বড় হারে প্রস্তুতি শেষ করলো টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক : বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে নামতে পারেনি মাশরাফি মর্তুজারা। বিশ্বকাপ মিশনের আগে বড় হারেই প্রস্তুতি শেষ করল বাংলাদেশ। গতকাল কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে বিরাট কোহলির দলের কাছে মাশরাফিরা হেরেছে ৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে। জয়ের জন্য ৩৬০ রানের বড় টার্গেটের সামনে মাত্র ২৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। লিটন দাস (৭৩) ও মুশফিকুর রহিম (৯০) দৃঢ়তা দেখালেও হার এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। বাংলাদেশ ইনিংসে ছয়জন ব্যাটসম্যান পাননি দুই অংকের ঘরের নাগাল।

ম্যাচে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পার্থক্য মূলত শেষ ১৫ ওভার। ৩৫ ওভার শেষে কোহলিদের স্কোরবোর্ডে ছিল ১৯৯/৪। ওই সময় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ছিল ১৮৫/৪। অথচ নির্ধারিত ৫০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটই করতে পারেনি মাশরাফির দল। ৩ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।

বোধকরি প্রভাত সবসময় দিবসের পূর্বাভাস দেয় না। অন্তত গতকাল ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্সের নিরিখে এ কথা বলাই যায়। গতকাল কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে শুরুর দিকের সঙ্গে শেষের দিকের কোনো মিল নেই টাইগারদের বোলিংয়ে। ২২ ওভার শেষে ভারতের স্কোরবোর্ডে ছিল ১০২/৪। সাজঘরে শিখর ধাওয়ান (১), রোহিত শর্মা (১৯), অধিনায়ক বিরাট কোহলি (৪৭) ও বিজয় শঙ্কর (২)। এখান থেকে লোকেশ রাহুল (১০৮) ও ক্রাইসিসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনির (১১৩) জোড়া সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড়ে চড়েছে ভারত।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন মানেই বাংলাদেশের জন্য অন্য রকম এক শিহরণ। এ মাঠে ২০০৫ সালে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল বিবেচিত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল টাইগাররা। গতকাল টস জিতে বোলিংয়ে নেমে সেই গৌরবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও জাগায় টাইগাররা। শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে রাখেন দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফি। ধাওয়ানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে প্রথম আঘাত হানেন মুস্তাফিজ। ৯ বলে ১ রান করেন এ ওপেনার। উইকেট হারানোর পর স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাটিং করেন দুই মারমুখী ব্যাটসম্যান রোহিত ও কোহলি। প্রথম ১০ ওভার শেষে ভারতের স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৪ রান। প্রথম স্পেলের ৫ ওভারে মাত্র ১৩ রান দেন মাশরাফি। আর প্রথম ৫ ওভারে মুস্তাফিজের খরচ মোটে ১৯ রান। অবশ্য সাবধানী ব্যাটিং করেও নিজের উইকেট বাঁচাতে পারেননি রোহিত। রুবেল হোসেন তার প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই বিদায়ঘণ্টা বাজান এ ওপেনারের। ৪২ বলের ইনিংসে মাত্র ১৯ রান করেন রোহিত।

তৃতীয় উইকেটে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন কোহলি ও রাহুল। কিন্তু জুটি বেশিদূর টেনে নিতে পারেননি এ দুজন। কোহলিকে আউট করার মধ্য দিয়ে ৩৩ রানের এ জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার ইয়র্কার লেংথের বল ফ্লিক করতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান ভারত কাণ্ডারি। ৪৬ বলে ৪৭ রান করেন কোহলি। পরপরই বিদায় নেন বিজয় শঙ্কর। তাকে কট বিহাইন্ড আউট করেন রুবেল। ৭ বল খেলে মাত্র ২ রান করেন বিজয়।

বাংলাদেশ বোলারদের এ সুসময় রাহুল-ধোনি জুটি পরিণত করেন দুঃস্বপ্নে। উইকেট হারালেও রান উৎসব থামাননি দুজন। এ সময় উইকেটে সেট রাহুলকে যত বেশি সম্ভব স্ট্রাইক দিয়ে গেছেন বহুযুদ্ধের মহানায়ক ধোনি। মাত্র ৪৫ বল খেলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রাহুল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন ধোনি। পঞ্চম উইকেটে ১২৮ বলের জুটিতে ১৬৪ রান যোগ করেন দুজন। যতক্ষণে জুটি ভাঙল, ততক্ষণে বিশাল সংগ্রহের আয়োজন করে ফেলেছে ভারত। রাহুলের ৯৯ বলে গড়া ১০৮ রানের ইনিংসে ১২ বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল চারটি ছক্কার মার। সঙ্গী হারানোর পর আরো চওড়া হয় ধোনির ব্যাট। ইনিংস শেষ হওয়ার ৪ বল বাকি থাকতে সাকিব আল হাসানের বলে বোল্ড হন ধোনি। মাত্র ৭৮ বলে গড়া তার ১১৩ রানের ইনিংসটিতে সাত ছক্কার সঙ্গে ছিল আটটি বাউন্ডারির মার।