা আছে তেমন কয়েকজন নিয়ে আজকের এ আয়োজন।

জোফ্রা আর্চার, ইংল্যান্ড

এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট দল ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড দলে তারকারও অভাব নেই। ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে অসাধারণ সব তারকায় ভরা দলটি। যেখানে ওপেন করবেন জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর মতো দুই মারকুটে ওপেনার। জো রুট, ইয়োন মরগান কিংবা জস বাটলাররা বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান। অলরাউন্ডার হিসেবে বেন স্টোকসও কম যান না। তবে এসব ছাপিয়ে এবার বিশ্বকাপে ইংলিশদের নায়ক হয়ে উঠতে পারেন জোফ্রা আর্চার। তাকে দলে নেয়া নিয়ে কম নাটকীয়তা হয়নি। মাত্র কিছু দিন আগে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন আর্চার। এরপর তাকে বিশ্বকাপ দলে নেয়ার জন্য সাবেকদের পক্ষ থেকেও জোর দাবি জানানো হয়। সেই দাবির মুখে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তার গতিময় বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়ে নির্বাচকরা পুনরায় দলে নিয়ে আসে। এখন ইংলিশ বোলিং লাইনে বাড়তি এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে ভাবা হচ্ছে তাকে।

স্টিভ স্মিথ, অস্ট্রেলিয়া

স্টিভ স্মিথকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। অস্ট্রেলিয়ার দলের ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক স্মিথ। তবে অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন স্মিথ। ‘স্যান্ডপেপারগেট’ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে এক বছর নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন তিনি। কিন্তু ফিরেই পুরনো ফর্মে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে জ্বলে উঠে জবাব দেয়ার অপেক্ষা স্মিথের। যেখানে ইংলিশ দর্শকদের তোপের মুখেও পড়তে হবে তাকে। তবে সব চাপ পেরিয়ে স্মিথ জ্বলে উঠতে পারলে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার দিকে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যাবে অনেকদূর।

কাগিসো রাবাদা, দক্ষিণ আফ্রিকা

ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের পাঁচ নম্বর বোলার কাগিসো রাবাদা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং লাইনের মূল কাণ্ডারি। বিশ্বকাপে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছে প্রোটিয়ারা। দলে তারকা ব্যাটসম্যানের অভাবও নেই। কিন্তু ব্যাটিংলাইনকে ঠিকঠাক সমর্থন দিতে বিশ্বকাপে প্রয়োজন কার্যকর বোলিংয়েরও। ইংলিশ কন্ডিশনে এবার রান বন্যার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে বোলাররা যত বেশি ভালো করতে পারবে, যেকোনো দলের ভালো করার সম্ভাবনা বেড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং লাইনের অনেকটাই নির্ভর করছে রাবাদার পারফরম্যান্সের ওপর। সদ্যসমাপ্ত আইপিএলে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি বোলার ছিলেন রাবাদা। ১২ ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ২৫টি। বিশ্বকাপেও তার পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকবে প্রোটিয়া সমর্থকরা।

রস টেলর, নিউজিল্যান্ড

কেন উইলিয়ামসন, মার্টিন গাপটিল কিংবা ট্রেন্ট বোল্টের মতো একাধিক ম্যাচ উইনার নিয়ে গড়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ দল। তবে এসব তারকার ভিড়েও আলাদাভাবে চোখ থাকবে কিউইদের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেলরের ওপর। নিউজিল্যান্ডের তো বটেই, এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান টেলর। আছেন দুর্দান্ত ফর্মেও। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস। এছাড়া সাম্প্রতিক অতীতেও কথা বলেছে তার ব্যাট। ইংলিশ কন্ডিশনে মিডল অর্ডারে তার ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে কিউইদের ভালো কিংবা খারাপ পারফরম্যান্সের অনেকটাই। আর নিজের শেষ বিশ্বকাপটাকে রাঙাতে চাইবেন টেলর নিজেও। দূর করতে চাইবেন ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে শিরোপা ছুঁতে পারার যন্ত্রণাও।

আন্দ্রে রাসেল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ

দীর্ঘ সময় পর ক্যারিবীয় দলে ডাক পেয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। এবারের আইপিএলে রাসেলের ব্যাট চলেছে তলোয়ারের মতো। লোয়ার অর্ডারে নেমে বোলারদের আধিপত্য দেখিয়েছেন একের পর এক ম্যাচে। ১৪ ম্যাচে ৫৬.৬৬ গড়ে তার রান ৫১০। এ পারফরম্যান্স দেখেই তাকে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ইংল্যান্ডেও তার পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকবে ক্যারিবীয় সমর্থকরা। ব্যাট হাতে নিচের দিকে ঝড় তুলতে পারদর্শী রাসেলও অবদান রাখতে পারবেন বল হাতেও। আর ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠে রাসেলও চাইবেন বিশ্বকাপটাকে নিজের করে নিতে।

রশিদ খান, আফগানিস্তান

কাগজে-কলমে বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্বল দল আফগানিস্তান। কিন্তু তাদের দলেই খেলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার রশিদ খান। বিশ্বকাপে আফগানদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার অনেকটাই ভর করে আছে রশিদের কাঁধে। বল হাতে বরাবরই দুর্দান্ত পারফরমার তিনি। প্রতি মুহূর্তে যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন রশিদ। এবারের আইপিএলে ১৫ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১৭টি। কেবল রশিদের লেগ স্পিনই নয়, বিশ্বকাপে কার্যকর হয়ে উঠতে পারে রশীদের ব্যাটিংও। নিচের দিকে নেমে ক্যামিও খেলতে বরাবরই অভ্যস্ত তিনি। তাই আফগানিস্তানও চাইবে তাদের জন্য ব্যাটে-বলে আরেকবার জ্বলে উঠুক রশিদ।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, শ্রীলংকা

বিশ্বকাপে শ্রীলংকা দল নিয়ে আশাবাদী নয় খুব বেশি লোক। সাম্প্রতিক সময়ে টালমাটাল অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে লংকান ক্রিকেট। এ অবস্থায় দলের অধিনায়ক বদলে বিশ্বকাপ মিশনে যাচ্ছে তারা। তবে এর মাঝেও যে তারকারা শ্রীলংকাকে আশা দেখাচ্ছেন তাদের অন্যতম অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ সদস্যও তিনি। সাবেক এ অধিনায়ক ব্যাট ও বল হাতে দুটিতেই সিদ্ধহস্ত। সঙ্গে তার অভিজ্ঞতাও সাহস জোগাবে লংকান দলকে।

বাবর আজম, পাকিস্তান

পাকিস্তান বরাবরই আনপ্রেডিক্টেবল দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অনিশ্চয়তায় ভরপুর সেই পাকিস্তান দলেও আছে নিয়মিত পারফরমার। তিনি হলেন বাবর আজম। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বাবর। র্যাংকিংয়ে সাত নম্বরে থাকা এ পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের ওডিআই গড় ৫১.৬৭। ৬৪ ওয়ানডেতে তার রান ২ হাজার ৭৩৯। বিশ্বকাপেও মিডল অর্ডারে পাকিস্তানের মূল ভরসা তিনি। দলের বড় স্কোর গড়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে তাকেই।

বিরাট কোহলি, ভারত

বর্তমান সময়ের তো বটেই, সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের নাম বললেও সেখানে চলে আসেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় দলের আশা-ভরসার মূল প্রতীক কোহলি। আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ব্যাট হাতে একাই যেকোনো প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিতে পারেন কোহলি। টেস্ট ও ওয়ানডে দুটিতেই র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানটি তার দখলে। বিশ্বকাপেও ভারতীয় দলকে নিয়ে সবার উপরে থাকতে চাইবেন কোহলি। তার ব্যাটেই এখন চোখ শতকোটি ভারতীয় জনতার। তৃতীয় বিশ্বকাপ হাতে ভারতের উদযাপন করতে হলে কোহলির জ্বলে ওঠার বিকল্প নেই।

তামিম ইকবাল, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনের মূল ভরসা তামিম ইকবাল। আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ২০১৫ সালের পর থেকে ব্যাট হাতে তামিম ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। এ সময়ের মধ্যে ওয়ানডেতে তামিমের গড় ৫০ এর উপরে। যেকোনো পরিস্থিতিতে জ্বলে উঠতে পারে তামিমের ব্যাট। বরাবরের মতো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ইনিংস ওপেন করবেন তামিম। শুরুতে তামিম যদি দলকে ভালো শুরু এনে দিতে পারেন, তবে সেখান থেকে ইনিংস বড় করতে পারবে বাকিরা। এছাড়া সিনিয়র হিসেবে ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নিয়ে তামিম যদি ভালো খেলতে পারেন, তবে বাকিদের জন্য কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মূল ভরসার নামও তামিম।